প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দিনাজপুরে এক বছরে ৭০ হত্যা মামলা, হতাশ ভোক্তভুগীরা

হ্যাপী আক্তার : দিনাজপুরে হত্যাকান্ড ঘটনা দিন দিন বাড়েই চলেছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৭০ টির বেশি হত্যাকান্ড ঘটেছে। কিন্তু বেশিরভাগ মামলার অভিযোগপত্র না দেয়ায় বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা

জেলা পুলিশের তথ্যমতে ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত দিনাজপুরে ৭৩টি হত্যাকান্ড ঘটেছে। যার মধ্যে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই ঘটেছে ২০টি হত্যাকান্ড। আর এসব ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে ৮৭ জন।

কিন্তু এসব মামলার মাত্র ২৫টির অভিযোগপত্র ও সাতটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ। আর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ বেশিরভাগ মামলার অভিযোগপত্র না দেয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন বিচারপ্রার্থীরা।

ভোক্তভুগীরা বলছেন, মামলার এক বছর পরেও পুলিশ কোনো চার্জশিট দিতে পারেনি। তাদের অভিযোগ একটি মামলা চলমান অবস্থায় কেন বন্ধ হয়ে যায়? বিষয়টি একদিকে যেমন হয়রানিমূলক অন্য দিকে দুঃখজনকও।

দিনাজপুর সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি সফিকুল ইসলাম ছুটু বলেছেন, যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সে কেন ফেল করলো? সে সময় মতো কেন প্রতিবেন দিল না।বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।জবাবদিহিতার অভাবে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলেও মনে করছেন তিনি।

দিনাজপুর নাট্য সমিতির সাধারন সম্পাদক রেজাউর রহমান রেজু বলেছেন, মামলা নিয়ে পুলিশের যে ভূমিকা সেটা যদি তারা পালন না করে তাহলে আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের কোনো আস্থার জায়গাটি থাকে না।

দিনাজপুরের দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি সাইফুল ইসলাম বলেছেন, মামলার বিচার কাজের জন্য অনেক সঠিক সময়ে সাক্ষী পাওয়া যায় না। যার জন্য দ্রুত বিচার কাজ শুরু না হওয়ায় নানা জটিলতার কারনে বিচারপ্রার্থীরা সুষ্ঠু বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

দিনাজপুর হিউম্যান এন্ড ইথিক্যাল এসোসিয়েশনের মানবাধিকার কর্মী মাজহারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে দাখিল করাটা ন্যায় বিচার প্রাপ্তির একটি অংশ। আস্থাহীনতার একটি অংশ হচ্ছে দ্রুত সময়ে মামলা দাখিল না করা।

তবে, পুলিশ বলছে আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতি ভাল রয়েছে।

দিনাজপুন পুলিশ সুপার হামিদুল আলম বলেছেন, সব মামলারই অগ্রগতি ভালোভাবেই চলছে। সবগুলো মামলাই নিষ্পত্তি হয়েছে। তার সাথে আসামী যারা তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে।

মামলার এই জটিলতা থেকে দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভোক্তভুগীর। সূত্র : ডিবিসি নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত