প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাজেটের আকার কমছে ৩০ হাজার কোটি টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট : অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও বাজেট সংশোধন করা হচ্ছে। তবে এবার আকারে বড় ধরনের সংশোধন করা হচ্ছে। এর পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা। নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরের লক্ষ্য নিয়ে রাজস্ব আয়ের এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। বাজেট পাসের আগে ভ্যাট আইন স্থগিত করায় রাজস্ব আয়ে বড় ঘাটতি হচ্ছে। রাজস্ব প্রাপ্তির মধ্যে এনবিআরের লক্ষ্য নির্ধারিত রয়েছে ২ লাখ ৪৮ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এনবিআর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা।

সূত্র জানায়, আজ সোমবার সচিবালয়ে ‘আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রাবিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের’ সভা অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। বাজেটকে সামনে রেখে সভাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এই সভায় চলতি অর্থবছরের বাজেটে কাটছাঁট চূড়ান্ত করা হবে। একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরের বাজেটের কাঠামো এবং আগামী তিন অর্থবছরের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনের প্রতিনিধিরা এই সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করবেন।

সূত্র জানায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটের আকার হতে পারে ৪ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) হতে পারে ১ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি থাকবে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির আকার হতে পারে ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ১০০ কোটি টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া জানান, চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হচ্ছে। অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ২৩ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ঘাটতি থাকায় লক্ষ্যমাত্রা কমানো হচ্ছে।

অবশ্য এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, নতুন মূসক আইনকে কেন্দ্র করে বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছিল। শেষ সময়ে নতুন মূসক আইন বাস্তবায়ন দুই বছরের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা সমন্বয় করা হয়নি। ফলে বড় ধরনের ঘাটতি থাকছে রাজস্ব আহরণে।

অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, প্রতিবছরই বাজেট সংশোধন করা হয়। কিন্তু এবারই সবচেয়ে বড় ধরনের বাজেট সংশোধন করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে বাজেটের আকার ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট নির্ধারণ করা হচ্ছে ৩ লাখ ৭০ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা। কমানো হচ্ছে প্রায় ৭.১৮ শতাংশ, যা বিগত চার অর্থবছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এরপরেও সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ কঠিন হবে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেট কাটছাঁট করা হয়েছিল প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যা ছিল ২৬ হাজার কোটি টাকা এবং ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাজেট কাটছাঁটের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার কোটি টাকা।

এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, এবার রাজস্ব আয়ে ঘাটতি হওয়ার প্রধান কারণ তিনটি। প্রথমত, এ বছর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা এমনিতেই উচ্চাভিলাষী। রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি ধরা হয় প্রায় ৩০ শতাংশ। বিগত বছরগুলোয় বাংলাদেশে রাজস্ব আয়ের যে প্রবণতা তাতে দেখা যায়, রাজস্ব আয়ে বৃদ্ধির হার গড়ে ১৫ থেকে ১৯ শতাংশের মতো হয়। ফলে চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। দ্বিতীয়ত, নতুন ভ্যাট আইনকে বিবেচনায় রেখে মূল্য সংযোজন কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বেশি ধরা হয়। কিন্তু ভোটের বছর রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে শেষ মুহূর্তে দুই বছরের জন্য এ আইন স্থগিত রাখা হয়। ফলে এবার স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট থেকে আয় কম হচ্ছে।

তৃতীয়ত, শিল্পে ব্যবহৃত মূলধনী যন্ত্রাংশের আমদানি বাড়লেও এ থেকে রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। কারণ মূলধনী যন্ত্রাংশের শুল্ক হার কম। ভোগ্যপণ্যের আমদানি বেশি হলে শুল্ক আদায় বাড়ে। কারণ ভোগ্যপণ্যের শুল্কহার সবচেয়ে বেশি। এবার ভোগ্যপণ্যের আমদানি গত বছরের তুলনায় সামান্য বাড়লেও তাতে রাজস্ব আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

বাংলাদেশের অর্থনীতির হালনাগাদ পর্যালোচনা প্রতিবেদনে সিপিডির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে ৫০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি থাকতে পারে। গত ছয় অর্থবছর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা কখনো অর্জিত হয়নি। সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বলেছেন, গত বছর আমরা ৪২ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকবে বলেছিলাম। পরে ঘাটতি পাওয়া যায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এবার দেখা যাক কী হয়। তবে এর পরিমাণ ৫০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।

তবে এনবিআরের চেয়ারম্যান সিপিডির তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হবে না এটা ঠিক। তবে ঘাটতি এত বেশি হবে না। রাজস্ব ঘাটতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। এর বেশি হবে না। সূত্র : আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ