প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইয়াবার চাহিদা বন্ধ হলে যোগান বন্ধ হবে: কোস্ট গার্ড ডিজি

সুজন কৈরী : বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বাহিনীর মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল এ এম এম এম আওরঙ্গজেব চৌধুরী বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এতো ইউনিট থাকা সত্ত্বেও ইয়াবার চালান বন্ধ করা যাচ্ছে না। শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে ইয়াবার ব্যাপকতা কমানো সম্ভব নয়। এটি কমাতে হলে সকলের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও পাড়া-মহল্লায় এর ক্ষতিকর দিক নিয়ে আলোচনা করতে হবে। মূলত ইয়াবার চাহিদা বন্ধ করতে না পারলে এর যোগানও বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তিনি।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁও কোস্ট গার্ড সদর দফতরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ডিজি বলেন, সরবরাহ ও চাহিদা- এ দুটি হচ্ছে মাদকের দুটি দিক। সরবরাহ বন্ধ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা করে যাচ্ছে। আর চাহিদা বন্ধ করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় তথা পড়াশুনা, ভর্তি পরীক্ষা ও পরীক্ষার চাপের সাথে মাদকের কোন যোগসূত্র আছে কিনা তা গভীরভাবে গবেষণা করার অবকাশ রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। কেননা, অনেকে রাত জাগতে ও অধিক কাজ করার জন্য ইয়াবা সেবন করছে। তাদের দেখাদেখি ছোট-বড়রাও সেবন করছে।

এক প্রশ্নে মহাপরিচালক বলেন, গত বছর পর্যন্ত উদ্ধারকৃত ইয়াবা আমরা নিজেদের হেফাজতে রাখতাম। পরবর্তীতে তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হতো। কিন্তু কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক এখন উদ্ধারকৃত ইয়াবা সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে হয়। এর বেশি কিছু আমরা জানি না। ইয়াবার মূল রুটগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিজি বলেন, টেকনাফ, ছেড়াদ্বীপ ও শাহপরী দ্বীপ দিয়ে আসা ইয়াবার চালানগুলো মূলত মায়ানমার থেকে আসে। কিন্তু সমুদ্রে আমাদের যে পরিমাণ জাহাজ রয়েছে তা দিয়ে সব বোট চেক করা সম্ভব হচ্ছে না। মূলত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হাজার হাজার বোটের মধ্যে কয়েকটিতে অভিযান চালানো হয়। এর বাহিরে অন্য বোটে ইয়াবা থাকলেও তারা কৌশলে পালিয়ে যাচ্ছে। আমরা যাদের ধরছি তা মূলত শ্রমিক কিংবা বহনকারী। তা ছাড়া যারা ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের লোকবল এবং সক্ষমতাও আমাদের চেয়ে বেশি, বললেন ডিজি।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কোস্ট গার্ড ইয়াবার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করে যাচ্ছে। মাদকের ভয়ানক গ্রাস থেকে দেশের যুব সমাজকে রক্ষা করতে কোস্ট গার্ড বাহিনীর সকল বেইস, স্টেশান ও আউটপোস্ট হতে সর্বাত্মক অভিযান চলমান রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। দেশের যুব সমাজের মধ্যে বর্তমানে ইয়াবার ব্যাপক চাহিদা কাজে লাগিয়ে একশ্রেণীর মাদক ব্যবসায়ী বিভিন্ন ধরণের অপকৌশল অবলম্বন করে এই ইয়াবার বিস্তার ঘটাচ্ছে। ইয়াবার এই বিস্তার রোধকল্পে এবং যুব সমাজকে রক্ষায় কোস্ট গার্ড বাহিনী নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে ২০১৬ সালে ২৯৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকার, ২০১৭ সালে ১৫২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা মূল্যের ইয়াবা জব্দ ও ধ্বংস এবং চলতি বছরে ৩১২ কোটি টাকা মূল্যের ৬২ লাখ ৩৮ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোস্ট গার্ড ডিজি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত