প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ট্রাম্প পৃথিবীতে ভিনগ্রহীদের আক্রমণের নাটক সাজাচ্ছেন

ডেস্ক রিপোর্ট : নির্বাচনে জয় লাভের পর খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই অভিবাসন আইন, বর্ণ বিদ্বেষমূলক বক্তব্য আর নারী কেলেঙ্কারি ফাঁসের মতো নানা ঘটনা ঘটিয়ে বিরূপ ইমেজ তৈরি করে ফেলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জরিপে এমন তথ্যও বেড়িয়েছে যে, তিনিই বিশ্বের একমাত্র প্রেসিডেন্ট যিনি অধিকাংশ সময়েই প্রকাশ্যে নির্জলা মিথ্যে কথা বলে থাকেন। শক্তিধর রাষ্ট্রের প্রধানের যদি এই চরিত্র হয়, তবে তা স্বাভাবিকভাবেই পুরো দেশের জনগণের উপরই বিরূপ প্রভাব ফেলে বলে বিশেষজ্ঞেরা মনে করেন।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময়ে ট্রাম্পের প্রতি সাধারণ মানুষের যে মনোভাব ছিল, ক্ষমতা গ্রহণের পর তা আরও নিম্নগামী হয়েছে বলেই মার্কিন গণমাধ্যম প্রচার করছে। সম্প্রতি তা ঠেকাতে এরই মাঝে নতুন কৌশল হাতে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন!

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ইউকে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজের তলানিতে যাওয়া জনপ্রিয়তাকে আড়াল করতে এলিয়েন নাটক সাজাতে চলেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ববাসীর মধ্যে এলিয়েন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে এরই মধ্যে গোপন প্রকল্প কাজও শুরু করে দিয়েছে।

এই নাটকের পেছনে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘নাসা’ এবং বেশ কয়েকটি বিখ্যাত মিডিয়া হাউজ জড়িত বলে একটি মহল দাবি করেছে। তাদের মতে, এলিয়েনের ধারণা যাতে আগেই মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সেজন্যেই মিডিয়া হাউজ গুলোকে নিয়ে মাঠে নেমেছে নাসা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ক’বছর ধরেই মার্কিন চলচ্চিত্র জগতে সায়েন্স ফিকশন নির্ভর ছবির আধিক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে চলতি বছর শুধু চলচ্চিত্রই নয়, এই সম্পর্কিত নানা ইভেন্ট ও অনুষ্ঠানের মাত্রাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

এলিয়েন বিশ্বাসীরা বলছেন, গত বছরই নিউ ইয়র্ক টাইমস এই সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন সম্পর্কে বিশ্বের মানুষকে বিশেষ করে মার্কিনীদের ধারণা বিশ্বাসে পরিণত করতে ২২ মিলিয়ন ডলারের গোপন প্রকল্প হাতে নিয়েছে পেন্টাগন।

প্রতিবেদনটি যখন নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশ পায়, ঠিক সেই সময়েই নাসা পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসা সিগার আকৃতির একটি রহস্যময় বস্তুর সন্ধান পাওয়ার দাবি করে। এমনকি এমন ইঙ্গিতও দেয়া হয় যে, সেটির আকৃতি সাধারণ উল্কাপিণ্ডের সঙ্গে মেলে না। ফলে সেটি যে সাধারণ উল্কাপিণ্ড নয়, তা নানা প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশ্বের গণমাধ্যমে প্রকাশ পেতেও থাকে।

এই বিষয়ে এলিয়েন বিশ্বাসী অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসক স্টিভেন গেরার সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘বিভিন্ন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা চলছে যে ভিনগ্রহের প্রাণীরা প্রচণ্ড বুদ্ধিমান। কিন্তু আমাদের সেনাবাহিনী ও অস্ত্র তাদের সহজেই কাবু করতে সক্ষম। যেমনটা দেখা গেছে ‘ইনডিপেনডেন্টস ডে’ চলচ্চিত্রে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর মাধ্যমে তাদের অস্তিত্বের বিষয়টি যেমন প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়েছে তেমনই এদের ঠেকাতে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হবে, সেই বার্তাও দেয়া হয়ে গেছে।’

একই দাবি করে ‘রিটার্ন অফ কিংস কন্সপাইরেসি’ নামের একটি ওয়েবসাইট জানিয়েছে, সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে মার্কিন সরকার ব্যর্থতা ঢাকতে খুব শিঘ্রই একটি এলিয়েন আগ্রাসনের নাটক সাজাতে চলেছে। যেমনটা ৯/১১ তে টুইন টাওয়ার হামলার ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা গেছে।

ওয়েবসাইটটির দাবি, বিশ্বের উপর ক্রমেই প্রভাব খর্ব হতে থাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট এলিয়েন নাটকের মাধ্যমে তা পুনরায় ফিরিয়ে আনতে চাইছেন। সেখানে ট্রাম্প বোঝাতে চাইবেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ও উন্নত সভ্যতা মনে করে বলেই ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীরা প্রথম তাদের সঙ্গেই যোগাযোগ করছে।

তবে এলিয়েন বিশ্বাসীরা বলছেন, মহাকাশে বুদ্ধিমান প্রাণীর অস্তিত্ব থাকলেও মার্কিন প্রশাসন বিষয়টিকে নিয়ে যে নাটক সাজাতে চলেছে তা ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনবে। এলিয়েনের ছদ্মবেশে কিংবা সহযোগিতায় মার্কিন সামরিক শক্তি যদি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আগ্রাসন চালাতে যায় তবে তা বুমেরাং হয়েই দেখা দেবে।

তাদের দাবি, সেক্ষেত্রে এলিয়েনদের বিশ্ববাসী হুমকি বলেই মনে করবে। ফলে সবাই একজোট হয়ে যদি এলিয়েন দমনে নামে, বিপদটা তবে ট্রাম্পকেই ভালোভাবে টের পেতে হবে। সূত্র : পরির্বনত

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত