প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাদকবিরোধী অভিযানে পাঁচ জেলায় পুলিশ-র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ৭ জন নিহত

নিজস্ব প্রতিনিধি: পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নীলফামারী, চুয়াডাঙ্গা ও নেত্রকোনায় সাত ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কুমিল্লায় নিহত হন দুজন। নিহতদের মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করেছে পুলিশ।

সোমবার (২১ মে) দিবাগত রাতে এসব ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে গত চারদিনে ২৩ ব্যক্তি ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হলেন।

আমাদেরসময় ডট কমের কুমিল্লা প্রতিনিধি তরিকুল ইসলাম শিবলী জানান, কুমিল্লায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ২ মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। আহত অবস্থায় আটক হয়েছে আরো এক মাদক ব্যবসায়ী।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে অরন্যপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু ছালাম মিয়া। নিহতদের মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

গোলগুলিতে ৪ পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া দেবীদ্বারে বন্ধুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সাদ্দাম নামের এক মাদক ব্যবসায়ী আটক করেছে পুলিশ। এসময় ৪ পুলিশ আহত হয়।

পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার মধ্যরাতে জগন্নাথ পুর ইউনিয়নের অরণ্যপুর এলাকায় পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সাাথে মাদকব্যবসায়ীদের গোলাগুলি হয়। এসময় ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় পেয়ার আলী ও শরিফ নামে দুই মাদক ব্যবসায়ী। আহত হয় সেলিম নামে আরো এক মাদকব্যবসায়ী।

এসময় ঘটনাস্থল থেকে একটি পাজেরো জিপ, একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩ রাউন্ডগুলি, ৫শ বোতল ফেন্সিডিল ও বিপুল পরিমানে গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। আহত মাদক ব্যবসায়ীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

নিহত পেয়ার আলী কুমিল্লা সদরের শুভপুর এলাকার আলী মিয়ার ছেলে এবং শরিফ চৌয়ারা এলাকার মহেশপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে।

অভিযানে অংশ নেওয়া কুমিল্লা ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম মুঠো ফোনে জানান, ঘটনাস্থলে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শরীফ (২৬), পিয়ার আলী (২৮) ও সেলিম গুরুতর আহত হয়। তাদেরকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার মাদক ব্যবসায়ী শরীফ ও পিয়ারকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে মধ্যে মো. শরীফ জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার মহেষপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের পুত্র। তার বিরুদ্ধে ৫টি মাদক মামলা রয়েছে। অপর নিহত পিয়ার আলী আদর্শ সদর উপজেলার শুভপুর গ্রামের আলী মিয়ার পুত্র। তার বিরুদ্ধে ১৩টি মাদকের মামলা রয়েছে।

ওই অভিযান চলাকালে কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রুপ কুমার, এসআই শাহ আলম,কনস্টেবল তানভীর এবং ডিবির এএসআই শাহীনুর আলম আহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অন্যদিকে, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি শামসুজ্জোহা পলাশ জানান, জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলার শহরের রেলষ্টেশনের অদূরে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সাজাপ্রাপ্ত আসামি কামরুজ্জামান সাধু (৪৫) নিহত হয়েছে।

সোমবার দিবাগত রাত ২ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশের এস আই জিয়াউর রহমান, এ এসআই হামিদুর রহমান, এ এসআই শহিদুল ইসলাম, কনষ্টেবল রাকিব আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি দেশীয় পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি ও ১ বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। নিহত কামরুজ্জামান সাধু উপজেলার হারদি গ্রামের এমদাদুল হকের ছেলে। সে সাজাপ্রাপ্তসহ এক ডজন মামলার আসামি।

আলমডাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) লুতফুল কবির জানান, সোমবার দিবাগত রাতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল আলমডাঙ্গা উপজেলার শহরের রেলষ্টেশনের অদূরে পাকা রাস্তার কাছে টহল দেওয়ার সময় ৬/৭ জন চোরাকারবারীকে চ্যালেঞ্জ করে। এসময় চোরাকারবারীরা পুলিশের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়ে। এতে মাদক ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান সাধু নিহত হয় বাকিরা পালিয়ে যায় এবং ৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহত পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দেশীয় পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি ও এক বস্তা ফেনসিডিল উদ্ধার করে।

আলমডাঙ্গা থানার ওসি আবু জিহাদ মো. ফকরুল আলম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত কামরুজ্জামান সাধু এলাকার চিহিৃত মাদক ব্যবসায়ী। সে ৩ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ থানায় তার বিরুদ্ধে একডজন মাদক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি জানান, চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানাধীন ডেবারপাড় এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শুক্কুর আলী (৪৫) নামে এক মাদকব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মিমতানুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাব। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদকব্যবসায়ীরা গুলি শুরু করে। পরে র‌্যাবও পাল্টা গুলি করলে তারা পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে আহত অবস্থায় শুক্কুর আলীকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে র‌্যাব প্রায় ১০ হাজার পিস ইয়াবা, একটি ওয়ানশ্যুটার গান, বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের বড়য়ারী এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আমজাদ হোসেন নামে এক মাদকব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন বলেন, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আমজাদ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে সদর উপজেলার বড়য়ারী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। ওই সময় আমজাদের সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালালে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ শুরু হয়। এতে আমজাদ হোসেন নিহত হয়। সে নেত্রকোনা শহরের পশ্চিম নাগড়া এলাকার বাসিন্দা।

ওসি আরও বলেন, ওই ঘটনায় তিনিসহ উপপরিদর্শক মহসিন, মামুন, মকবুল ও কনস্টেবল মালেক আহত হয়। তাদের নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়া আমাদের নীলফামারী প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নীলফামারীতে মাদক বিরোধী যৌথ অভিযানে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

নীলফামারী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত