প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নেভার আগে জ্বলে উঠবেন তাঁরা!

স্পোর্টস ডেস্ক : নতুন তারকার জ্বলে ওঠার মঞ্চ বিশ্বকাপ। আবার পুরনো তারকার নিভে যাবার মঞ্চও তো সেটি। যাঁদের আর কখনো দেখা যাবে না বিশ্বসেরা আসরে। রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরুর আগে রোমাঞ্চের সমান্তরালে ওই আক্ষেপের আবহ সুরও তো রয়েছে।
যেমন রাফায়েল মার্কেস। বয়স ৩৯ বছর হয়ে গেছে। গেল এপ্রিলে বিদায় বলে দিয়েছেন ক্লাব ফুটবলকে। নিজ দেশের ক্লাব আতলাসের হয়ে খেলেছেন শেষবারের মতো। আর আন্তর্জাতিক ফুটবলের সঙ্গে বুটজোড়াও চিরতরে তুলে রাখবেন এই বিশ্বকাপে। থেমে যাবে ২২ বছরের পথচলা।

মেক্সিকোর হয়ে যদি মাঠে নামেন, তাহলে সর্বোচ্চ বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ডে স্বদেশি ইন্তনিও কারবায়াল ও জার্মানির লোথার ম্যাথাউসের সঙ্গী হবেন মার্কেস। এটি তাঁর পাঁচ নম্বর বিশ্বকাপ। ১৯৯৭ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর ১৯৯৮ আসরটি মিস করেছেন কেবল। জাপান-কোরিয়ায় ২০০২ বিশ্বকাপ থেকেই এই ডিফেন্ডারের নিয়মিত উপস্থিতি। আর টানা চার আসরেই তিনি মেক্সিকোর অধিনায়ক। মেক্সিকানরা তাঁকে ভালোবেসে ডাকেন ‘এল কাইসার’ অর্থাৎ ‘সম্রাট’। আর সতীর্থদের কাছে যে কতটা, তা বোঝা যায় কার্লোস ভেলার কথায়, ‘আমাদের সব মেক্সিকান ফুটবলারের কাছে উনি যে কতটা, তা বলে বোঝানোর মতো যথেষ্ট শব্দ নেই। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তাঁর থাকার জন্য যদি আমার নিজের জায়গা ছেড়ে দিতে হয়, তাও আমি রাজি।’

স্প্যানিয়ার্ডদের কাছে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাও তেমন। ভালোবাসার, শ্রদ্ধার, সম্মানের। মাঝমাঠের এই জাদুকরের বয়স হয়ে গেছে ৩৪ বছর। বার্সেলোনায় নিজের শেষ মৌসুম খেলেছেন। ক্লাব ক্যারিয়ার চালিয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি যে বিশ্বকাপ দিয়েই টানবেন, তা বলে রেখেছেন আগেই। শেষটা নিশ্চয়ই রাঙিয়ে দিতে চাইবেন ইনিয়েস্তা।

যেমনটা রাঙিয়েছিলেন ২০১০ বিশ্বকাপ ফাইনাল। জোহান্সবার্গের সকার সিটিতে অতিরিক্ত সময়ে করা তাঁর গোলেই তো প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। এর আগে-পরের দুটি বিশ্বকাপ খেলেছেন। এটি হবে তাঁর চতুর্থ আসর। সেখানে অবশ্য পাবেন না আগের তিন আসরের মাঝমাঠের সতীর্থ জাভি এর্নান্দেসকে। তবু পুরনো সতীর্থের এ কথাটি আরো একবার অনুপ্রাণিত করতে পারে তাঁকে, ‘স্প্যানিশ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিভাবান ফুটবলার ইনিয়েস্তা।’

টিম কাহিলকে নিয়ে এমনই মূল্যায়ন অস্ট্রেলিয়ানদের। সাবেক কোচ আনজে পোস্তেকোগলু তাঁবে নিয়ে বলতেন যেমন, ‘টিমি হচ্ছে টিমি। ও আমাদের সর্বকালের সেরা ফুটবলার।’ ৩৮ বছরের এই ফরোয়ার্ডেরও এটি শেষ বিশ্বকাপ হচ্ছে নিশ্চিতভাবে। আগের তিন আসর খেলে গোল করেছেন প্রতিটিতে; আর তা প্রথম অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে। ২০০৬ সালে কাহিলের জোড়া গোলে জাপানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে প্রথম জয় পায় সকারুরা। বিশ্বকাপের আট ম্যাচে এখন পর্যন্ত করেছেন পাঁচ গোল। যার মধ্যে গত আসরে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য ভলির সেই লক্ষ্যভেদও রয়েছে। নায়ক হতে আর কী চাই!

হাভিয়ের মাসচেরানো আবার নায়ক নন। বরাবরই পার্শ্বনায়কের ভূমিকা তাঁর। কিন্তু সে ভূমিকা যে কত গুরুত্বপূর্ণ, সতীর্থ ও কোচরাই ভালো জানেন। বার্সেলোনায় চার বছর কোচিং করানো পেপ গার্দিওলা যেমনটা বলেছিলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে দেখা সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত ফুটবলারদের একজন মাসচেরানো।

বয়সের থাবা এখন এই মিডফিল্ডারের ওপর। ৩৩ বছর পেরিয়ে এসেছেন। ক্লাব ক্যারিয়ারে ইউরোপ অধ্যায় শেষ। এবার প্রায় নিশ্চিতভাবেই হতে যাচ্ছে শেষ বিশ্বকাপ। লিওনেল মেসি, সের্হিয়ো আগুয়েরো, গনসালো হিগুয়াইনদের ‘সোনালি প্রজন্মের’ সামনে শেষ সুযোগ বিশ্বকাপ জেতার। সে জন্য মাসচেরানোর গুরুত্ব অসীম। গত তিন বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রতিটি ম্যাচের প্রতিটি মিনিট খেলেছেন। ২০১০ বিশ্বকাপের আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোচ ডিয়েগো ম্যারাডোনা তো নিজের পছন্দের একাদশের ঘোষণা দিয়েছিলেন এভাবে, ‘মাসচেরানো এবং আরো দশজন।’

গত বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সেমিফাইনালে শেষ মুহূর্তে আরিয়েন রবেনকে করা তাঁর ওই ম্যাচ বাঁচানো ট্যাকেলের কথা কে ভুলতে পারবে! মাসচেরানোর কাছ থেকে অমন আরো কিছু মুহূর্তের অপেক্ষায় আছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপও নয় কী! ফিফা ডটকম। কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত