প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাজা হয় না বলেই অহরহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে : নূরুল আনোয়ার

মাহবুবুল ইসলাম : গাড়ির মালিকরা বেশির ভাগই কোন না কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা ক্ষমতাশীল কেউ। সড়কে কোন দূর্ঘটনা ঘটলে তারা সামাল দিয়ে থাকে। গ্রেফতার হলেও দু’দিন পরেই জামিন হয়ে যায়। একটি দুটি ক্ষেত্র ছাড়া সাজা হওয়ার কোন উদাহরণ নাই। কোন সাজা হয় না বলেই সড়ক দূর্ঘটনা অহরহ ঘটে থাকে। সড়কে দূর্ঘটনা নিয়ে আলাপকালে সাবেক আইজিপি নূরুল আনোয়ার আমাদের অর্থনীতিকে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, গাড়ির মালিকদের মূল লক্ষ হচ্ছে ব্যবসা। তাই তারা চালকদের বেশি টাকা আদায় করার জন্য চাপ দিয়ে থাকে। চালকরাও চায় তার চেয়ে আরেকটু বেশি টাকা আদায় করে সেখান থেকে কীভাবে নিজের পকেটে কিছু রেখে দেওয়া যায়। আমাদের দেশে যাত্রী নেওয়ার জন্য কোন বে নাই, অর্থাৎ রাস্তার মধ্যে কোন একটা জায়গায় পেটের মত বাকা জায়গা থাকবে। যেখানে যাত্রীরা গাড়ির জন্য অপেক্ষা করবে, এবং সেখান থেকে গাড়িগুলো যাত্রী নিবে। অথচ তারা রাস্তার মাঝখানেই আড়াআড়ি করে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠা-নামার প্রতিযোগিতা করে। এভাবে উঠা-নামা করতে গেলেই কিন্তু দূর্ঘটনাগুলো ঘটে। চালকদের টার্গেটই থাকে যতো বেশি যাত্রী নিতে পারবে ততই তার ইনকাম বেশি হবে। সকল ছোট ছোট গাড়ি রাস্তা থেকে তুলে দেওয়া দরকার। কারণ এরাই বেশি পাল্লাপাল্লি করে, যার ফলে দূর্ঘটনা বেশি ঘটে। যতদিন না এসব ব্যাপার প্রতিহত করা না যাবে ও ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থাকে পরিবর্তন না করা যাবে ততদিন পর্যন্ত রাস্তায় এ অনাকাঙ্খিত দূর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, যদি দশ লাখ চালকের লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ না থাকে তাহলে এর সমস্যা সমাধান করা তো কঠিন কিছু নয়। অবশ্য ‘বি আর টি এ’ নিজেও তো একজন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর অধীনে কাজ করে। সেই মন্ত্রীর নেতাকর্মী যারা এ সমস্ত গাড়ির মালিক, তাদেরকে ‘বি আর টিএ’ কীভাবে সামাল দিবে? অনেক সময় দেখা যাচ্ছে যে ১৭ বছরের একজন বালক বাস চালাচ্ছে, এটা অবিশ্বাস্য হলেও চালাচ্ছে তো। যিনি এসব দেখবেন, তিনি কিন্তু দেখেন না। কারণ, তার জনপ্রিয়তা নষ্ট হবে। ‘বি আর টিএ’ যদি সজাগ ও আন্তরিক হয় তাহলে কিছু করার মত ক্ষমতা থাকে। তারা শুধু যে কাজটি করে তা হলো, লাইসেন্স দেওয়া এবং গাড়ির ফিটনেস দেওয়া, গাড়ি দেখা না দেখা যেন তাদের কাজ নয়। একজন সাধারণ মানুষ যদি লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে, তবে তাকে সত্যিকারের পরীক্ষা দিতে হবে। কিন্তু এ সব চালককে কোন পরীক্ষা দিতে হয় না। কারণ, এসব করার জন্য দালাল রয়েছে। টাকা দিলেই লাইসেন্স হাতে পেয়ে যাবে। সম্পূর্ণ পরিবহন সেক্টর এক ধরনের ব্যর্থতা এবং অরাজকতার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি পক্ষ থেকে যদি ভালো পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে আসে এবং ছোট গাড়িগুলোকে যদি তুলে দেওয়া হয়, তাহলে হয় তো এ সকল সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত