প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইরাক নির্বাচনে ১৮টির মধ্যে ১৬ প্রদেশে এগিয়ে সদর

ইমরুল শাহেদ : ইরাকের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ১৮টি প্রদেশের মধ্যে ১৬টিতেই এগিয়ে আছে শিয়া নেতা মুক্তাদার আল-সদরের এ্যালায়েন্স অব রিভল্যূশনারিজ ফর রিফর্ম। ইরাকের ইনডিপেন্ডেন্ট হাই ইলেকটোরাল কমিশন প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করলে প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-আবাদি দেশটির জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য ফোন করে স্বাগত জানিয়েছেন সদরকে। সদরের কার্যালয় থেকে মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতির বরাত দিয়ে রাশিয়ান গণমাধ্যম স্পুটনিক জানিয়েছে, ইরাকি প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানিয়েছে নির্বাচনি তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করার জন্য। ফোনে আবাদি নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেন এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই নির্বাচন হয়েছে বলে ফোনে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে জোটের কাছে ইরাকের পরাজয়ের পর এটাই হলো প্রথম সাধারণ নির্বাচন।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম হারেজ জানিয়েছে, মুক্তাদার আল-সদরই হলেন একমাত্র শিয়া নেতা যিনি একাধারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী এবং এ কারণেই তিনি ইরাকি দরিদ্র শিয়াদের কছে খুবই জনপ্রিয়।
ইরাকি প্রতিনিধি পরিষদের ৩২৯টি আসনের জন্য বিভিন্ন জোটের ছয় হাজার ৯০৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং নির্বাচিতরা দেশটির জন্য প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করবেন।

এই নির্বাচনে প্রায় এক কোটিরও বেশি লোক ভোট দিয়েছেন। কিন্তু ভোট কাস্টিংয়ের পরিমাণ ছিল কম। ৪৪ শতাংশ লোক ভোট দিয়েছেন। কিন্তু সদরের জোট নির্বাচনে এগিয়ে থাকলেও তিনি প্রধানমন্ত্রী হতে চান না। রাষ্ট্রক্ষমতা তিনি সরাসরি পরিচালনা না করলেও দেশটিতে তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে বিচরণ করবেন। যদি তিনি রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণও করেন তাহলে অনেকগুলো বিপত্তির সম্মুখীন হতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে, বর্তমান বিশ্ব রাজনৈতিক মঞ্চে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদের বিরোধিতা করে তিনি দেশ চালাতে পারবেন কিনা। এছাড়া তার জনপ্রিয়তা দরিদ্র শিয়াদের মধ্যেই। তিনি বনেদীদের প্রতি কি মনোভাব পোষণ, যেখানে রয়েছে সংস্কারের প্রশ্ন। এসব প্রশ্ন তুলেছে পাকিস্তানের গণমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

এই নির্বাচন মূলত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলার কারণে নির্বাচনে বিলম্ব ঘটেছে। এই যুদ্ধ গত ডিসেম্বর মাসে শেষ হলেও অন্যান্য স্থানগুলো পুনরুদ্ধারের জন্যই ছিল অপেক্ষা।
নির্বাচনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জনপ্রিয় মোবিলাইজেশন ইউনিটের সাবেক কমান্ডার হাদি আল-আমেরির নেতৃত্বাধীন ফাতাহ এ্যালায়েন্স। এবারের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-এবাদির নেতৃত্বাধীন ভিক্টোরি জোট রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে।

মুক্তাদা আল-সদর (জন্ম: ১২ই আগস্ট, ১৯৭৩) একজন ইরাকী ধর্মতত্ত্ববিদ, রাজনৈতিক নেতা এবং মিলিশিয়া কমান্ডার। ইরাকী সরকারে কোন বিশেষ পদে না থাকা সত্ত্বেও সদর ইরাকের রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় পরিম-লে প্রভাব বিস্তার করে রেখেছেন। এ ধরনের অন্য দু’জন ইরাকী নেতা হচ্ছেন: সুপ্রিম ইসলামিক ইরাকি কাউন্সিলের গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলি আস-সিস্তানি এবং আবদুল আজিজ আল-হাকিম। ইরাকি নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ