প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এলআরবি’র ‘সেই তুমি’ ব্যবহার করে পাকিস্তানি অ্যাড!

ডেস্ক রিপোর্ট : ঘটনাটা গতকাল সন্ধ্যার। মিউজিশিয়ান নমন ফেসবুক ইনবক্সে একটি ভিডিও লিংক দিয়ে বললেন- ‘এলআরবি’র “সেই তুমি” কপি করেছে ভাই!’

ক্লিক করে দেখলাম আসলেই তাই। ফেসবুকে ‘বিজম্যাক্স টিভি’ নামের একটি পেইজে ‘ইয়ে হ্যায় পাঞ্জাব, মেরা পাঞ্জাবী’ শিরোনাম দিয়ে ৫৬ সেকেন্ডের একটি প্রমোশনাল ভিডিও আপলোড করা হয়েছে কয়েকঘন্টা আগে। সেখানে এলআরবি’র সবচেয়ে জনপ্রিয় গান ‘চলো বদলে যাই (সেই তুমি)’র ফ্লুট ভার্সনটা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমি লিংকটা দিলাম আইয়ুব বাচ্চুকে। তিনি রিপ্লাই দিলেন- ‘দেখেছি আমি একটু আগেই। নির্লজ্জের মতো হয়েছে ব্যাপারটা। অনেকেই ট্যাগ করেছে আমাকে, ইনবক্সেও দিয়েছে লিংক!’

দেখে প্রথমেই কী ভাবলেন? প্রশ্নটি করতেই দেশের লেজেন্ডারি এই মিউজিশিয়ান বললেন- ‘স্যাড ভেরি স্যাড! প্যাথেটিক অ্যান্ড আপসেটিং! আই ওয়াজ ফিলিং পিটি। যে-ই এটা বানিয়েছে এবং আমাদের মিউজিক ব্যবহার করেছে ক্রেডিট না দিয়ে- ব্যাপারটা খুবই দুঃখজনক। মিউজিকের প্রতি কোনো ধরণের রেস্পেক্ট দেখানো হয়নি এখানে। এই ফ্লুট ভার্সনটাতে ছেলেটা খুব ভালো বাজিয়েছে, ইউটিউবে দেখেছি আমি। কিন্তু সেও নিশ্চয়ই কোনো ইন্ডিয়ান অথবা পাকিস্তানি ফিল্ম মেকার শিল্পীকে ক্রেডিট না দিয়ে এই মিউজিকটি ব্যবহার করবে- সেই ভেবে আপলোড করেনি! অরিজিনাল শিল্পীর নামটা মনে করে উল্লেখ করলেই কিন্তু একটা সুন্দর জেশ্চার দেখানো হয়, শিল্পীকে সম্মান দেয়া হয়- এই ব্যাপারটা আমাদের সবারই মনে রাখা উচিত।’

এরপর আইয়ুব বাচ্চু যোগ করলেন- ‘আমরা নিজেরাই জিজ্ঞেস না করে অন্যের সব গান কভার করে ফেলি। কভার করা ঠিক আছে, কিন্তু কভার করে সেটি কোথাও আপলোড করার আগে অন্তত শিল্পীর ক্রেডিট এবং অন্যান্য ডিটেইলস দেয়া উচিত, যেহেতু গানটি তার নিজের নয়। তাতে করে মিউজিশিয়ানকে তাঁর প্রাপ্য সম্মানটা দেয়া হয়। যেহেত আমরা নিজেদের কৃতকর্মের প্রতি নিজেরাই যত্নবান নই, সেজন্যই হয়ত বাইরের মানুষরা এই অবৈধ সুবিধাটা নেয়! আমরাও কনসার্টে আমাদের প্রিয় ব্যান্ড বা শিল্পীর গান কভার করি। জিমি হেনড্রিক্সের ‘ফক্সি লেডি’ গানটি যখন গাই আমি কোনো শোতে, আমি কিন্তু প্রথমেই জিমি হেনড্রিক্সের নাম শ্রদ্ধার সঙ্গেই উল্লেখ করেই গানটি শুরু করি। যখন আমি পিঙ্ক ফ্লয়েড-এর গান কভার করি, আমি কিন্তু প্রথমেই নামটা বলে নেই। এটা একটা সাধারণ ভদ্রতা। শিল্পীকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান্টুকু দেয়া।’

পাকিস্তানের একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডের এই বিজ্ঞাপনের নীচে বাংলাদেশের অনেকেই মন্তব্য করেছেন এর বিরুদ্ধে। অনেকেই লিখেছেন- ‘গানের ক্রেডিট কই? এটি বাংলা গান। বাংলাদেশের ব্যান্ড এলআরবি’র ‘সেই তুমি’ গানের সুর। অন্ততপক্ষে শিল্পীকে সম্মান জানানো শেখেন, নামটি দেয়া উচিত ছিল।’

আরেকজন লিখেছেন- ‘বাংলাদেশ থেকে বিদায় করে দেয়ার পর সেই ৭১ এর পর থেকেই এরা চুরি করা শুরু করেছে!’

আরেকজন লিখেছেন- ‘আমাদের এই প্রিয় গানটি ব্যবহার করার অনুমতি কে দিয়েছে আপনাদের?’

এরকম হাজারো মন্তব্যে ভরা এই ভিডিওটি।

এর আগেও কলকাতার জনপ্রিয় একটি সিরিয়ালে ‘সেই তুমি’ গানটি কোনো প্রকার ক্রেডিট দেয়া ছাড়াই ব্যবহার করা হয়েছিল।

আমাদের দেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের লাইভ শোগুলোতে নতুন-পুরনো অনেক শিল্পীই অন্য শিল্পীদের গান কভার করেন। তাতে অরিজিনাল শিল্পীদের আপত্তি থাকে না, কেউ ভালো গাইলে তারা বরং বাহবাই দেন। সেখানে খুব কমই অরিজিনাল শিল্পীদের নাম উল্লেখ করেন তারা। অথচ মূল শিল্পী এবং গানটির সংশ্লিষ্ট সবার নাম বলে গানটি গাইলে দেখতেও ভালো লাগে। আর নতুনদের নিজেদের গানও গাওয়া উচিত। তৈরি করা উচিত নিজের গান। আগামীদিনের শিল্পী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হলে নিজেদের গান গাওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। আজকে যারা দেশ-বিদেশে জনপ্রিয় শিল্পী হিসেবে পরিচিত, তারা সবাইই কিন্তু নিজেদের গান গেয়েই আজকের এই শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ে এসেছেন তারা।

হয়ত একদিন নিজেদের গান গেয়েই শিল্পী পরিচয়ে পরিচিত হওয়ার চেষ্টা করবেন নতুনরা। হয়ত একদিন শিল্পী এবং গানের স্রষ্টার নাম উল্লেখ করেই তাদের গান কভার করবেন সবাই। অথবা কভার করা গানটি কোথাও শেয়ার করার আগে ক্রেডিট দিয়ে আপলোড করবেন। গাক না সবাই সবার গান, কিন্তু যার গান গাচ্ছে, সেই শিল্পীর নামটা অন্তত বলুক- শিল্পীদের চাওয়াতো এতটুকুই। সূত্র : নিউজজি২৪

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ