প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘শান্তিচুক্তি বিরোধীদের সুযোগ দেওয়া যাবে না, ক্ষোভগুলো এড্রেস করতে হবে’

আশিক রহমান : পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে শান্তিচুক্তি পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেকেরা। তাদের মতে, পার্বত্য অঞ্চলে রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বারোপ, আধিপত্য বিস্তার ও সংঘাত সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোনোভাবেই পার্বত্য শান্তিচুক্তি বিরোধীদের সুযোগ দেওয়া যাবে না অশান্তি সৃষ্টি করার, তাই ক্ষোভগুলো এড্রে করতে হবে।

অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সিকিউরিটি সিস্টেমের দুর্বলতার কথাও বলছেন তারা। নিরাপত্তা বিশ্লেষক ¬ব্রি. জে. (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেনের মতে, পাহাড় অশান্ত ও সহিংসতার কারণ তাদের নেতৃত্বের ইন্টারন্যাল ক্রাইসিস। পাহাড়ে এখন যে সিকিউরিটি সিস্টেম রয়েছে তার দুর্বলতা। তিনি বলেন, পাহাড়ের সিকিউরিটি তো এখন আর সেনাবাহিনীর সিকিউরিটির মধ্যে নেই। সেনাবাহিনীকে তো বিভিন্ন জায়গা থেকে উইথড্র করে নেওয়া হয়েছে। এখন যারা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রয়েছেন তারা কতখানি পাহাড় সম্পর্কে, পাহাড়ে সিকিউরিটি দেওয়ার ব্যাপারে অভিজ্ঞতা রাখে সেটা দেখার বিষয় । আগে সেনাবাহিনী রাস্তা পাহাড়া দিত, চেকপোস্ট বসাত, অস্ত্র খোঁজাখুঁজি করত। এখন এত অস্ত্র কোথা থেকে আসছে, কে আনছে, কে কে দিচ্ছে তা বের করতে হবে বলেও মনে করেন এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মে. জে. (অব.) আবদুর রশিদ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে অনেক গ্রুপ ও উপগ্রুপ আছে। যারা শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করছে। দেশের স্বাধীনতাকেও স্বীকার করে না। এ ছাড়া নিজেদের দলকে ভারি করতে সাধারণ মানুষকে অত্যাচার ও নিপীড়ন করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। নিজেদের প্রভাবের জানান দিতে হত্যাকা- ও রক্তপাতের ঘটনাও ঘটাচ্ছে। এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখাতে হবে।

মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক বলেন, ১৯৮০ থেকে ৮২ সাল পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে লাম্বা ও বাডি গ্রুপের মধ্যে যুদ্ধ হয়েছিল। এটা একপ্রকার গৃহযুদ্ধ ছিল। শন্তু লারমা বর্তমানে ২১ বছর নেতৃত্বে। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব তৈরির পথ সুগম করতে পারেনি। তিনি নিজেই সেটির বাধা। শন্তু লারমা নিজেই জানেন না, ক্ষমতা থেকে চলে গেলে তার কী গতি হবে। অর্থাৎ বিদ্রোহী গ্রুপগুলো সরকারের উপরও বিক্ষুব্ধ, ক্ষমতাসীন শান্তিবাহিনীর সাবেক নেতাদের ওপরও বিক্ষুব্ধ।
পার্বত্য অঞ্চলে একদল শান্তিচুক্তি চায়, অন্যদল বিরোধীতা করছে বলে মনে করেন এয়ার কমোডর (অব.) ইসফাক ইলাহি চৌধুরী। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরেই শান্তিচুক্তি পক্ষ ও বিরোধীদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। একদল শান্তিচুক্তিকে সমর্থন করেছে, অন্যদল করেনি। নিজেদের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। সামনে যেহেতু নির্বাচন, উভয় গ্রুপ চাইবে তাদের প্রভাব বলয় বৃদ্ধি করতে। তিনি বলেন, পাহাড়ি এবং বাঙালিদের মধ্যে সম্পর্ক উন্নতি করার জন্য কাজ করা উচিত। কারণ শান্তিচুক্তিবিরোধীরা নির্বাচনের আগে চেষ্টা করবে তা যেন বিঘিœত হয়। পার্বত্য শান্তিচুক্তির যেসব ধারাগুলো এখনো ইমপ্লিমেন্ট করা যায়নি বিলম্ব না করে বাস্তবায়ন করা উচিত বলেও মনে করেন এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত