প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুমিনের গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য

মকবুল হামিদ: মহান রাব্বুল আলামীন কুরআনের নানা জায়গায় মুমিনের বিভিন্ন পরিচয় তুলে ধরেছেন। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনুল কারীম ও পবিত্র হাদীস শরীফে মুমিনের চারিত্রিক সনদ অর্থাৎ যে বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে তা নিম্নে পেশ করা হল :
১. সন্দেহমুক্ত জীবন যাপন : মুমিন আল্লাহর রুবুবিয়াতের উপর ঈমান আনার পর আর কখনো সন্দেহে পড়ে না। সে পূর্ণতার সাথে আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালার উপর আস্থাশীল। যেমন মহান আল্লাহ পাক সোবহানাহু তায়ালা বলেন, ‘‘প্রকৃত মুমিন তারাই যারা আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান আনার পর আর সন্দেহে পড়ে না এবং নিজেদের মাল ও জান দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে, এরাই সত্যবাদী।’’ (সূরা হুজরাত-১৫)

২. মুমিন মহববত ও দয়ার প্রতীক : মুমিন জিন্দেগীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল মহববত ও দয়া। এ জন্য মুমিনকে মহববত
ও দয়ার প্রতীক বলা হয়। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন নিশ্চয়ই সৎকর্মশীল মুমিনদের জন্য দয়াময় আল্লাহ তাদের জন্য (মানুষের অন্তরেও) মহববত পয়দা করে দেন। (মরিয়ম-৯৬) যেমন আল্লাহর রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘‘মুমিন মহববত ও দয়ার প্রতীক। ঐ ব্যক্তির মধ্যে কোন কল্যাণ নেই, যে কারো সাথে মহববত রাখে না এবং মহববত প্রাপ্ত হয় না’’ (হযরত আবু হুরায়রা, মুসনাদে আহমাদ) অবশ্যই এই ভালবাসা হবে নিতান্তই আল্লাহর জন্য। অন্য হাদীসে ইরশাদ হয়েছে ‘‘ঐ ব্যক্তি তার ঈমানকে দৃঢ় করল যে কাউকে ভালবাসল আল্লাহর জন্য, কাউকে ঘৃণা করল আল্লাহর জন্য, কাউকে কোন কিছু দিল আল্লাহর জন্য আর কাউকে কোন কিছু দেয়া হতে বিরত থাকল কেবল আল্লাহর জন্য’’। (তিরমিযী) ৩. মুমিন আল্লাহর ভয়ে ভীত : মুমিন তার অন্তরে সার্বক্ষণিক আল্লাহ তায়ালার ভয় লালন করে বিধায় শয়তান তার উপর গালিব হতে পারে না, এবং সে আল্লাহর উপর এমন আস্থাশীল যে, কোন বিপদও তাকে আল্লাহর বিধান থেকে গাফিল করতে পারে না, বরং তার ঈমানের জযবা আরো বেড়ে যায়।

মহান রাববুল আলামীন ইরশাদ করেন-প্রকৃত মুমিন তারা যারা আল্লাহর স্মরণে তাদের দিল কেঁপে উঠে, তাদের সামনে আল্লাহর বাণী উচ্চারিত হলে তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়, তারা আল্লাহর উপর আস্থাশীল ও নির্ভরশীল হয়ে থাকে। নামাজ কায়েম করে এবং আল্লাহর প্রদত্ত রিযিক থেকে ব্যয় করে। বস্তুত: এরা হচ্ছে সত্যিকারের মুমিন। তাদের জন্য আল্লাহর নিকট উচ্চ মর্যাদা রয়েছে আরো রয়েছে অপরাধের ক্ষমা ও অতি উত্তম রিযিক (আনফাল-২-৪) ৪. মুমিন আল্লাহর ফায়সালার পূর্ণ অনুগামী : মুমিন তার ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সামষ্টিক জীবনে আল্লাহর বিধান ও ফায়সালার খিলাফ করে না এবং জমিনে আল্লাহর বিধান ও ফায়সালার বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ হয়েছে ‘‘মুমিনদের বৈশিষ্ট্য এই যে, যখন তাদের মাঝে ফয়সালার জন্য আল্লাহ ও রাসূলের (বিধানের) প্রতি ডাকা হয়, তখন তারা বলে আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম, আর এইরূপ লোকেরা প্রকৃত সফলকাম’’। (সূরা আন নুর-৫১)

৫. মুমিন আল্লাহর স্মরণে প্রশান্তিপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী : মুমিন জিন্দেগীতে আল্লাহর স্মরণ, আল্লাহর বিধানের অনুসরণ তাকে
দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করে, সে আরো অধিক হারে আল্লাহর বিধানের পায়বন্দিতে আগ্রহী হয়। যেমন মহান আল্লাহপাক সূরা রাদের ২৮ আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘‘যারা মুমিন আল্লাহর স্মরণে তাদের অন্তর পরম শান্তি ও স্বস্তি লাভ করে থাকে’’।

৬. মুমিন আল্লাহর রহমতপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী : মুমিন আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালার রহমাতের ছায়ার নিচে বসবাসকারী জনগোষ্ঠি। তারা আল্লাহর হুকুমের যথাযথ অনুসরণের দরুন আল্লাহ তার রহমত দ্বারা তাদের বেষ্টন করে রাখেন। সূরা তাওবার ৭১ আয়াতে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন-‘‘মুমিন নারী পুরুষরা তারা পরস্পরের বন্ধু ও সাহায্যকারী। তারা একে অপরকে যাবতীয় ভাল কাজের নির্দেশ দেয়, অন্যায় ও পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে, যাকাত পরিশোধ করে এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের আনুগত্য করে। উহারা এমন লোক যাদের প্রতি আল্লাহর রহমত
অবশ্যই নাযিল হবে।’’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত