প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজধানীতে দুই সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যা

সুশান্ত সাহা : রাজধানীর মিরপুরের দারুস সালাম এলাকার একটি বাসা থেকে দুই কন্যা সন্তানসহ মায়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই শিশুদের হত্যার পর মা আত্মহত্যা করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতরা হলেন জেসমিন আক্তার (৩৫), তার দুই মেয়ে হাবিবা তাসমীন হিমি (৯) ও হাদিবা (২)।

সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সরকারী বাঙলা কলেজ সংলগ্ন পাইকপাড়ায় সরকারি আবাসিক কলোনির সি টাইপ এর ১৩৪ নম্বর ভবনের চতুর্থ তলার একটি বাসা থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে পাঠায় পুলিশ।

জানা গেছে , জেসমিন আক্তার মাইগ্রেনের রোগি ছিলেন। তিনি মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না। নিজের জীবন নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। আর মারা গেলে সন্তানদেরকে কে দেখবে এটা নিয়ে ছিলেন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। এ কারণে এর আগেও সন্তানদেরকে একবার বিষ খাইয়েছিলেন মা। জেসমিন আক্তার সরকারি চাকরি করতেন। তিনি খামারবাড়িতে কৃষি অধিদপ্তরে কর্মরত ছিলেন। তার স্বামী হাসিবুল ইসলাম সংসদ সচিবলায়ে চাকরি করেন। দুই শিশু কন্যার মধ্যে হাসিবা তাসনিম হিমি নয় বছর বয়সী। সে স্থানীয় মডেল একাডেমিতে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। আর চার বছর বয়সী আদিলা তাহসিন হানি এখনও স্কুল শুরু করেনি।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ কমিশনার মাসুদ আহাম্মদ জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে স্বামী-স্ত্রী এক সঙ্গেই বাড়ি ফেরেন। এরপর হাসিবুল মাগরিবের নামাজ পড়তে স্থানীয় মসজিদে যান। আর নামাজ শেষে বাসায় ফিরলেও দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তিনি ঢুকতে পারছিলেন না। এরপর হাসিবুল থানায় ফোন করলে পুলিশের একটি দল রাত সাড়ে সাতটার দিকে ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে পুলিশ ঘরে ঢুকে। ঘরের ভেতর আরও একটি কক্ষ ভেতর থেকে তালাবদ্ধ ছিল। পরে সেটিও ভেঙে ভেতরে ঢুকে পুলিশ। এরপর বিছানায় দুই শিশু কন্যা এবং মেঝেতে মায়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

মাসুদ আহাম্মদ আরো জানান, দুই শিশু কন্যাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গলা কেটে হত্যা করেন মা। পরে নিজে পেটে ও গলায় ছুরিকাঘাত করে নিজেও আত্মহত্যা করেন। এর আগেও দুই শিশুকে বিষ পান করিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন মা। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তারা বেঁচে যান। ওই নারীর মাইগ্রেনে সমস্যা ছিল। তিনি নানা সময় সব কিছু ভুলে যেতেন। চাকরি নিয়েও তিনি টানাপড়েনে ছিলেন। চিন্তা করতেন চাকরি করবেন নাকি সন্তান মানুষ করবেন। এই পরিস্থিতিতে ওই মায়ের মানসিক চিকিৎসাও করা হচ্ছিল। সব শেষ গত সপ্তাহেও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে তাকে দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি অনেকটা স্বাভাবিকই ছিলেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ