প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘কোথাও না কোথাও একটা ভুল হচ্ছে’

ইরফান সাজ্জাদ। বর্তমান সময়ের একজন জনপ্রিয় অভিনেতা। ছোট পর্দার সফলতা ছাড়িয়ে এই তারকা আলোর দ্যুতি ছড়িয়েছেন বড়পর্দাতেও। শ্রাবণী ফেরদৌস পরিচালিত ‘প্রতিবেশিনী’ নাটকের সেটে তার ক্যারিয়ার, ব্যস্ততা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার আদ্যোপন্ত শুনেছেন ইমতিয়াজ মেহেদী হাসান। ক্যামেরায় ছিলেন নয়ন জান।

মেকাপ রুমে ধুতি ঠিক করছিলেন ইরফান। প্রতিবেদককে দেখেই একগাল হেসে বললেন, কেমন আছেন? একটু বসবেন প্লিজ, আমি কস্টিউম ঠিক করে আসি? এরপর সে কী তাড়া! রকেটের বেগে মিনিট তিনেকের মাথায় সেটে হাজির তিনি। রবীন্দ্রবেশে বেশ কিছু সময় অভিনয় শেষে এলো টি-ব্রেক। নির্মাতা জানালেন, পাঁচ মিনিট সময়। এর মধ্যে জোন চেঞ্জ করে বারান্দায় যেতে হবে। তার মধ্যে যেন নাস্তা সেরে নেয় সবাই। ইরফান সুবোধ বালকের মত মাথা নেড়ে ‘সম্মতি’ জানিয়ে প্রতিবেদককে বললেন, ভাই দ্রুত বলেন। শুনলেন তো আপা কী বললেন। হাতে কিন্তু মাত্র পাঁচ মিনিট।

শুরু হলো ক্যারিয়ার, ব্যস্ততা, ইন্ডাস্ট্রির হালচাল ও তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নানা প্রশ্ন। প্রথমেই  ইরফান সাজ্জাদ নির্মাতা শ্রাবণী ফেরদৌসের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আপুকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা এমন সুন্দর একটা কাজে আমাকে সম্পৃক্ত করার জন্য। আর তার নির্মাণশৈলী নিয়ে কী বলব! তিনি যতটা না সুন্দর লিখেছেন তার থেকে সুন্দর ও যত্ন করে ‘প্রতিবেশিনী’ নাটকটি নির্মাণ করছেন। আপুর আসলে জবাব নেই।

আসন্ন রবীন্দ্র জয়ন্তী উপলক্ষে চারটি কাজের অফার পেয়েছিলেন ইরফান। কিন্তু সময়স্বল্পতার কারণে সবগুলোতে কাজ করা হয়নি তার। তিনি বলেন, অনেকগুলো অফার পেলেও শিডিউল না মেলায় আর করা হলো না কাজগুলো। তবে হ্যাঁ, এতটুকু গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আমার করা এ অবধি রবীন্দ্রনাথের কাজের মধ্যে এটি অন্যতম ‘সেরা’ একটি কাজ হতে যাচ্ছে। আর আমার সহশিল্পী হিসেবে সাদিয়া জাহান প্রভা যে অভিনয় করেছে, তা দেখে মনে হয়েছে এই চরিত্রটির জন্য সে-ই পারফেক্ট। অন্য কেউ এতো সুন্দর করে এটি করতে পারতো না। সি ইজ এ ট্রেমেন্ডারেস এক্ট্রেস। আই অ্যাম ব্লেসেড টু ওয়ার্ক উইথ হিম।

ক’দিন বাদেই রোজা। এরপর খুশীর ঈদ। সে উপলক্ষে নির্মাতারা ইতোমধ্যে নির্মাণে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পিছিয়ে নেই ইরফানও। তিনি বললেন, ঈদের জন্য এ পর্যন্ত বেশ কিছু কাজ করেছি। তবে এই মুহুর্তে সঠিক পরিসংখ্যান বলতে পারবো না, মনে নেই। অপেক্ষা করছি আরও কিছু ভালো গল্পের, যেগুলো ঠিক মনের মতো।

এই তারকা ধারাবাহিক নয়, আপাতত একক নাটকেই ব্যস্ত। অবশ্য এর কারণও জানালেন তিনি। ইরফান বলেন, ধারাবাহিক মানে দীর্ঘ সময় স্ক্রীণে থাকা। এর অর্থ পরিচালক এবং প্রোডাকশনের সঙ্গে কমপক্ষে এক বছর সময় টানা থাকা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আমার কিছু প্ল্যানিং আছে। এমনও হতে পারে টানা পর্দাতে আমাকে নাও দেখা যেতে পারে। তাই চাইনা আমার কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হোক।

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ব্যতিক্রমী কাজে বুঁদ হয়ে আছেন ইরফান। জানালেন এর অন্তরহস্যও। তিনি বলেন, অনেস্টলি বলতে গেলে শুরু থেকেই চেষ্টা করেছি ডিফরেন্ট কিছু করার। তবে ঠিক কতটুকু পেরেছি কিংবা পারছি জানিনা। শুধু এতটুকু বলবো, সে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

কথোপকথনের ফাঁকে পার্শ্ববর্তী মসজিদ থেকে ভেসে এলো জুম্মার নামাজের আজান। নামাজ আদায় করে আসছি বলে নির্মাতা শ্রাবণী ফেরদৌসের স্বামী পরিচালক শুভ্র খানকে নিয়ে তিনি ছুটলেন মসজিদে। নামাজ শেষে ফের যোগ দিলেন প্রতিবেদকের সঙ্গে। এবার শুরু হলো ইন্ডাস্ট্রির হালচাল নিয়ে আলোচনা।

ইরফান বলেন, টিভি নাটকের দর্শক আগেও ছিলো। এখনো আছে। মাঝে একটা সময় খারাপ যাবে, এটা অস্বাভাবিক নয়। কারণ ভালো-খারাপ দুটি জিনিস সবক্ষেত্রেই থাকে। এই যে এখন মানুষ ইউটিউবে মানুষ বিরতিহীন নাটক দেখছে। বিষয়টিকে আমি পজেটিভলি দেখি।

এই তারকা বলেন, বিষয়টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কারণ দর্শক নিরবিচ্ছিন্নভাবে নাটক দেখছেন। যখন খুশি তখন দেখছেন। সেটা হতে পারে চলতি পথে, অবসরে কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজের ফাঁকে। এ থেকে প্রমাণিত হচ্ছে নাটক মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে। তারা আমাদের কাজকে গ্রহণ করছেন।

দর্শক ধরে রাখতে বিজ্ঞাপনের একটা সুনির্দিষ্ট একটা নীতিমালা হওয়া জরুরি বলেও মনে করেন এই অভিনেতা। তিনি বলেন, যাতে চ্যানেল-নির্মাতা কিংবা প্রযোজক ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিক বিবেচনা করে একটা যুতসই নীতিমালা হওয়া প্রয়োজন। তাহলে দর্শক তৃপ্তি নিয়ে টিভি নাটক দেখতে পারবেন।

ছোট পর্দার সফলতা মাড়িয়ে বড় পর্দাতেও আলোর দ্যুতি ছড়িয়েছেন ইরফান সাজ্জাদ। কিন্তু বড় পর্দাতে এখন হুট করেই আর অভিনয় নয় জানিয়ে এই শোবিজ তারকা বলেন, হুট করেই এখন বড় পর্দায় আর কাজ নয়। আমার কিছু নিজস্ব প্ল্যানিং আছে। গল্প, ক্যারেক্টার ‘ভালো’ হলেই কাজ করবো। তার আগে নয়। ইতোমধ্যে বেশকিছু অফার পেয়েছি। কথা হচ্ছে। ভাবছি। ব্যাটে-বলে মিলে গেলে আমাকে বড় পর্দায় দেখা গেলেও দেখা যেতে পারে।

নিজের দেশের ইন্ডাস্ট্রিকে মার্কিংয়ে দশে দশ দেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কোন কিছুতেই কমতি নেই। এখানে প্রচুর ট্যালেন্ট আছে। নির্মাতা-শিল্পী-টেকনিশিয়ান সবখানেই। কিন্তু সমস্যা এক জায়গাতেই। সেটার প্রপার ইউটিলাইজ হচ্ছে না। আমার মনে হয় প্ল্যানিং কিংবা ডিসিশনে আমাদের কোথাও না কোথাও ভুল হচ্ছে। আর এই ভুলটা কাটিয়ে উঠতে পারলেই আমরা সমৃদ্ধ থেকে আরো সমৃদ্ধ হবো।

কখন যে পাশে এসে প্রোডাকশন বয় দাঁড়িয়েছে, তা প্রতিবেদক কিংবা ইরফান কেউই জানেন না। নির্মাতার ‘মিষ্টি’ কড়া নির্দেশ, দুপুরের খাবার খেতে এখনই মেকাপ রুমে সবাইকে ডাকা হয়েছে। না গেলেই নির্ঘাত বকাঝকা! সে শংকা কাটাতে দু’জনারই সেখানে যাওয়া। এরপর খাওয়া শেষে পুনরায় আলাপন শুরু। এবারের বিষয় অত্র নাটকের নির্মাতা শ্রাবণী ফেরদৌস।

ইরফান বলেন, আপুর সঙ্গে ইতোপূর্বে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। তার নির্মাণ নিয়ে বলার দুঃসাহস আমার নেই। শুধু এতটুকু বলব, সাধারণ বিশেষণেই বলব- ‘তিনি অসম্ভব ভালো একজন নির্মাতা, তার তুলনা তিনি নিজেই। আর সঙ্গে কাজ মানেই নিজের হোমগ্রাউন্ডে কাজ করা। যেখানে রাগ-হাসি-ঠাট্টা-অভিমান সবকিছুরই সুযোগ থাকে। আর থাকে আপুর ‘মিষ্টি’ শাসন। তাই তার সঙ্গে কাজের সুযোগ এলে সে সুযোগ সহজে হাতছাড়া করিনা। এটা বলতে পারেন অনেক লোভ আমার। আর এই লোভটা যেন আজীবন থাকে সেই দোয়া করবেন।

সূর্য ততক্ষণে পশ্চিম আকাশে হেলে পড়েছে। পাখিরা নীড়ে ফেরার মাদকতায় বিভোর। তাদের সঙ্গে যোগ দিলেন এই প্রতিবেদকও। তবে এই ফেরায় শেষ ফেরা নয়, আবারো দেখা হবে। জমবে প্রশ্নোত্তর আর আড্ডাপর্ব। সে আশায় আজ এ পর্যন্তই। সবার জন্য শুভকামনা। সঙ্গে ইরফানের জন্য ভালোবাসা।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত