প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেওবন্দ মাদরাসায় পড়ার দাবি আন্দোলনের বিষয় নয়: মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া

ওমর শাহ: বাংলাদেশের কওমি শিক্ষার্থীদের ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসায় বৈধভাবে পড়তে যাওয়ার সুযোগ দাবিতে সোমবার প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে কওমি ছাত্র শিক্ষক পরিষদ। এ দাবি আদায়ে আগামী ২৭ মে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানেরও উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটির নেতৃবন্দৃ। গণমাধ্যমে এ সংবাদ প্রচার হওয়ার পরই এ দাবি আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কওমি অঙ্গনেরই একটি মহল। সোশ্যাল মিডিয়ায় কওমি মাদরাসার এক শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এ দাবি আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা করছেন। তাদের দাবি, দারুল উলূম দেওবন্দে পড়তে যাওয়ার সুযোগের বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের হাতে নেই। মানববন্ধন বা স্মারকলিপি প্রদান এ দাবি আদায়ের কার্যকর কোনো পন্থাও নয়। একমাত্র দারুল উলূম দেওবন্দ ও ভারত সরকারের হাতেই বিষয়টি রয়েছে। এরসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের জড়িত থাকার বিষয়টি গৌণ।

এ বিষয়টি নিয়ে আমাদেরসময়.কম এর পক্ষ থেকে রাজধানী মিরপুরের জামিয়া হোসাইনিয়া আরজাবাদ মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও দারুল উলূম দেওবন্দের সাবেক শিক্ষার্থী মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরাও চাই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যেন দেওবন্দে পড়তে যাওয়ার সুযোগ পায়। তবে এ দাবি আদায়টি রাজপথে আন্দোলনের বিষয় নয়। এ দাবির সঙ্গে আমাদের কোনো আপত্তি নেই; দাবি আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। যারা আন্দোলন করছে তারা বাংলাদেশের শীর্ষ আলেম উলামা ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া কিংবা কওমি মাদরাগুলোর সম্মিলিত শিক্ষাবোর্ড আল হাইয়াতুল উলইয়ার মাধ্যমে দারুল উলূম দেওবন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। মূলত দারুল উলূম দেওবন্দ উদ্যোগ নিলেই এ দাবি আদায় সহজ হবে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত শিক্ষা সার্টিফিটেক প্রয়োজন রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান চাইলে এ সার্টিফিকেটের প্রয়োজন পড়ে না। যেমন সৌদি আরবের মদিনা ইউনিভার্সিটি, মিশরের আল আযহারে বাংলাদেশি কওমি শিক্ষার্থীদের পড়ার জন্য সরকার অনুমোদিত সার্টিফিকেট ছাড়াও শুধু পটিয়া মাদরাসার সার্টিফিকেটই যথেষ্ট। দু’দেশের প্রতিষ্ঠান চাইলে এ সুযোগ করে দিতে পারে। তবে এটা তাদের একান্তই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাপার।

মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়ার বক্তব্যের ব্যাপারে কওমি ছাত্র শিক্ষক পরিষদের সমন্বয়ক মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ চেষ্টা ব্যর্থ হলে সংগঠনটির ২০ সদস্য কমিটির সদস্য ও স্যোশালিস্ট মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ আরমান এ প্রতিবেদককে জানান, বিষয়টি সরাসরি দারুল উলূম দেওবন্দ ও ভারত সরকারের হলেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হলে এ দাবি আদায় সহজ হবে। এ লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। মূলত সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও দারুল উলূম দেওবন্দ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের এ বিষয়ে কথা হয়েছে। আমরা সব ধরণের চেষ্টাই করে যাচ্ছি। তবে যারা সমালোচনা করছেন তারা বিষয়টিকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক ও প্রতিহিংসা থেকে এসব সমালোচনা শুরু করেছেন। অবশ্য আমার শিক্ষক মাওলানা বাহাউদ্দীন জাকারিয়া দাবি আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে যে পরামর্শ দিয়েছেন আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপে তা ভেবে দেখার চেষ্টা করবো।

উল্লেখ্য, ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ বাংলাদেশসহ ভারত উপমহাদেশের কওমি ধারার সকল মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রাণকেন্দ্র। এ দেশের কওমি সিলেবাস মূলত দারুল উলুম দেওবন্দের সিলেবাস অনুসারেই প্রণীত। কিন্তু পাকিস্তান-বাংলাদেশ বিভক্তির পর থেকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের দেওবন্দে পড়ার বিষয়টি বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে কিছুটা সুযোগ সৃষ্টি হলেও নানা কারণে এ পথও বন্ধ করে দেয় ভারত সরকার। যার ফলে অবৈধ পথে পাড়ি দিয়েই তাদের ভারতে যেতে হয়। গতমাসের শেষ দিকেও দেওবন্দে পড়াশোনা শেষ করে বাংলাদেশে ফেরার পথে ভারতের সীমান্তরক্ষীদের হাতে গ্রেফতার হয় বাংলাদেশের ২৪ শিক্ষার্থী। তাদের মুক্ত করার বিষয়ে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বাংলাদেশ সরকার। ফলে বৈধ পথে দারুল উলূম দেওবন্দে পড়তে যাওয়ার সুযোগ দাবিতে মাঠে নেমেছে কওমি সংশ্লিষ্টরা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত