Skip to main content

বর্তমান শিক্ষাটাকে আমি বলি বাণিজ্যিক শিক্ষা

বর্তমান শিক্ষাটাকে আমি বলি বাণিজ্যিক শিক্ষা। এই শিক্ষা কখনো মানুষের মনুষ্যত্ব অর্জন, জ্ঞানজিজ্ঞাসা, আত্মজিজ্ঞাসা ও অনুসন্ধিৎসার জন্য নয়। আমরা এখন যে শিক্ষা দেখছি তাতে পরীক্ষায় পাস করাটাই বড় কথা। এই বাণিজ্যিক শিক্ষায় ধরাধরিটা বড় বেশি। কোনো রকমে পাস করতে পারলেই উপরে কেউ থাকলে তাকে ধরাধরি করে চাকরি নিচ্ছে। আরেকটা বিষয় হলো বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার কোনো কার্যকারিতা নাই। আমার এক ভাইপো প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপত্যবিদ্যায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েছে। কিন্তু এখন সে একটা ব্যাংকের কেরানি। আমাদের শিক্ষার্থীরা পাশ করে বের হয় ঠিক। কিন্তু তারা সাবলম্বী হয়না। হয় পরগাছা। দেশের মাটির সাথে এই শিক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই। এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়েছে এমন একজন একজন আমার বাসায় এসেছিল। তাকে জিজ্ঞাস করলাম, মুক্তিযুদ্ধ কার বিরুদ্ধে হয়েছিল? সে আমাকে উত্তর দিলো মুক্তিযুদ্ধ ইংরেজের বিরুদ্ধে হয়েছিল। এর বুঝা যায় আমাদের শিক্ষার মান কেমন? এই শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি পাল্টাতে হবে। দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, এই টাকাটা কার? শিক্ষার কথা হওয়ার কথা ছিল সর্বজনীন। যারা গরীব মানুষ তাদের খাজনার টাকায় শিক্ষার খরচ চালানো হচ্ছে। সেই শ্রমজীবী মানুষের কাছে আমরা শিক্ষাকে নিতে পারিনি। শিক্ষাকে সবার কাছে নিতে না পারাটা বা শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণ করাটাই শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। বাণিজ্যিক শিক্ষায় মানুষের মন, মানসিকতা বা আত্মীক বিকাশ ঘটতে পারেনা। পরিচিতি: সাবেক অধ্যাপক, শাবি/মতামত গ্রহণ: মো. এনামুল হক এনা/সম্পাদনা: খন্দকার আলমগীর হোসাইন

অন্যান্য সংবাদ