প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাশিয়া বিশ্বকাপ যাদের মিস করবে

স্পোর্টস ডেস্ক : রাশিয়া বিশ্বকাপ মাঠে গড়াচ্ছে ১৪ জুন। যেখানে তুমুল যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে ৩২ দেশ। ঘড়ির কাঁটা ঘুরে দ্রুতই কাছে চলে আসছে সেই মহাপ্রলয়ের ক্ষণ। টানা এক মাস চলবে এ যুদ্ধ। উদ্বোধনী দিনে রাশিয়া ও সৌদি আরবের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এ বিশ্বযুদ্ধের।
সম্ভাব্য অনুমেয় সব দেশই পেয়েছে তাতে লড়াইয়ের সুযোগ। যে যুদ্ধে অংশ নিতে দেখা যাবে কয়েকটি অখ্যাত ফুটবল খেলুড়ে দেশকেও। তন্মধ্যে অন্যতম আইসল্যান্ড ও পানামা। তবে বাদ পড়েছে অনন্য ফুটবল প্রদর্শনীর দেশ ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও চিলি।

প্রত্যাশিতভাবেই বিশ্বসেরা হওয়ার মঞ্চে লড়তে দেখা যাবে লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, নেইমার, লুইস সুয়ারেজ, হ্যারি কেন, থমাস মুলার, মো. সালাহর মতো বিশ্বমানের তারকাদের। আরামসে পায়ের ওপর পা তুলেই তাদের ফুটবল নৈপুণ্য উপভোগ করা যাবে।

তবে কেউ যখন মেসি-রোনালদোর জাদু দেখতে বুঁদ থাকবেন, তখন অনেকে নস্টালজিয়ায়ও ভুগতে পারেন। কারণ নির্মম হলেও সত্য, অপ্রত্যাশিতভাবেই দেখা যাবে না অনেক রথী-মহারথীকে।
আর্তুরো ভিদাল –

টানা দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপা জয়ে চিলিকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার হাত ধরেই দুবার লাতিন আমেরিকার বিশ্বকাপখ্যাত কোপার ফাইনালে ওঠে চিলি। দুবারই পরাস্ত হয়েছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। গত দুটি বিশ্বকাপেও মাঠ মাতিয়েছেন তিনি। এবারও আশায় ছিলেন রাশিয়া মাতানোর। তবে বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে হেরে দল বাদ পড়ায় স্বপ্নভঙ্গ হয় তার। নিষেধাজ্ঞার কারণে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলতে না পারা ভিদাল গ্যালারিতে বসেই দলের অসহায় আত্মসমর্পণ দেখেন।

গ্যারেথ বেল –
গত দুই বছর ধরে দারুণ নৈপুণ্য উপহার দিয়ে আসছিল ওয়েলস। গত বছর ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয় দলটি। তবে হঠাৎই উল্টো রথে উড়ে তারা। ফলে বাছাই পর্বের বাধা পের হতে ব্যর্থ হয়।বিশ্বকাপে জায়গাও হয়নি। ব্যর্থ হওয়ায় রাশিয়া দেখা হচ্ছে না রিয়াল মাদ্রিদ উইঙ্গার গ্যারেথ বেলের।

আরিয়েন রোবেন –
ররাবেনের খ্যাতি জগত জোড়া। তার দক্ষতা, সামর্থ্য এরই মধ্যে অসংখ্যবার অবলোকন করেছে ফুটবল বিশ্ব। বায়ার্ন মিউনিখের এ উইঙ্গারের বিশেষত্ব হচ্ছে গতি। গতি দিয়েই যেন সব কিছুকে হার মানাতেন। যার তা-বে পাশের রক্ষণ সেনারাও খড়কুটোর মতো ওড়ে যায়। এবার সেই ঝড়ো দৃশ্য দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন ফুটবল রসিকরা। কারণ তার দেশ নেদারল্যান্ডস যে বিশ্বকাপের টিকিটই পায়নি।
অ্যালেক্সিস সানচেজ –
চিলির সোনালি প্রজন্মের ফুটবলার তিনি। টানা দুটি কোপা আমেরিকা শিরোপা জয়ে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের হাতেই দুবার ফাইনালে উঠেও পরাস্ত হয়েছে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। সেই দলটিই এবার বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে ব্যর্থ হয়েছে।
বাছাই পর্বের শেষ ম্যাচে ব্রাজিলের কাছে হেরে যায় চিলি। দিনের অপর ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে পেরু করে ফেলে ড্র। এতে বিশ্বকাপের টিকিট হাতছাড়া হয় দলটির।
একরকম বলা যায়, ফর্ম ও ভাগ্য সহায় না হওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়েছে চিলি। সেই সঙ্গে ব্যাকফুটে চলে গেছেন ম্যানইউ ফরোয়ার্ডও।

জিয়ানলুইজি বুফন –
বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন। কেউ কেউ তো তাকে ইকার ক্যাসিয়াস এবং লেভ ইয়াসিনদের কাতারেও রাখেন। ২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সকে হারানোর অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনিই। জিনেদিন জিদানের মতো কিংবদন্তি ফুটবলারও তাকে পরাস্ত করতে পারেননি। সেই বুফনই থাকছেন না এবারের বিশ্বকাপে। কারণ ছাড়পত্রই পায়নি তার দেশ চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি।

পিয়েরে-এমেরিক অবামেয়াং –
গ্যাবন বিশ্বকাপের টিকিট পেলে আলোচিত তারকাদের একজন হয়ে থাকতেন তিনি। বেশ কটি মৌসুম ধরেই অপ্রতিরোধ্য পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে আসছেন। তবে বাছাই পর্বের বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয় তার দেশ। তাই আপাতত জেগে জেগেই স্বপ্ন দেখতে হচ্ছে তাকে।

রবিন ফন পার্সি –
২০১৪ বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই বিশ্বজয়ী স্পেনকে ৫-১ গোলে পরাজিত করেছিল নেদারল্যান্ডস। ওই ম্যাচে তিনি নিজে করেন ২ গোল। যার একটি ছিল ফ্লাইং হেডে করা অসাধারণ এক গোল। সেটি বিশ্বকাপে সেরা গোলের স্বীকৃতিও পেয়েছিল। জিতেছিল পুসকাস অ্যাওয়ার্ড। সেই ফন পার্সিরা ২০১৮ বিশ্বকাপে দলকেই চূড়ান্ত পর্বের টিকিট এনে দিতে পারেননি। বিশ্বকাপও মিস করবে দুর্দান্ত এক স্ট্রাইকারকে।

এডিন জেকো –
তূণে রয়েছে অসংখ্য ফুটবলীয় অস্ত্র। চলতি মৌসুমটাও দারুণ কেটেছে তার। প্রায় একক নৈপুণ্যে এএস রোমাকে তুলেছেন চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে। সিরিআ জেতাতে না পারলেও রেখেছেন সেরার লড়াইয়ে। তবে বাছাই পর্বের গ-ি পেরিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি তার দেশ বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা। তাই ফুটবলের মহোৎসবে অংশ নেয়া হচ্ছে না তার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত