প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বর্তমান বিধি সংশোধন হওয়া আবশ্যক

মাদকদ্রব্য বেচাকেনা রোধকল্পে প্রশাসনসহ কোনো মহলেরই প্রতিকারের উদ্যোগ নেই। মাদক বিক্রেতাদের অধিকাংশই জেল থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও নতুন লোক নিয়োগ করে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। মাদকাসক্ত কোন ব্যক্তিকে শুধু শারীরিক বা মানসিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, এর ক্ষতিকর প্রভাব সমাজেও ছড়িয়ে পড়ে। বেকারত্বের অভিশাপের পাশাপাশি বিভিন্ন কারণে তরুণরা মাদকাসক্ত হচ্ছে। কেউ কেউ অন্যের সংস্পর্শে গিয়ে এই নেশা দ্রব্যকে গ্রহণ করছে। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অভিভাবকমহল সন্তানকে শাসনে না রাখতে পেরে বরং দ্বারস্থ হচ্ছে আইনের। এ সামাজিক ব্যাধি থেকে তরুণ সমাজকে যে কোনো মূল্যেই রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

মাদকদ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারিভাবে কঠোর আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে জোর প্রচারণা চালাতে হবে। যাতে মাদকের কুফল সম্পর্কে জনগণ সচেতন হতে পারে। পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এবং সংগঠনকেও এগিয়ে আসতে হবে এ ব্যাপারে সক্রিয় ভূমিকা রাখার জন্য। সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তিকে মাদকের কুফল সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। একটি সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ার লক্ষ্যে মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে সমন্বিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে আসতে হবে। এ অপরাধ আমাদের সমাজ তথা বিবেককে প্রতিনিয়ত কুড়ে কুড়ে খেয়ে ধ্বংসের অতলগহ্বরে নিয়ে যাচ্ছে। এসব অপরাধ প্রবণতার পেছনে নানাবিধ কারণ বিরাজ করছে।

তবে সব ধরনের অপরাধ সংক্রান্ত কারণের মধ্যে মূল্যবোধের অবক্ষয়, ধর্মীয় অনুশাসনের অনুপস্থিতি, প্রচলিত আইনের যথাযথ প্রয়োগ না করা এবং প্রয়োগহীনতা অন্যতম। বিদ্যমান আইনের সঠিক ও কঠোর প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীকে মানসিক দিক থেকে সংশোধনের প্রচেষ্টা চালানো উচিত। যাতে এ অপরাধ থেকে মুক্ত হয়ে সে বুঝতে পারে যে ইতোপূর্বে সে যা করেছে তা ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের জন্য ক্ষতিকর ছিলো। তাহলেই অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে। দেশের বিধিতে অপরাধীর শাস্তির বিধান থাকলেও অপরাধীকে মানবিক দিক থেকে সংশোধনের কোনো বিধান নেই। তাই বর্তমান বিধি সংশোধন হওয়া আবশ্যক।

পরিচিতি : শিক্ষার্থী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়/ মতামত গ্রহণ : নৌশিন আহম্মেদ মনিরা/ সম্পাদনা : জাফরুল আলম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত