প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘মাদক-চোরাকারবারীদের ক্রসফায়ারে না দিয়ে দ্রুত বিচার আইনে শাস্তি নিশ্চিত জরুরি’

আশিক রহমান : চলমান মাদকবিরোধী অভিযানকে স্বাগত জানালেও ক্রসফায়ারে মৃত্যুর ঘটনাকে অনাকাক্সিক্ষত বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মী ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা। মাদকাসক্তি ও মাদকের সহজলভ্যতার কারণগুলো চিহ্নিত না করে, বড় বড় গডফাদারদের ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখে, চুনোপুটি মাদক বিক্রেতাদের ক্রসফায়ারে হত্যা করে মাদকবিরোধী অভিযান সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ বলেও মনে করেন তারা।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, আমরা তো যুদ্ধের মধ্যে নেই, একটা স্বাভাবিক অবস্থার মধ্যে বাস করছি। সেই জায়গায় এরকমভাবে দিনে ৫-৬ জন করে যদি বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়, উদ্বিগ্ন হওয়ারই কথা। আমরাও চাই কঠোর আইন হোক, কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা যে, আমাদের সংবিধান বলে তো একটা কথা রয়েছে। আসলেই এখানে বন্দুকযুদ্ধে মারা যাচ্ছে কি না? কিংবা অন্য কোনোভাবে বন্দুকের অপব্যবহার হচ্ছে কি না? সেটাও আমাদের জানা দরকার। কারণ এই অস্ত্রটা আমরাই তুলে দিয়েছি তাদের হাতে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডর (অব.) ইসফাক ইলাহি চৌধুরী বলেন, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে কোনো নিরাপরাধ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না তো? যাদের ক্রসফায়ারে দেওয়া হচ্ছে তার মধ্যে তো নিরাপরাধ ব্যক্তিও থাকতে পারে। শত্রুতাবশত হত্যারও শিকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই শত্রুতা হতে পারে গ্রাম্য বিষয়ে, কোনো পাওয়া-না পাওয়ার ইস্যুতে, রাজনৈতিক শত্রুতাও এখানে ব্যবহার করার সম্ভাবনা উড়িয়ে যায় না। তাই মাদক-চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িতদের ক্রসফায়ারে না দিয়ে দ্রুত বিচার আইনে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করি আমি।

মে. জে. (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, মাদক ব্যবসায়ী-চোরাকারবারীরা সমাজের শত্রু। কারণ মাদক বড় এক ব্যাধীর নাম। মাদক-কারবারীরা রাষ্ট্রের জন্য ভয়ানক হুমকি। তাদেরকে মার্সির কোনো সুযোগ নেই। বড় বড় গডফাদাররাও মাদক-কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাই মাঠ পর্যায়ের কারবারীদের বিরুদ্ধেই কেবল নয়, এসব মাদক গডফাদারদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। তিনি বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান দিয়ে সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব না। দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে সংঘবদ্ধ ও সুসংগঠিতভাবে গ্রাম-গঞ্জে, পাড়া-মহল্লায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনে সংগঠন করে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে হবে বলেও মনে করেন এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত