প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্লাস্ট রোগ থেকে রক্ষা না পাওয়ায় ক্ষেতে আগুন দিচ্ছে কৃষকরা

সৌরভ কুমার ঘোষ, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রাম জেলায় চলতি বোরো ধান মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে ব্রি-২৮ ধানে নেক ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হওয়ায় কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে। নেক ব্লস্ট রোগে আক্রান্ত জমিতে মনে ক্ষোভে আগুন দিচ্ছে কৃষকরা। কৃষকদের অভিযোগ উপ-সহকারী কর্মকর্তারা প্রদর্শনী খামার এবং খুচরা ও বিসিআইসি সারের ডিলারদের দোকানে অধিকাংশ সময় ব্যস্ত থাকেন। কৃষকদের পরামর্শ তো দূরের কথা তাদের খুঁজে পাওয়াই মুশকিল।

রৌমারী উপজেলার দক্ষিণ ইছাকুড়ি গ্রামের কৃষক মতিয়ার রহমান চিশতীর প্রায় এক একর জমির ব্রী-২৮ ধান সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকজন দিন মজুর নিয়ে জমিতে ধান কাটতে গেলে ধানের অবস্থা দেখে দিন মজুরদেরকে ফেরত দিয়ে মনের দুঃখে এবং কান্নার চোখে হতাশায় ধান ক্ষেতে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি।

এ সময় ক্ষতিগ্রস্থ অত্র এলাকার কৃষক আবুল হাশেম, হাবিবুর রহমান, নুরুল ইসলাম মুন্সি, ইউনুছ আলী (অবঃ বিজিবি) ও আব্দুল মান্নান জানান, ব্রী-২৮ ধান ছাড়াও ব্রী-৫৮, ব্রী-ত্যাজ গোল্ড ও ব্রী- ২৯ ধানের মধ্যেও একই রোগ দেখা দিয়েছে। আমরা ধান রোপন শুরুর থেকে কোন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদেরকে পরামর্শ নেয়ার জন্য কাছে পাইনি। ধান ক্ষেতগুলি সর্বনাশের দ্বারপ্রান্তে পৌছার পর দু’এক দিন উপ-সহকারী কর্মকর্তা আসলেও তার পরামর্শে অহেতুক। অনেক টাকার ঔষধ কিনে জমিতে প্রয়োগ করলেও কোন কাজ হয়নি বরং আরো ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছি। বর্তমানে ধান জমি থেকে কেটে বাড়িতে আনতে যে খরচ হচ্ছে এতে কৃষক আরো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কাজেই কৃষি বিভাগের ভূমিকা রহস্যজনক বলে আমরা মনে করি। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের পরিবার পরিজনকে নিয়ে সারা বছর আমরা কিভাবে চলবো তার এখন পর্যন্ত কোন সমাধান পাইনি।

কৃষকদের অভিযোগ, ১৭টি ব্লকে ১৭জন উপ-সহকারী কর্মকর্তা কৃষকদের পাশে থেকে পরামর্শ দিয়ে বোরো ধান চাষে সহায়তা দেয়ার কথা থাকলেও তারা কৃষকের পাশে না গিয়ে প্রদর্শনী খামার এবং খুচরা ও বিসিআইসি সারের ডিলারদের দোকানে অধিকাংশ সময় ব্যস্ত থাকেন। কৃষি কর্মকর্তারা নিজেকে নিয়ে সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকেন। কোন অভিযোগ তাদের নিকট দিলে আমলে না নিয়ে এড়িয়ে যায়। এতে কৃষকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তেমনি সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক আব্দুর রশিদ জানান- হঠাৎ নেক ব্লাস্ট দেখা দেয়ায় তা দমনের পূর্বেই কিছু কিছু ধান ক্ষেত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। আর যাতে নতুন করে কোনো ক্ষেতে নেক ব্লাস্ট ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করছি তা দমন করার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত