প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ন্যায়ের পক্ষে কথা বললে সরকার সহ্য করতে পারে না : খন্দকার মোশাররফ

কায়েস চৌধুরী: আমাদের নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তার হচ্ছে মুক্তি পাচ্ছে আবার গ্রেপ্তার হচ্ছে। কারণ এই সরকার তো স্বৈরাচার। সেজন্য ন্যায় ও সত্যের পক্ষে কথা বললে এ সরকার সহ্য করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

সোমবার দুপুরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তার উপদেষ্টা কবির মুরাদ, তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, শফিউল বারী বাবু, অনিন্দ ইসলাম অমিতের মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ঢাকাস্থ খুলনা বিভাগীয় ছাত্র ফোরামের এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়া মিথ্যা মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে উপরের নির্দেশে পাঁচ বছরের সাজা দেয়া হয়েছে, রাখা হয়েছে পরিত্যক্ত কারাগারে। অমানবিক অবস্থায় তাকে রাখা হচ্ছে। তিনি এখন অসুস্থ। যা দিনে দিনে অবনতির দিকে যাচ্ছে। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে উন্নত চিকিৎসার আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু সরকার কর্ণপাত করছে না। কারণ তারা বিএনপিকে বাইরে রেখে এবং খালেদা জিয়াকে মাইনাস করে আবার ভোট ছাড়া নির্বাচন করতে চায়। এটাই আওয়ামী লীগের একমাত্র উদ্দেশ্য।

তিনি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ার উচ্চারণ করে বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের আরো অবনতি হলে তার দায় দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, কমিটি নিয়ে কথা বলার জন্য গতকাল ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতারা বৈঠক করার সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কয়েকদিন আগে গাজীপুরে নির্বাচন থেকে কেন সরে গেলেন এই রাগে জামায়াতের এক প্রার্থীসহ ৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মনে হয় বাংলাদেশে ঘরোয়া রাজনীতিরও পারমিশন নেই। সামরিক শাসনেও এমন হয় না। দেশে অলিখিত বাকশাল চলছে। প্রশাসনযন্ত্রকে ব্যবহার করে বাকশাল কায়েম করছে সরকার।

সরকারকে প্রতারক আখ্যা দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, গত নির্বাচনে ভারত জোর করে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগকে। কিন্তু তারা এবার নির্বাচন নিয়ে নাক গলাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগ বিদেশীদের বলেছিলো সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য নির্বাচন হবে তিনমাস পর আবার নির্বাচন হবে। কিন্তু তারা সেটা না করে প্রতারণা করেছে। এখন চীন বলেছে বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়। আমরা মনে করি আগামী নির্বাচনে এই প্রতারকদের পেছনে কেউ হাঁটবে না।

৫ জানুয়ারি নির্বাচন করতে চায় তাহলে জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে রাস্তায় নেমে আসবে বলে দাবি করেন মোশাররফ।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনাসহ নেতাকর্মীরা আতঙ্কে আছে যেদিন পতন হবে তখন তাদের কি অবস্থা হবে এই জন্য।

মোশাররফ বলেন, গাজীপুরে তিনভাগ ভোট পাবে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী পাবেন একভাগ ভোট পাবে, এটা আওয়ামী লীগও জানে। এবার জনস্রোত শুরু হয়েছে। এই দুই সিটির ভোট ইসি এবং সরকারের জন্য অগ্নিপরীক্ষা।

বাঁশি বাজিয়ে, দিনক্ষণ ঠিক করে গণআন্দোলন হয় না এমন দাবি করে তিনি বলেন, আগামী দিনে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য মাঠে নামবে। বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। সবাই সেইদিনের প্রস্তুতি নিন। স্বৈরাচার শান্তিতে আছে কিন্তু একদিন দেখবে সব শেষ।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি তারেক উজ জামান তারিকের সভাপতিত্বে এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি আলমগীর হাসান সোহানের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, স্বেচ্ছাসেবক দলের মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত