প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চীনকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসাবে ডিএসইর অনুমোদন

মাসুদ মিয়া: কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসাবে চীনের দুই শেয়ারবাজার শেনঝেন ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কনসোর্টিয়ামের প্রস্তাবকে অনুমোদন দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) শেয়ারহোল্ডাররা। সোমবার দুপুর আড়াইটায় ডিএসইর ৮ম বিশেষ সাধারণ সভা রাজধানীর পূর্বানি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএসইর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম।

এবিষয়ে ডিএসইর সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, আজকের ইজিএমে শেয়ারহোল্ডাররা চীনের কনসোর্টিয়ামের কৌশলগত বিনিয়োগকারী হওয়ার প্রস্তাবকে অনুমোদন দিয়েছে। যা শেয়ারবাজারের জন্যএকটি ঐতিহাসিক দিন। এছাড়া শেয়ারবাজারের উন্নয়নে ডিএসইর শেয়ারহোল্ডারদের এই অনুমোদন একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।

ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, অনেক বাধা বিপত্তি পেরিয়ে ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসাবে চীনের কনসোর্টিয়ামের চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি এগিয়ে যাচ্ছে। যা ইজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের মাধ্যমে অনেকটা এগিয়ে গেছে। আর এই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে বিএসইসির চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেনের সহযোগিতার কারনে। যে কারনে বিএসইসি চেয়ারম্যানকে ডিএসইর পর্ষদ ও শেয়ারহোল্ডাররা সাধুবাদ জানিয়েছেন। এছাড়া তার সহযোগিতার মাধ্যমেই চীনের কনসোর্টিয়াম চূড়ান্ত অনুমোদন পাবে বলে শেয়ারহোল্ডাররা আশাবাদী।

এর আগে গত ২২ ফেব্রæয়ারি চীনের কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে অনুমোদনের জন্য ডিএসইর সেক্রেটারি মো. আসাদুর রহমান বিএসইসিতে প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। তবে ১৯ মার্চ ডিএসইর দেয়া চীনা কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী করার প্রস্তাব অনুমোদন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। তবে কিছু শর্তসাপেক্ষে ডিএসই কর্তৃপক্ষকে নতুন করে সংশোধিত প্রস্তাব করার সুযোগ দেয়। এরই আলোকে ইজিএম আয়োজন করে ডিএসই কর্তৃপক্ষ।
বিএসইসির ওই শর্তগুলোর মধ্যে ছিল- কৌশলগত বিনিয়োগকারীর সঙ্গে এমন কোন চুক্তি করা যাবে না, যা দেশের আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ডিএসইর সাধারন শেয়ারহোল্ডার এবং শেয়ারবাজারের উন্নয়নের পরিপন্থি। আর ডিএসইর আর্টিকেলের পরিপন্থী কোন সংশোধনী গ্রহণযোগ্য হবে না।

এছাড়া বিএসইসিতে প্রস্তাবের আগে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিতে হবে, ডিএসইর সাধারণ সভায় বিএসইসির পর্যালোচনা কমিটির পর্যবেক্ষন ও প্রত্যাহর করা শর্তগুলো জানাতে হবে এবং সাধারণ সভায় গৃহিত প্রস্তাব, সংশোধিত চুক্তি ও অন্যান্য ডকুমেন্টস কমিশনে দাখিল করার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১৯ ফেব্রæয়ারি ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদের বোর্ড সভায় চীনা কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে বেছে নেয়া হয়। আর ২২ ফেব্রæয়ারি সকালে চীনের কনসোর্টিয়ামকে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে অনুমোদনের জন্য ডিএসইর সেক্রেটারি মো. আসাদুর রহমান বিএসইসিতে প্রস্তাব জমা দেয়। এর আলোকে একইদিনে ডিএসইর প্রস্তাব যাছাই-বাছাইয়ের জন্য বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ আহমেদকে আহবায়ক ও নির্বাহী পরিচালক মো. মাহবুবুল আলমকে সদস্য সচিব করে ৪ সদস্যের কমিটি করে বিএসইসি। ডিএসইর প্রস্তাব যাছাই-বাছাইয়ে বিএসইসির পর্যালোচনা কমিটি চীনা কনসোর্টিয়ামের কিছু শর্তের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে গত ২৭ ফেব্রæয়ারি ডিএসইকে লিখিতভাবে জানায় বিএসইসি। এরই আলোকে ডিএসই কর্তৃপক্ষ ৪ মার্চ ব্যাখ্যা দেয়।

জানা গেছে, চীনের কনসোর্টিয়াম ডিএসইর প্রতিটি শেয়ারের দাম দিতে চেয়েছে ২২ টাকা। তবে শর্তানুযায়ি, ডিএসইর শেয়ারহোল্ডাররা এরইমধ্যে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা লভ্যাংশ নেওয়ায়, সমপরিমাণ দর কমে এসেছে। এক্ষেত্রে ডিএসইর ১৮০ কোটি শেয়ারের ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি শেয়ার প্রতিটি ২১ টাকা দামে ৯৪৫ কোটি টাকায় কিনবে। পাশাপাশি ডিএসইর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে ৩০০ কোটিরও বেশি টাকা (৩৭ মিলিয়ন ডলার) ব্যয় করবে। যাতে কৌশলগত বিনিয়োগকারী হতে ১ হাজার ২৪৫ কোটিরও বেশি টাকা পাবে ডিএসই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত