প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আবারো শুল্ক ছাড়াই ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা নিচ্ছে ভারত

মাছুম বিল্লাহ : দেশের জলপথ ও স্থলপথ ব্যবহার করে কয়েক দফায় ফ্লায়েস, রড, স্টীল সীট, চাল পরিবহনের পর আবারো শুল্ক ছাড়াই ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা নিচ্ছে ভারত। তবে এসব পণ্য পরিবহনে বাংলাদেশ ভয়েজ পারমিশন ফি, পাইলট অবস্থান ফি, ল্যান্ডিং ফি, চ্যানেল চার্জ, নিরাপত্তা ফি বাবদ প্রতিটনে ১৯২ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ।

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৭৩১টন স্টীল পাইপ যাচ্ছে। ইতোমধ্যে গত রোববার রাতে একটি ভারতীয় জাহাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দরের কাছে মেঘনা নদীতে নোঙ্গর করেছে। কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী শনিবার থেকে এসব স্টীল পাইপ আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ত্রিপুরার আগরতলা পাঠানোর কথা রয়েছে।

১৯৭২ সালের নৌ প্রটোকল চুক্তির ট্রান্সশিপমেন্ট এর আওতায় জলপথ ও স্থলপথ ব্যবহার করে এই স্টীল পাইপ নিচ্ছে ভারত। এই চুক্তির আওতায় এর আগে মানবিক কারণ দেখিয়ে ভারত প্রথমে পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভারী যন্ত্রাংশ ও পরে কয়েক দফায় ফ্লায়েস, রড, স্টীল সীট, চাল পরিবহন করেছে ।

নৌবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়া বন্দর থেকে পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৭৩১ টন স্টীল পাইপ নিয়ে ছেড়ে আসে ভারতীয় জাহাজ এমভি মহাদেব। গত ৩০ এপ্রিল এমভি মহাদেব বাংলাদেশের জল সীমানায় প্রবেশ করে এবং রোববার রাতে আশুগঞ্জ নৌবন্দরে পৌঁছে। জেলা কাস্টমস কর্মকর্তা ও নৌবন্দর কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে আগামী শনিবার জাহাজটির সিলগালা খোলে এসব স্টীল পাইপ জাহাজ থেকে খালাস করে ট্যাংকলরিতে করে ত্রিপুরায় পাঠানো হবে। বাংলাদেশের গালফ ওরিয়েন সিওয়েজ নামে একটি শিপিং এজেন্ট এই পাইপ পরিবহন ঠিাকাদার হিসেবে কাজ করছে। ভারতের কলকাতা থেকে ত্রিপুরা রাজ্যে স্টীল পাইপ পরিবহনে বাংলাদেশের ৪‘শ কিলোমিটার নৌপথ ও ৫০ কিলোমিটার সড়কপথ এবং আশুগঞ্জ নৌবন্দর ও আখাউড়া স্থলবন্দর ব্যবহার করছে ভারত।

এ ব্যাপারে গালফ ওরিয়েন সিওয়েজ শিপিং এজেন্টের লজেস্টিক ম্যানেজার মো. নুরুজ্জামান জানান, পালাটানা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১৭৩১টন স্টীল পাইপ নিয়ে এমভি মহাদেব নামে একটি ভারতীয় জাহাজ রোববার আশুগঞ্জ পৌঁছেছে। কাস্টমস আনুষ্ঠানিকতা শেষে শনিবার থেকে এসব পাইপ ট্যাংকলরি দিয়ে ত্রিপুরায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আশুগঞ্জ নৌবন্দরের পরিদর্শক মো. শাহ আলম বলেন, ১৯৭২ সালের ট্রান্সসিপমেন্ট চুক্তির আওতায় এসব পাইপ আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ত্রিপুরায় নেওয়া হচ্ছে। এই পাইপ পরিবহনে বাংলাদেশ প্রতিটনে ভয়েজ পারমিশন ফি, পাইলট অবস্থান ফি, ল্যান্ডিং ফি, চ্যানেল ফি, নিরাপত্তা ফি সহ প্রতিটনে ১৯২ টাকা পাবে। তবে কোন প্রকার শুল্ক দিচ্ছে না ভারত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ