প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বন্ধ হচ্ছে না হুন্ডির আগ্রাসন

সোহেল রহমান: ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে আসা রেমিট্যান্সের পরিমাণ আগের চেয়ে বাড়লেও হুন্ডির আগ্রাসন বন্ধ হয়নি। তবে প্রতিবছর ঠিক কী পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা হুন্ডির মাধ্যমে দেশে আসছে এর কোন সঠিক পরিসংখ্যান নেই। আর হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ শুধু দেশে আসছেই না, বাইরেও চলে যাচ্ছে।

গত ২০০২ সালে প্রকাশিত একটি বেসরকারি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিবছর বৈধ পথে আসা রেমিট্যান্সের প্রায় ৪০ শতাংশ পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা হুন্ডির মাধ্যমে আসে। গত পাঁচ বছরে দেশে বছরওয়ারি গড় রেমিট্যান্স প্রবাহের পরিমাণ ১ হাজার ৪৩৪ কোটি ডলার। সে হিসাবে হুন্ডির মাধ্যমে বর্তমানে বছরে দেশে আসছে ৫৭৩ কোটি ডলারেরও বেশি।

অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের দাবি, বর্তমানে যে পরিমাণ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে আসে, সেটা বৈধ পথে আসা রেমিট্যান্সের ৫ থেকে ১০ শতাংশের বেশি নয়।
ব্যাংকিং খাত সংশ্লি¬ষ্টরা জানান, হুন্ডির মাধ্যমে আসা অর্থের মাত্র ২০ শতাংশ আসে হাতে হাতে, পারিবারিক সদস্য বা বন্ধু-বান্ধবের মাধ্যমে। বাকী পুরোটাই আসে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে। মৌখিক টেলিফোন ম্যাসেজে টাকা পৌঁছে যায় ঘরে। এ কারণে সহজে দ্রুততম সময়ে ও প্রায় কোন খরচ ছাড়াই অর্থ পাঠানো এবং অধিক লাভের আশায় এখনো অনেকে হুন্ডির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠাচ্ছেন। আর এদের প্রলুব্ধ ও সহযোগিতা করে যাচ্ছে দেশি-বিদেশি একাধিক চক্র।

অন্যদিকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের একটি অংশ অবৈধভাবে বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। কেউ কাজ করছেন অস্থায়ী ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে, কারো প্রবাসে কোন ব্যাংক একাউন্ট নেই, কারো কর্মস্থল এমন স্থানে যেখানে কোন ব্যাংকিং সুবিধা নেই। ফলে তারাও অর্থ পাঠাচ্ছেন মূলত হুন্ডির মাধ্যমেই।
এছাড়া কখনো কখনো পার্শ্ববর্তী দেশ বিশেষত ভারতে ডলারের দাম বেড়ে গেলে হুন্ডির মাধ্যমে ভারত হয়ে টাকা বাংলাদেশে আসেÑ এমন কথাও শোনা যায়।

প্রসঙ্গত: নব্বই দশকের শেষের দিকে দেশে হুন্ডির প্রবণতা অনেক বেড়ে গিয়েছিল। সে সময় হুন্ডি ঠেকাতে তদন্তে নামে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১৯৯৯ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তদন্ত প্রতিবেদনে দেশি-বিদেশি ৭টি ব্যাংক হুন্ডির সাথে জড়িত বলে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ছিল ৫টি বেসরকারি ব্যাংক ও দুটি বিদেশি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের ২১ জন কর্মকর্তাকে তখন চাকুরিচ্যুত করা হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, দেশের সীমান্ত এলাকায় হুন্ডির প্রবণতা বেশি। বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান, এনজিও, বৈদেশিক দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হুন্ডির সঙ্গে জড়িত। বৈদেশিক দূতাবাসগুলো আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার না করে হুন্ডির আশ্রয় নিচ্ছে। পরবর্তীতে ২০০৩ সালের আগস্টে হুন্ডি তৎপরতা ও বিদেশে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত এমন ৪৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রমতে, হুন্ডি প্রবণতা আসলে সম্পূর্ণ রোধ করা সম্ভব নয়। এটা অনেক দেশেই রয়েছে। পাশাপাশি অনেকে জানেই না যে, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ পাঠানো অবৈধ। এ ব্যাপারে জনসচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে। ২০০২ সালে ‘মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন’ প্রণীত হবার পর হুন্ডির প্রবণতা অনেকটা কমে এসেছে। পাশাপাশি বৈধ চ্যানেলে রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদেশে এক্সচেঞ্জ হাউজের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের নানা রকম সুযোগ-সুবিধা প্রদানসহ তাদের সম্মান জানানোরও উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলে আগামীতে হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ প্রেরণের প্রবণতা আরো কমে আসবে বলে আশা করা যায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত