প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জয় ধরে রাখতে চায় আ’লীগ বিএনপিতে বুলুর পাল্লাই ভারি

ডেস্ক রিপোর্ট : জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলা নিয়ে নোয়াখালী-৩ আসনে নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। নানা অসিলায় তারা ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন এবং দোয়া নিচ্ছেন। যোগ দিচ্ছেন সভা-সমাবেশ, ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে। নেতাদের কাছে দলীয় কর্মীদেরও কদর বেড়েছে। প্রার্থীদের তৎপরতা দেখে আগ্রহী হয়ে উঠেছে ভোটাররাও। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে নির্বাচনী এলাকা। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী থাকলেও একক প্রার্থী নিয়ে স্বস্তিতে রয়েছে জাতীয় পার্টি।

উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৩ আসনটি মূলত বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে নব্বইয়ের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০১৪ সাল পর্যন্ত ছয়টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে ৫টিতেই জয় পান বিএনপির প্রার্থীরা। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারির বিতর্কিত নির্বাচনসহ চারটিতে (১৯৯১, ৯৬ ও ২০০৮) বিজয়ী হন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লা বুলু। আগামী নির্বাচনেও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে এই হেভিওয়েট প্রার্থীর পাল্লাই ভারি। ২০০১ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ নিয়ে এ আসনে বিজয়ী হন বিশিষ্ট শিল্পপতি এমএ হাসেম। সবশেষ ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচনে বিজয়ী হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ কিরণ। আগামী নির্বাচনেও তিনি দলের শক্তিশালী প্রার্থী।

বিএনপির দুর্গে শাসক দল আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে দলটির জন্য। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এলাকাবাসী আওয়ামী লীগের দুই গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও প্রত্যক্ষ করেছে। বিদ্যমান এ বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি মামুনুর রশিদ কিরণ ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মিনহাজ আহমেদ জাবেদ মনোনয়নপ্রত্যাশী।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে চারবারের সাবেক এমপি বরকত উল্লাহ বুলু ছাড়াও রয়েছেন বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম এবং সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ও জেলা বিএনপির সদস্য শামীমা বরকত লাকী। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, মামলার কারণে আইনি মারপ্যাঁচে পড়ে বরকতউল্লা বুলু যদি নির্বাচন করতে না পারেন তাহলে আমরা তার স্ত্রী বিএনপি নেত্রী শামীমা বরকত লাকীকে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চাই।

জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তিনি হচ্ছেন কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বেগমগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি নজরুল ইসলাম।

প্রত্যাশিত উন্নয়ন না করার অভিযোগ রয়েছে বর্তমান এমপি মামুনুর রশিদ কিরণের বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা বলেছেন, মামুনুর রশিদ উন্নয়নের যে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিলেন তা তিনি রক্ষা করতে পারেননি। সারা দেশে আ’লীগ সরকারের উন্নয়নের যে জোয়ার বইছে সেদিক থেকে নোয়াখালী-৩ আসনের মানুষ বঞ্চিত।

নির্বাচনী ভাবনা নিয়ে কথা হয় আওয়ামী লীগ নেতা বর্তমান এমপি মামুনুর রশিদ কিরণের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, গত ৪ বছর রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কাজ না করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী কাজ করে এলেও আমার প্রতিপক্ষ অপপ্রচারে মেতে উঠেছে। বেগমগঞ্জে আ’লীগ নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। কারও সঙ্গে কারও কোনো বিভেদ নেই। সবাই নৌকার জন্য কাজ করছে। এলাকার সর্বত্র আওয়ামী লীগ সংগঠিত। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা ও উঠান বৈঠক অব্যাহত রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করব ইনশাআল্লাহ। কথা হয় উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক বাদশার সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনের জন্য আ’লীগ প্রস্তুত। আগামী নির্বাচনে মামুনুর রশিদকে নৌকা প্রতীক দেয়া হলে এ আসনটি ধরে রাখা সম্ভব হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে কথা হয় জেলা আ’লীগের সহসভাপতি ও মনোনয়নপ্রত্যাশী মিনহাজ আহমেদ জাবেদের সঙ্গে। বিশেষ করে ২০০৭ ও ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বিরাজ করায় তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশকিছু উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। মিনহাজ আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এ আসনে বিভিন্ন খাতে যে উন্নয়ন হয়েছে সেখানে আমার বড় ভূমিকা রয়েছে। তিনি বলেন, আমার প্রচেষ্টায়ই আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ নির্মাণ ও ৫০০ শয্যার জননেতা নুরুল হক হাসপাতাল থেকে শুরু করে বহু মসজিদ-মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে। এছাড়া সড়ক, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ ও মেরামতে কাজ হয়েছে। আগামী নির্বাচনে মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মনোনয়ন পেলে জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি। বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, নানামুখী চাপে থাকার পরও বেগমগঞ্জে বিএনপির ভিত এখনও শক্ত। গত উপজেলা নির্বাচনেও বিএনপি প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম বিজয়ী হন। সহসভাপতি হিসেবে বিজয়ী হন জামায়াত নেতা বোরহান উদ্দিন। ফলে সুষ্ঠু ভোট হলে এ আসনে ধানের শীষ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।

জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কামাক্ষা চন্দ্র দাস যুগান্তরকে বলেন, বেগমগঞ্জে বরকতউল্লা বুলুর বিকল্প নেই। উপজেলার মাটি ও মানুষের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক। মানুষের সুখ-দুঃখে সব সময় তাকে পাওয়া যায়। উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল গনি মান্না যুগান্তরকে জানান, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আমরা প্রস্তুত। বরকতউল্লা বুলু কয়েক মাস ধরে চৌমুহনী পৌরসভা, ছয়ানী, রাজগঞ্জ ও বিভিন্ন ইউনিয়নসহ নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ ও মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছেন। উপজেলা, পৌরসভা ও প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের শক্ত কমিটি রয়েছে। চৌমুহনী পৌর বিএনপির সভাপতি জহিরুদ্দিন হারুণ যুগান্তরকে বলেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে একাদশ নির্বাচন করতে বিএনপি প্রস্তুত। আগামী নির্বাচনে আমরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হব ইনশাআল্লাহ। একই কথা বলেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন।

আগামী নির্বাচন নিয়ে কথা হয় বিএনপি নেতা বরকতউল্লা বুলুর সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ভালোবেসে খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করতে বিএনপিতে আছি। আ’লীগের সমালোচন করে তিনি বলেন, দলটি প্রতিহিংসার রাজনীতি করে বলেই আমার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ২০-২৫টি মিথ্যা মামলা দিয়েছে। বিএনপি আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে করতে প্রস্তুত। নির্বাচন সামনে রেখে এলাকায় নেতাকর্মীদের নিয়ে গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা ও উঠান বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছি। এ আসন থেকে বড় ব্যবধানে ৪ বার এমপি হওয়ায় তৃণমূলের প্রতিটি মানুষের সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। এলাকার ভোটারদের প্রতি আমার আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। মনোনয়ন ও জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

জানতে চাইলে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও বেগমগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম যুগান্তরকে জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। গণসংযোগ, মতবিনিময় সভা, উঠান বৈঠক ও কর্মী সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল আমাকে মনোনয়ন দিলে ভোট করব।

কথা হয় জাতীয় পার্টির প্রার্থী নজরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ৩৭ বছর ধরে আমি জাতীয় পার্টিতে আছি। এলাকায় মানুষ এখনও দলের চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচএম এরশাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ভুলতে পারেনি। জাতীয় সংসদ সামনে রেখে গণসংযোগ করছি। দল এ আসনে মনোনয়ন দিলে নেতাকর্মীদের নিয়ে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে নোয়াখালী-৩ আসনটি এরশাদকে উপহার দিতে পারব। সূত্র : যুগান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত