প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মধ্যরাতে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি, কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে ইয়েদুরাপ্পার শপথ

মাছুম বিল্লাহ: দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বারের মতো শপথ নিয়েছেন বিজেপি নেতা বি এস ইয়েদুরাপ্পা। বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরুর গ্লাস হাউসে তাঁকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল বাজু ভাই বালা৷ এর আগে বুধবার দিনগত মধ্যরাতে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে শুনানির পর কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে ইয়েদুরাপ্পার শপথে স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করে বিচারকরা। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে ইয়েদুরাপ্পা শপথ গ্রহণ করেন। তবে তাকে ১৫ দিনের মধ্যে বিধানসভায় সংখ্যা গরিষ্ঠতার প্রামাণ দিতে হবে।

ইয়েদুরাপ্পা শপথ নিলেও রাজনৈতিক টানাপড়েনের কিন্তু শেষ নেই। বৃহস্পতিবার বিধানসভার বাইরে বিক্ষোভ করেছে কংগ্রেস এবং জেডি(এস)। রাজ্যপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তারা বলছে, সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় সংখ্যা থাকলেও, তাদের সরকার গড়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। কংগ্রেস ও জেডি(এস)-এর আশঙ্কা, ১৫ দিন সময় পেয়ে যাওয়ায় তাদের বিধায়কদের ভাঙিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে বিজেপি।

টুইটে রাহুল গাঁধী বলেছেন, ‘‘ভারতের সংবিধান নিয়ে উপহাস করল বিজেপি। অন্তঃসারশূন্য বিজয় নিয়ে যখন উত্‌সব পালন করছে বিজেপি, সেই সময় দেশের মানুষ কিন্তু গণতন্ত্রের উপর আঘাতের ঘটনায় শোক পালন করছে।’’

এদিকে ইয়েদুরাপ্পাকে ঘিরে দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে  গেরুয়া দল বিজেপি। তার শাসনকালে রাজ্যে ফের স্বর্ণযুগ ফিরে আসতে চলেছে বলে এদিন টুইট করে বিজেপি৷ তবে এত কিছুর পরেও আশঙ্কা একটা থেকেই যাচ্ছে৷ তা হল মুখ্যমন্ত্রী পদে আদৌও তিনি এবার তাঁর মেয়াদ পুরো শেষ করে উঠতে পারবেন কিনা৷ কেননা অতীত বলছে এর আগে দু’ বার তিনি মেয়াদ শেষের আগেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন৷

ইয়েদুরাপ্পা দু’ বার মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেছিলেন৷ কিন্তু প্রথম বারের মেয়াদ ছিল মাত্র সাত দিন৷ ২০০৭ সালের ১২ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছিলেন ইয়েদুরাপ্পা৷ কিন্তু সাত দিনের মাথায় জেডি(এস) সরকারের উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয়৷ ১৯ নভেম্বর পড়ে যায় সরকার৷

তবে বেশিদিন তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি থেকে দুরে রাখা যানি৷ তার পরের বছরেই বিপুল জনাদেশ নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসে বিজেপি৷ দ্বিতীয়বার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন ইয়েদুরাপ্পা৷ তবে এবারও মুখ্যমন্ত্রীর কার্যকালের মেয়াদ সম্পূর্ণ করতে পারেননি তিনি৷ বেআইনি খননকার্জে জড়িত থাকার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন৷

তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী পদে তাঁর যাত্রা খুব একটা মসৃণ ছিল না৷ প্রাথমিক ঝড় ঝাপটা সহ্য করে মুখ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নিলেন ঠিকই৷ কিন্তু পুরো মেয়াদ পর্যন্ত পদ ধরে রাখা তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ৷ সেই পথে কাঁটা হয়ে উঠতে পারে কংগ্রেস৷ সুপ্রিম কোর্টে যে পিটিশন দাখিল করে ছিল রাহুলের দল তা খারিজ হয়নি৷ শুক্রবার সেই পিটিশনের শুনানি আছে৷ আপাতত সুতোয় ঝুলছে ইয়েদুরাপ্পার ভাগ্য৷

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত