প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমতলীতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় পুলিশসহ আহত ২০

মো. জয়নুল আবেদীন,আমতলী (বরগুনা): বরগুনা জেলা বিএনপি’র সহ-সাধারণ সম্পাদক ভুমি দস্যু মো. মশিউর রহমান মিলন আকনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রকৌশলী, পৌর পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দুপুরে আমতলী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকায়। এ ঘটনায় আমতলী থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, বরগুনা জেলা বিএনপি’র সহ-সম্পাদক মশিউর রহমান মিলন আমতলী পৌরসভায় ৫ নং ওয়ার্ডের সড়ক ও ড্রেনেজের জমি দখল করে পৌরসভার অনুমতি ও নক্সা অনুমোদন না করে স্টল তৈরি করছিল। এ ঘটনায় আমতলী পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তাকে ২৬ এপ্রিল নোটিশ দেয়। ওই নোটিশ নিয়ে হিসাব সহকারী মনিরুল ইসলাম ও প্রহরী আলমগীর হোসেন বিএনপি নেতার কাছে গেলে তিনি নোটিশ ছিড়ে ফেলে এবং তাদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। তারা নোটিশ ছিড়ে ফেলার বিষয়টি পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানকে জানায়।

অনুমতি ও নক্সা অনুমোদন না করে সড়ক ও ড্রেনেজের জমি দখল করে ভবন নিমাণ করায় পৌরসভা কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেয়। সোমবার দুপুরে পৌরসভা কর্র্তৃপক্ষ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের অভিযান চালায়। এতে বিএনপি নেতা মশিউর রহমান, তার সহযোগী আরিফুর রহমানসহ ২০/২৫ জন ভারাটে সন্ত্রাসী পৌর কাউন্সিলর মোয়াজ্জেম হোসেন ফরহাদ, জাহিদুল ইসলাম জুয়েল, মেনহাজ চৌকিদার, মনিরুল ইসলাম পাহলান, মহিলা কাউন্সিলর মর্জিনা, নাজমুন নাহার ও কর্মচারীদের উপর হামলা চালায়।

এতে নির্বাহী প্রকৌশলী তরুন কুমার ভক্ত, সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম, পৌর পুলিশ মামুন, আরিফুর রহমান, পৌর কর্মচারী মিলি, সকিনা, মীর হাসান, সাব্বির, হিমেল, রুবেল ও পরিছন্নতা কর্মী কালী রানী আহত হয়। পৌর কর্মচারীদের পাল্টা হামলার মশিউর রহমান মিলন, স্ত্রী পলি রহমান, বোন মনিরা বেগম, শিশু কন্যা নাহি রহমান ও ভাগ্নি মাইদা আহত হয়। আহতদের আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সবুজবাগ এলাকার কয়েকজন বলেন, পৌরসভার লোকজন অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সময় তাদের উপর মশিউর রহমানের লোকজন হামলা করেছে।
কাউন্সিলর মনিরুল ইসলাম পাহলান, মহিলা কাউন্সিলর মর্জিনা, নাজমুন নাহার বলেন, পৌরসভার বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণ করছিল মশিউর রহমান মিলন। তার এ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে তিনি উচ্ছেদ অভিযানে অংশগ্রহনকারী ও আমাদের উপর তার ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা চালিয়েছে।

পৌরসভার হিসাব সহকারী মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার বিল্ডিং কোড না মেনে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধের জন্য নোটিশ নিয়ে গেলে মশিউর রহমান মিলন অকথ্য ভাষায় আমাকে গালমন্দ করেছে। এবং আমার সামনে নোটিশ ছিড়ে ফেলেছে।

এ ঘটনায় পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান পৌর কার্যালয়ে দুপুর তিন টায় সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, বিএনপি নেতা মশিউর রহমান মিলন একজন ভুমিদস্যু। সে পৌর সভার ১ নং ওয়ার্ডের পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি জোড়পূর্বক দখল করে মানুষের কাছে বিক্রি করে প্রতারনা করছে।

তিনি আরও বলেন, ৫ নং ওয়ার্ডের সড়ক, ড্রেনেজ, পাশা মৃধা ও আনোয়ার আকনের জমি দখল করে পৌরসভার অনুমতি ও নক্সা অনুমোদন না করে স্টল নির্মাণ করে। পৌরসভার বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণ করায় তাকে পরপর দু’বার নোটিশ দিয়েছি। কিন্তু তিনি নোটিশতো রাখেনি বরং পৌরসভার যারা নোটিশ নিয়ে গেছে তাদের অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছে এবং নোটিশ ছিড়ে ফেলেছে।

সোমবার পৌরসভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক অবৈধ ভবন উচ্ছেদ করতে গেল মশিউর রহমান মিলন ও তার সহযোগী আরিফুর রহমানসহ ২০/২৫ জন ভাড়াটে সন্ত্রাসী পৌর কাউন্সিলর, প্রকৌশলী ও পৌর কর্মচারীদের উপর হামলা করেছে। সরকারী কাছে বাঁধা ও পৌর কর্মচারীদের মারধর করার তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মশিউর রহমান মিলন পৌর কর্মচারীদের মারধরের কথা অস্বীকার করে বলেন, পৌর মেয়র মতিয়ার রহমানের লোকজন আমাকে, আমার স্ত্রী ও মেয়েকে মারধর করেছে এবং আমার জমিতে নির্মাণাধীন ভবন ভেঙ্গে ফেলেছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মো. সহিদ উল্যাহ বলেন, বিএনপি নেতা পৌরসভার বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণের করেছে। ওই ভবন উচ্ছেদের বিষয়টি আমি জানি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত