প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোজার আগেই বাজার চড়া, হতাশ ক্রেতারা

মাসুদ মিয়া: আজ বুধবার চাঁদ দেখা না গেলে শুক্রবার থেকে শুরু হবে পবিত্র রহমজান মাস। কিন্তু রোজার আগেই রাজধানীতে অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম চড়া। ফলে হতাশায় সাধারণ ক্রেতারা। অধিকাংশ সবজির দাম প্রায় দ্বিগুন হয়েছে। দেশে যেসব পণ্যের বাড়তি চাহিদা থাকে, সেগুলোর আন্তর্জাতিক বাজার দর কমেছে। কিন্তু দেশের মানুষ এর সুফল পায়নি। বরং কিছু কিছু পণ্যের দাম উল্টো বেড়েছে।

পবিত্র রমজান মাসে পাইকারি ও খুচরা বাজারে কেনাবেচার চাপ তৈরি হওয়ার পরই চিনির দর কেজিপ্রতি ৫ টাকা, পেঁয়াজ ১০-১৫ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা, রসুন ২০ টাকা ও আদার দর ২০ টাকা বেড়েছে। শুধু বেগুন, কাকরল ও পেঁপে নয় বাজারে এখন সব সবজির দামই চড়া। সিংভাগ সবজির কেজি ৫০ টাকার ওপরে। ৫০ টাকা কেজির নিচে মিলছে। তবে মরিচ, আলু, ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সব মিলিয়ে রোজার বাজারে ক্রেতাদের স্বস্তি পাওয়ার কথা, কিন্তু বাজারে অস্বস্তি বেড়েছে। নতুন মৌসুমের চাল বাজারে আসতে শুরু করায় মিনিকেট ও বিআর-২৮ জাতের চালের দর কেজিতে ৩-৪ টাকা কমেছে।

দেশের বাজারে গত কয়েক মাস প্রতি কেজি চিনির দর ৫৪-৫৫ টাকা ছিল। চলতি মাসের শুরুতে পাইকারি বাজারে সরবরাহে কিছুটা টান পড়ায় দাম কেজিতে প্রায় ৫ টাকা বেড়ে যায়। এখন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ৫৮-৬২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চিনি ও খাদ্যশিল্প করপোরেশন (বিএসএফআই) প্রায় ১ লাখ টন চিনি আমদানি করেছে। যদিও প্রতিষ্ঠানটি চিনির খুচরা দর নির্ধারণ করেছে কেজিপ্রতি ৬০ টাকা। ফলে বাজারে প্রভাব পড়ছে না।
বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া দেশি পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা।

ঢাকার বাজারে রসুন ও আদার দর কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের খুচরা দোকানে প্রতি কেজি চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা দরে, যা কিছুদিন আগেও ১০০ টাকা ছিল। অন্যদিকে ৬০ টাকার দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা দরে। পেঁয়াজের মতো রসুনেরও এখন ভরা মৌসুম।

বাজারে আদার দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা। পিরেরবাগের খুচরা বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম প্রতি কেজি চীনা আদা ১২০ ও দেশি আদা ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করছিলেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোজার কেনাবেচা শুরুর আগে আদার দর কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকা ছিল। এরপর দাম বেড়েছে।

ঢাকার ৯টি বাজারের তথ্য সংগ্রহ করে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানায়, ছোলার কেজি এখন ৭০-৮০ টাকা। মিরপুর বাজারে সব দোকান ভালোমানের ছোলা ৮০ টাকা কেজি চাইছেন বিক্রেতারা। দাম বাড়ার এ তালিকায় রয়েছে গাজর ও শসাও। গত সপ্তাহে ৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া গাজরের দাম বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা। আর ৩০ টাকার শসার দাম বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। তবে লাল শাক, সবুজ ডাটা শাক, পাট শাক, কলমি শাক আগের সপ্তাহের মতো ৫-১০ টাকা আটি বিক্রি হচ্ছে। পুইশাক বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়। গরুর মাংশ বিক্রয় হচ্ছে ৫০০ টাকা ও বয়লার মুরগী বিক্রয় হচ্ছে ১৫০ টাকা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ