প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে আ.লীগ নেতারা মশকরা করছে : রিজভী

শাহানুজ্জামান টিটু : বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ক্রমাবনতিশীল শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা উপহাস, তাচ্ছিল্য ও মশকরা শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, যারা গণতন্ত্র বিনাশী মানবাধিকার পরিপন্থি, নাগরিক স্বাধীনতা হরণকারী, অগণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল তাদের রাজনৈতিক মতের বিরুদ্ধের মানুষের মর্যাদা ও জীবনের কোন দাম নেই।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচেনা করে রিজভী বলেন, আমি বলতে চাই-তাহলে কী স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদের সার্টিফিকেটধারীদের চিকিৎসার বাইরে দেশের মানুষ যেতে পারবে না ? দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা দীর্ঘ ২০/২৫ বছর ধরে তাঁর চিকিৎসা করছেন। যাঁরা দেশনেত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক তাঁরা দেশের স্বনামধন্য পেশাদারী চিকিৎসক। মানবকল্যানই তাঁদের ব্রত। অপপ্রচার আর কুৎসা রটনার কোরাশ দলের কান্ডারী হচ্ছেন আ:লীগের সাধারণ সম্পাদক। শেখ হাসিনার রক্তাত শাসনের দিক থেকে জনগণের দৃষ্টিকে সরাতে প্রতিদিন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের উদ্ভট ও আবোল-তাবোল বকবকানী মানুষকে শুনতে হচ্ছে।

এর আগে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা যে মিথ্যাচার করছেন তাতে জাতীয়তাবাদী চিকিৎসকরা চিকিৎসা করলে যে সার্টিফিকেট দিবেন সেখানেও সন্দেহ থাকবেই’।
রিজভী বলেন, যথার্থ চিকিৎসা নিয়ে কারা কর্তৃপক্ষের টালবাহানায় বেগম জিয়াকে বিনা চিকিৎসায় কারাগারে বিপন্ন জীবন কাটাতে হচ্ছে। দেশনেত্রীর শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে এ বিষয়ে সরকার নিশ্চুপ-নির্বাক থেকে দলের সাধারণ সম্পাদককে দিয়ে ঠাট্টা তামাশা করাচ্ছে। এটা নিষ্ঠুর উপহাস। সহজাত বিচার বুদ্ধি হারিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা ক্ষমতায় মোহগ্রস্ত। দেশের সর্বাধিক জনপ্রিয় নেত্রীকে বিনা চিকিৎসায় বন্দী রেখে এক দুরভিসন্ধিমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কী না সে প্রশ্নে দেশবাসী উত্তাল।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আদালতের বদৌলতে নয়, শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার বদৌলতে কারাগারে বন্দী। এটাই সর্বজনস্বীকৃত। আদালতের মাধ্যমে একটা আনুষ্ঠানিকতা করা হয়েছে মাত্র। এটি অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রীরই অন্ধ অসুয়ার উন্মাদ প্রতিফলন। তাই দেশনেত্রীর সুচিকিৎসা ও তাঁকে মুক্তি না দিতে সরকারপ্রধান অনিচ্ছুক ও অনমনীয় বলেও মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় গাজীপুর এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেই বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই অপরাধে রাতের বেলায় সরকারের নির্দেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী স্থানীয় নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় হানা দিয়ে গ্রেফতার, ক্রসফায়ারের হুমকি এবং বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করছে। সরকার তার গণবিরোধী চরিত্রের মাধ্যমে আইন শৃৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকারের বিরোধী শক্তির তথা বিরোধী দল ও মতের মানুষদের প্রতিপক্ষ হিসেবে গড়ে তুলছে। এ ব্যাপারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এখনই সতর্ক না হলে একদিন জনগণের কাঠগড়ায় তাদেরকে দাঁড়াতেই হবে।

গতকাল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদেরকে নির্বিচারে গ্রেফতার আসন্ন দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য একটি মেসেজ। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে এবং নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে ভীতি ছড়াতেই গতকাল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি’র নেতাদের ব্যাপকহারে আটক করা হয়েছে। কাজেই এরকম পরিস্থিতিতে আসন্ন দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন কখনোই সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে না।

ইলেকশন কমিশন দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীনদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন কিংবা সরকারী দলের সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বন্ধে এখনও পর্যন্ত কোন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে না পারলে কমিশনের ভাবমূর্তি গহীন অতলে তলিয়ে যাবে।

রিজভী বলেন, সামনের জাতীয় নির্বাচনে তাদের প্রতি জনগণের আস্থা বিন্দুমাত্রও থাকবে না। সুতরাং অবৈধ সরকারের সাথে নির্বাচনের কমিশনের উর্দ্ধতন কর্তাব্যক্তিদের পদত্যাগের আন্দোলনও একসাথে শুরু হবে। সেজন্য আগামী দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন যেন রক্তাক্ত নির্বাচনের দিকে না যায় সেদিকে কমিশনকে সতর্ক তৎপরতা দেখাতে হবে। সন্ত্রাসীদের প্রভাবমুক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে অবশ্যই সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত