প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রাঘব-বোয়ালদের আড়াল করা হচ্ছে’

রবিন আকরাম : মাদক নির্মূল অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক ব্যবসা ও পাচারের সাথে জড়িতদের নিহতের হওয়ার ব্যাপারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন মানবাধীকার কর্মীরা।

এ ব্যাপারে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই প্রক্রিয়ার যারা শিকার হচ্ছেন, তারা চুনোপুটি। এর মাধ্যমে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রাঘব-বোয়ালদের আড়াল করা হচ্ছে। অপরাধীদের বিচারে সোপর্দ করতে হবে। বিচারের মাধ্যমেই তাদের শাস্তি দিতে হবে। নির্বাচনের আগে এই ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, এর মধ্য দিয়ে দেশের বিচারবিভাগের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা বাড়বে। একটি মহল বিচার বিভাগকে দুর্বল করতেই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দিকে যাচ্ছে। আর এর মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসন আরো ক্ষমতাবান হয়ে অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়বে।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার অনেকটাই তদন্তের সফলতার ওপর নির্ভর করে। আর তদন্তের দায়িত্ব পালন করে পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থা। তাদের তদন্তে ব্যর্থতার কারণেই অপরাধী ছাড়া পাচ্ছে। বিচার প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে শাস্তি দেয়া যায় না। সেটা হলে অনেক নিরীহ মানুষ এর শিকার হয়। অতীতে হয়েছে।

এদিকে গতকাল সোমবার এক অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। দেশে ক্রমাগতই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটেই চলেছে, এটা উদ্বেগের বিষয়। মাদক ব্যবসায়ীসহ যেকোনও সন্ত্রাসীকে এভাবে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা মানবাধিকার লঙ্ঘন। যে-কোনও অন্যায়-অপরাধকে বিচারের আওতায় এনে তার শাস্তি দেওয়া উচিত। অথচ সেটা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, জনগণ এভাবে হত্যাকাণ্ড দেখতে চায় না। তাই যদি হবে, তাহলে দেশে আইন-আদালত কেন? জনগণের টাকায় কেনা অস্ত্রকে এভাবে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা বেআইনি। অপরাধীদের আটক করে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।

আসক বলেছে, প্রতিটি ব্যক্তির বেঁচে থাকার এবং ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এটি তাঁর সাংবিধানিক অধিকার এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলসমূহেও এ অধিকার স্বীকৃত। ব্যক্তি যে অপরাধই করে থাকুক না কেন, তাকে বিচারিক আদালতে যথোপযুক্ত আইনি প্রক্রিয়া অণুসরণ করে শাস্তি প্রদান করা হোক। অন্যথায় সমাজে আইনের শাসনের বরখেলাপ হবে ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। আমরা সরকারকে মানবাধিকারের মূলনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি। ডয়চে ভেলে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত