প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে টাচ করা যাবে না’

ডেস্ক রিপোর্ট : কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকক্সবাজারে সফররত বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। মঙ্গলবার (২২ মে) উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে ভক্ত, উৎসুক রোহিঙ্গা বা সাংবাদিক কাউকেই প্রিয়াঙ্কার ধারে কাছে ঘেঁষতে দেয়নি পুলিশ। প্রটোকলের দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই খাইরুলের সাফ জবাব, ‘প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে কোনোভাবেই টাচ করা যাবে না। মোবাইল বা ক্যামরায় কোনও ধরণের ছবি ওঠানোও সম্পূর্ণ নিষেধ। এ ব্যাপারে ওপরের নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া ইউনিসেফ কর্মকর্তারা আমাদের যেভাবে কড়াকড়ি করছেন আপনারা তো দেখতেই পাচ্ছেন।’

জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা খাইরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভাই দেখেন- গতকাল (২১ মে) টেকনাফ শামলাপুরে যে অবস্থা হয়েছে, আপনারা তো দেখেছেন। প্রিয়াঙ্কাকে দেখতে উৎসুক হাজার হাজার মানুষের ভিড় সামলাতে কত যে ঘাম ঝরছে, বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে মোবাইলে ভক্তদের সেলফি তোলার আপ্রাণ চেষ্টা এবং সাংবাদিকদের ঠেলাঠেলিতে বিরক্ত প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। তাই আজ কোনও ধরনের মিডিয়া এবং কোনও মোবাইলে ছবি ধারণ সম্পূর্ণ নিষেধ রয়েছে। এছাড়াও তার (প্রিয়াঙ্কা) নিরাপত্তাজনিত কিছু ব্যাপার রয়েছে না।’

এই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই স্থানীয় সাংবাদিকরা বালুখালী ক্যাম্পে ইউনিসেফের শিশুবান্ধব কেন্দ্রে ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন মুহূর্তেই প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে ঘিরে আবারও জনতার ভিড় লেগে যায়। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তা খাইরুল দৌড়ে গিয়ে ভিড় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে উপস্থিত সব সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে শুধু একটি ক্যামেরা ঢোকার অনুমতি চাইলে তিনি বলেন, ‘ভাই বোঝার চেষ্টা করেন। প্রিয়াঙ্কা চোপড়াকে ধরাছোঁয়া তো দূরের কথা, কোনও ধরণের ছবি বা ভিডিও করা যাবে না। এটি ওপরের নির্দেশনা।’
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

উপস্থিত রেহিঙ্গাদের উদ্দেশে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘কেউ যদি ছবি ওঠানোর চেষ্টা করেন, তাহলে মোবাইলসহ জেলে দিয়ে পান্তা ভাত খাওয়াবো। সুতরাং সাবধান।’

গত (২১ মে) সোমবার চারদিনের সফরে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে আসেন বলিউডের অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। আজ মঙ্গলবার সকালে দ্বিতীয় দিনের মতো টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের হারিয়াখালী, উনচিপ্রাং এবং দুপুরে উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তিনি। ইউনিসেফের দূত হিসেবে রোহিঙ্গা শিশুবান্ধব কেন্দ্রে নির্যাতিত শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন প্রিয়াঙ্কা। এসময় তাকে দেখতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা ভিড় জমান।

জানতে চাইলে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফরুজুল হক টুটুল বলেন, ‘প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার নিরাপত্তাজনিত কারণে এবং ইউনিসেফের অনুরোধে আমি নিজেই কড়াকড়ি আরোপ করেছি। গতকাল (২১ মে) টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে এতে করে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিশেষ করে আপনারা (সাংবাদিকরা) এজন্য দায়ী। সাংবাদিকদের সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তাই বলে এভাবে ঠেলাঠেলি এবং উৎসুক জনতার ভিড় সামলানো পুলিশের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে।’

প্রসঙ্গত, সোমবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া বেসরকারি একটি ফ্লাইটে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর সড়ক পথে তিনি ইনানীর একটি হোটেলে ওঠেন। পরে সেখানে বিকাল ৪টার দিকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে এবং খোঁজ-খবর নিতে টেকনাফের শামলাপুর রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। আজ দ্বিতীয় দিনের মতো ভারতের এই অভিনেত্রী ইউনিসেফ হয়ে উখিয়ার বালুখালী ও জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। আগামীকাল টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে ২৪ মে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে তার।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এ সফরে এসেছেন ইউনিসেফের হয়ে। প্রকৃতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারী অধিকার ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করে চলেছেন বলিউডের এই অভিনেত্রী। এর আগে গত বছর প্রিয়াঙ্কা গিয়েছিলেন জর্ডানে, সিরিয়ান শরণার্থী শিশুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। তিনি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করবো এবং সেখানকার সব অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো ইনস্টাগ্রামে। এ বিষয়টি নিয়ে সারা বিশ্বের এগিয়ে আসা উচিত। ভাবা উচিত আমাদেরও।’ বাংলাট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত