প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ট্রাকচাপায় পা হারানো সুমাইয়া
সাহায্য-সহযোগিতায় চলছে চিকিৎসা, এখনও শঙ্কামুক্ত নয়

ডেস্ক রিপোর্ট : রংপুর জেলার মাহিগঞ্জ এলাকায় ট্রাকচাপায় পা হারানো ৪ বছরের শিশু সুমাইয়া আক্তার মেঘলা এখনো শক্তামুক্ত নয়। তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে তার চিকিৎসা চলছে। দিশেহারা দরিদ্র মা-বাবা সুদের টাকা নিয়ে এবং অন্যদের সাহায্য সহযোগিতায় ওষুধপত্র কিনে চিকিৎসা চালাচ্ছেন।

গতকাল রবিবার বিকেলে পা হারানো শিশু সুমাইয়ার বাবা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি হতাশাগ্রস্ত হয়ে বলেন, মেয়েটির এখন কী হবে। দিন যাচ্ছে, কিন্তু মেয়ের অবস্থা ভালো হচ্ছে না। গত দুদিন ধরে মেয়ে আমার চোখের পাতা খুলছে না, কিছু খাচ্ছেও না। শুধু স্যালাইনের ওপর চলছে। রবিবার সরকারি বন্ধের দিন হওয়ায় কোনো ডাক্তার আসেননি। তবে কর্তব্যরত এক ব্রাদার বলেন, ওষুষধপত্র দিয়ে চিকিৎসার পাশাপাশি সুমাইয়ার একদিন পর একদিন ড্রেসিং করা হচ্ছে। ডা. শফিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় কুমার রায় বলেন, সুমাইয়াকে সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছে। সরকারি ছুটি থাকলেও বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তার খোঁজ-খবর রেখেছি। তবে এখনো বলা যাবে না সে শঙ্কামুক্ত।

গত ২২ এপ্রিল মাহিগঞ্জে একটি চাতালে কাজ করা বাবা শফিকুর ইসলামকে নতুন কেনা লালজামা দেখাতে গিয়ে ইটবোঝাই ট্রাকের চাপায় পা হারায় সুমাইয়া। পরদিন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়। হাসপাতালের বিছানায় এখনো যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে ছোট্ট মেয়েটি। এতে তার বাবা শফিকুল ইসলাম ও মা কাজলী বেগম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কাজলী বেগম অন্যের বাড়িতে কাজ করেন। তারা এরই মধ্যে সুদের ওপর ২০ হাজার টাকা নিয়ে মেয়ের চিকিৎসা করাচ্ছেন। সামনের দিনগুলোতে কীভাবে মেয়ের চিকিৎসা ব্যয় মেটাবেন তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

শফিকুল ইসলাম বলেন, শুনেছি ট্রাক মালিকের বাড়িও রংপুরে। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত সাহায্য সহযোগিতা করেননি। মেয়েকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার আগে তাদের কেউ একজন এলেও পরে আর খোঁজ-খবর নেয়নি। সেই ট্রাকটি এখনো মাহিগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে আটক রয়েছে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যবসায়ী নাজমুল করিম শিশু সুমাইয়াকে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি রংপুরের তার এক বন্ধু হাসান সবুজের মাধ্যমে ইতোমধ্যে তাদের কাছে ১৫ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। তিনি কৃত্রিম পা দেয়ারও আশ্বাস দেন। ভোরের কাগজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত