প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাবি’র ক্যাম্পাস ক্যান্টিনের আবু ভাই
দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে, এখনই সহযোগিতা করার সময়

ডেস্ক রিপোর্ট: স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ক্যান্টিন পরিচালনা করে আসছিলেন আবু ভাই। স্বাধীনতার পর ১৯৭৭ সালে তিনি দোকানটি পুনরায় স্থাপন করেন বর্তমান শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার টিএসসিসির পূর্ব পাশে। দীর্ঘদিন চালানোর পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০০৭ সালের দিকে বন্ধ করে দেন সে দোকান। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০১৫ সালে বর্তমান ১ম ও ৪র্থ বিজ্ঞান ভবনের মাঝখানের জায়গায় আবারো ক্যান্টিন খোলেন আবু ভাই। তবে অসুস্থতার কারণে এক বছর আগে আবারও তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে বন্ধ হয়ে যায় তার আয়ের পথ। এখন তিনি তেমন কথা বলতে পারেন না। শুধু চেয়ে থাকেন অপলক। যেন একটু বেঁচে থাকার আশ্রয় খুঁজে ফিরছেন।

পুরো নাম আবু আহমেদ। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ‘আবু ভাই’ নামেই পরিচিত। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সবাই তাকে এই নামে ডাকতেন। বিশেষ করে সত্তর, আশি, নব্বইয়ের দশক ও একবিংশ শতাব্দীর শুরুর শিক্ষার্থীদের কাছে এটি এক আবেগের নাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে এই নামটি। কেননা, অধিকাংশ আন্দোলনের পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন; সবকিছুর আলোচনা ও সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ‘আবুর ক্যান্টিন’।

আবু ভাই সারাজীবন শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছেন, ভালোবেসেছেন। তার ক্যান্টিনে গেলে সবাইকে তিনি যে পরম যত্ন নিয়ে খাওয়াতেন আর গল্প করতেন, সেটি হয়তো সাবেক শিক্ষার্থীরা এখনও ভুলতে পারেননি। পকেটে টাকা না থাকলে তিনি বুঝতে পারতেন। তাই কাউকে ফিরিয়ে দিতেন না। আজ এই সরল ও সুন্দর মনের মানুষকে ভালোবাসার সময় এসেছে। সময় এসেছে তার পাশে দাঁড়ানোর। কেননা, এখন নানা রোগ বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। নিজে উপার্জন করার শক্তিটুকুও হারিয়েছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে পায়ের অপারেশন করান আবু ভাই। এর পর থেকেই ৭৫ বছর বয়স পেরোনো এই মানুষটির শরীরে বাসা বাঁধতে থাকে নানা রোগ। বর্তমানে ডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যার পাশাপাশি তার দুটি কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। টানা ২০ দিন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কাটিয়ে ২০ এপ্রিল বাসায় ফিরে বিছানায় পড়ে আছেন। তার প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টাকার ওষুধ প্রয়োজন, যা পরিবারের পক্ষে বহন করা কঠিন। সে জন্য সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে তার পরিবার।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের কয়েক শিক্ষার্থী আবু ভাইয়ের জন্য কিছু টাকা তুলে তার বাড়িতে দিয়ে আসেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, তার অবস্থা দেখে চোখে জল চলে আসে। কিছু খেতে পারছেন না, শরীরের অঙ্গগুলোও ঠিকমতো কাজ করছে না। চলাফেরাও করতে পারেন না। টাকা-পয়সাও নেই যে চিকিৎসা করাবেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক সহসভাপতি রাগিব হাসান মুন্না বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ ওই সময় বিভিন্ন আন্দোলনের সভা, প্রস্তুতসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষেত্রে আবু ভায়ের ক্যান্টিন ছিল অন্যতম। সারাদিন আন্দোলন করার পর তার ক্যান্টিনে গেলে যত্ন নিয়ে খাওয়াতেন। টাকা-পয়সা না থাকলে সহজেই বুঝতে পারতেন। সব সময় আমাদের পাশে থাকতেন।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত