প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খুলনায় অভিন্ন প্রতিশ্রুতি

ডেস্ক রিপোর্ট : জলাবদ্ধতা নিরসন, মাদক, সন্ত্রাস ও যানজটমুক্ত খুলনা উপহার দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীরা। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছেন তারা। পাশাপাশি গণমানুষের রায় মেনে নির্বাচিত মেয়রকে সার্বিক সহযোগিতা করে খুলনার উন্নয়নে সর্বদা সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি জ্ঞাপন করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে খুলনা প্রেস ক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে কেসিসির মেয়র প্রার্থীদের নিয়ে জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের ২য় পর্বে জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে জনগণের প্রত্যাশা নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেন মেয়র প্রার্থীগণ।

সংগঠনের সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামানের সঞ্চালনায় মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তালুকদার আবদুল খালেক, মো. মিজানুর রহমান বাবু, মাওলানা মো. মুজাম্মিল হক এবং এস এম শফিকুর রহমান মুশফিক।

এদিকে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ মোশাররফ হোসেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেককে সমর্থন জানিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। রোববার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে তিনি লিখেছেন, খুলনার উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য আওয়ামী লীগ মনোনীত তালুকদার আবদুল খালেকই যোগ্য প্রার্থী।

একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের সভাপতি হয়ে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর প্রতি সমর্থন ও আস্থা আগেভাগেই প্রকাশ করে দেয়া নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তার সভাপতিত্বে পরিচালিত অনুষ্ঠান কতটা নিরপেক্ষ ও বস্তনিষ্ঠ হবে এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এ অভিযোগে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি আয়োজিত এ অনুষ্ঠান বর্জন করেন। অনুষ্ঠানে উন্নয়ন কমিটির পক্ষ থেকে কেসিসি উন্নয়নে মেয়র প্রার্থীদের ২১ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের ১ম পর্বে লটারির মাধ্যমে সকল মেয়র প্রার্থী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজ নিজ বক্তব্য তুলে ধরেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের এস এম দাউদ আলী, সহ-সভাপতি মো. নিজামউর রহমান লালু, শাহিন জামাল পন, মো. ফজলুর রহমান, অ্যাডভোকেট শেখ আবুল কাশেম, অধ্যাপক মো. আবুল বাসার, মামনুরা জাকির খুকুমনি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ। অনুষ্ঠানটি খুলনা ভিশন এ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

খালিশপুর শিল্পাঞ্চল পুনরুজ্জীবনে পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস মঞ্জুর
কেসিসি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ও ২০ দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, আজ্ঞাবহ আদালতকে ব্যবহার করে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। দেশমাতাকে কারামুক্ত করে অবরুদ্ধ গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সংগ্রামকে বেগবান করতে কেসিসি নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করুন।

সিটি নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল সকালে নগরীর ১৮নং ওয়ার্ডের সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল, ট্রাক টার্মিনাল, কাঁচাবাজার এবং সংলগ্ন সকল এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি এ আবেদন জানান। তিনি বলেন, সরকার পাটকল শ্রমিকদের সঙ্গে প্রহসন করছে। তাদেরকে ন্যায়সঙ্গত মজুরি ও ভাতা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ক্ষুধার জালায় অসহায় পরিবার পরিজনের মুখে খাবার তুলে দিতে শ্রমিকরা এখন রাজপথের আন্দোলনে। আসন্ন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হলে তিনি খালিশপুর শিল্পাঞ্চল পুনরুজ্জীবনে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।

ধানের শীষের পক্ষে কেন্দ্রীয় নেতা আলালের গণসংযোগ: আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে খুলনাবাসীকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, দেশ ও গণতন্ত্র আজ কঠিন সংকটে। এই সংকট থেকে উত্তরণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ভোটের লড়াইয়ে বিজয়ের কোনো বিকল্প নেই। গতকাল সকাল ১০টায় নগরীর রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে গণসংযোগ শুরু করেন তিনি। সেখান থেকে তিনি রূপসা ফেরিঘাট, টুটপাড়া, রূপসা স্ট্যান্ড রোড ও চানমারিতে গণসংযোগ করেন এবং জনগণের কাছে ধানের শীষে ভোট চান।

দলমতের ঊর্ধ্বে নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান খালেকের
খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত ও ১৪ দল সমর্থিত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক বলেছেন, খুলনা সিটি করপোরেশনের বয়স ২৮ বছর পার হলেও এখনো নগরবাসী অধিকাংশ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অথচ এর অধিকাংশ সময় মেয়রের দায়িত্বে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিলো বিএনপি। নগরীতে জলাবদ্ধতা, মশার উৎপাত, যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা, দুর্গন্ধ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা।

সিটি করপোরেশন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছিল বিএনপি’র শাসনামলে। তিনি রোববার সকালে দৌলতপুরে পৃথক তিনটি মতবিনিময় সভা ও গণসংযোগে এসব কথা বলেন। তালুকদার আবদুল খালেক বলেন, ‘আমাকে মেয়র নির্বাচিত করার পর মাত্র ৫ বছরে দৃশ্যমান অসংখ্য উন্নয়ন হয়েছে। রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে বেশ সাফল্য অর্জিত হয়েছিল।

আমার দায়িত্বকালে নেয়া প্রকল্পের মধ্যে স্বল্প মেয়াদী প্রকল্পের কাজগুলো শেষ হয়েছিল। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের কাজ চলছিল। ৫ বছরে খুলনা মহানগরীকে পরিকল্পিত ও উন্নত নগর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি।’ সে সময়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার সিটি করপোরেশনে সর্বাধিক এক হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ দিয়েছিলেন।

সকাল ৮টায় তিনি দৌলতপুর থানাধীন ৩নং ওয়ার্ডের মহসিন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়, পরে সরকারি দৌলতপুুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মতবিনিময়, মহসিন মোড়, সাতক্ষীরা রোডে গণসংযোগ ও বৃহত্তর মহেশ্বরপাশা জেনারেশন-২ এ মতবিনিময় করেন। সূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত