প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সামনে পেলেই ওরা গণধর্ষণ করতো!

নিজস্ব প্রতিবেদক : সব মানুষ সমান নয়। একই পরিবেশে বাস করেও দুজন মানুষের চরিত্র সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। কেউ সৎ , কেউ অসৎ। কেউ খুনী , কেউ উদার। পৃথিবীর সব কালচারও সমান নয়। কোনও কালচারের মান উঁচু, কোনও কালচারের মান নিচু। বিবর্তিত হয়ে, সংশোধিত হয়ে কিছু কালচার নারী পুরুষের বৈষম্য ঘুচিয়ে ফেলে, কিছু কালচার সংশোধিত হতে বাধা পেয়ে নারীকে পুরুষের দাসি বানিয়ে রাখে, কিছু কালচারে ব্যক্তিস্বাধীনতা খুব বড় ব্যাপার, কিছু কালচারে ব্যক্তিস্বাধীনতা বলতে কিছুই নেই।

ভেবেছিলাম রমজান মাসটা রোজাদারদের সুযোগ দেব ওদের কদর্য কুৎসিত রূপ সংযত করে আলোচনায় অংশগ্রহণ করার জন্য। কিন্তু রোজাদারদের কদর্য কুৎসিত রূপ যে এরকম ভয়াবহ রকম কদর্য কুৎসিত–তা আমিও কি কখনও ভেবেছি! ক’দিন আমার কমেন্ট বক্সে যে কেউ ঢুকেছে, যে কেউ কমেন্ট করেছে, সেই কমেন্টগুলো পড়লে যে কোনও বোধ সম্পন্ন মানুষ বুঝে নেবেন, মানুষ এবং তার সংস্কৃতিতে, একই অঞ্চলে বাস করেও‌ কেমন আকাশ পাতাল পার্থক্য।

এই সন্ত্রাসী রোজাদারদের বাপ দাদারা এক কালে আমার ফাঁসির জন্য উন্মাদ হয়ে উঠেছিল। আর কোনও নাস্তিকের মাথার দাম ঘোষণা করেনি, আমারই করেছিল। আমার ফাঁসি চেয়েই লক্ষ লোক নামতো পথে। এর একটিই কারণ, আমি শুধু নাস্তিক নই, আমি মেয়ে, আমি মেয়েদের স্বাধীনতা আর সমান অধিকারের কথা বলেছি। নাস্তিকতা এদের সয় না, মেয়েদের অধিকার তো আরও সয় না। ওই ফতোয়াবাজদের মগজ ধোলাই হওয়া নাতিপুতিরা এখন দেশের সন্ত্রাসী কাম হাইটেক যুব সমাজ। এরা যদি সত্যিই সামনে পেতো আমাকে, গণধর্ষণ তো করতোই, কুচি কুচি করে আমার শরীর কেটে, যা বলে এরা, কুত্তা দিয়ে খাওয়াতো। এতেই হয়তো এদের স্বস্তি । আসলে সন্ত্রাসী রোজাদারদের কাছে খুন ধর্ষণ কোনও ব্যাপারই নয়।

কমেন্ট বক্স শুধু ফ্রেন্ডস করে দিচ্ছি। ওরা ওদের নিজের দোষেই রমজান পর্যন্ত থাকার, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমার সঙ্গে গঠন মূলক আলোচনা করার সুযোগ হারালো। সুযোগ বার বার আসে না।

(প্রখ্যাত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন এর ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত