প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নবাবপুরে বাড়ি দখল নিতে ভাইকে পিটিয়ে জখম, মামলা না নেয়ার অভিযোগ

সুজন কৈরী : পুরান ঢাকার নবাবপুরে বাড়ি দখল নিতে বৃদ্ধ ও তার পরিবারের লোককদের পিটিয়ে জখম করেছে তারই ভাই-বোন ও স্বজনরা। এ ঘটনায় বৃদ্ধ আব্দুর রহমান, তার স্ত্রী মনি রহমান এবং ছেলে শাওন আহত হয়েছেন। পরে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেন।

আহতদের অভিযোগ, মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটলেও পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। তবে পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। মামলাগুলোতে ৬ জনকে গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার দুপুরে সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে আসেন বৃদ্ধ আব্দুর রহমান ও তার স্ত্রী মনি। তাদের হাত ও মাথায় ব্যান্ডেজ এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ছিল।

তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর তারা একাধিকবার থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মামলা করতে পারেননি। পুলিশ উল্টো হামলাকারীদের মামলা নিয়ে সেই মামলায় তাদের সন্তান শাওনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় দুই পক্ষই মামলা করেছে। দুই মামলায় দুই পক্ষের ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আব্দুর রহমান বলেন, এক সময় তার মামা খুব অসুস্থ ছিলেন। তার সেবা-যতœ করার মত কেউ ছিলো না। তিনি মামার সেবা করতেন। মামা মারা যাওয়ার সময় উত্তরাধিকার না থাকায় তাকে সম্পত্তি (বাড়ি ও জমি) দিয়ে যান। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করে স্ত্রী মনি, তার দুই সন্তান এবং আগের ঘরের দুই সন্তান নিয়ে ওই বাড়িতে থাকছেন। কিন্তু ভাই কেনান, বোন সেতারা প্রায়ই সম্পত্তির ভাগ চাচ্ছিলো। তাদের বলেছি, তৃতীয় তলা বিশিষ্ট ভবনটি আরো কয়েক তলায় বৃদ্ধি করে সবাইকে একটি করে ফ্ল্যাট দিবো। কিন্তু তারা তা মানছে না। মঙ্গলবার দুপুরে কেনান, সেতারা, তাদের মেয়ে জামাই আহাম্মদ, ছেলে আসলাম ও সালাম, ভাতিজা মিল্টন, ভাতিজী সুমি, সুমির মা মেরি দেশিয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। রড, হকস্টিক দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। দুই হাত ভেঙ্গে যায় এবং আঘাতে দাঁতও পড়ে যায়। তার স্ত্রী ও ছেলেকেও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

আহত মনি রহমান বলেন, ঘটনার পর মামলা করতে বংশাল থানায় গেলে পুলিশ বলে, আপনারা তো আহত। আগে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। আমরা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে মিন্টুরোড ডিবি কার্যালয়ে যাই। তারা আবার থানায় পাঠায়। তখন পুলিশ মামলা নিবে বলে বসিয়ে রাখে। সন্ধ্যার পর ছেলে শাওন ও মেয়ে শ্রাবনকে মামলা করতে থানায় রেখে তারা আবার হাসপাতালে যান। এই ফাঁকে হামলাকারীরা আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। পুলিশ তাদের মামলা নিয়ে থানায় বসে থাকা শাওনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার আতঙ্কে আহতাবস্থায় তারাও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

জানতে চাইলে বংশাল থানার ওসি সাহিদুর রহমান বলেন, পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই মামলা করেছে। মামলা নং ৩১, ৩২। তার দাবি, আব্দুর রহমানের ছেলে শাওন বাদী হয়ে মামলা করেছে। সেই মামলায় শওকত আলী, কেনান, সেতারা, আসলাম ও সুমনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর শওকতদের মামলায় শাওনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুই মামলায় গ্রেফতার সবাইকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত