প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় নেতৃত্ব দেবেন সিঁথি!

ডেস্ক রিপোর্ট : শর্মিলা রহমান সিঁথি আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে সরাসরি ঘোষণা না দিলেও বিএনপিতে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরম্ন হয়েছে। শেষ পর্যন্ত্ম নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সামনে রেখেই নির্বাচনী মাঠে নামতে চায় দলটি। আইনি জটিলতার কারণে তা সম্ভব না হলে জিয়া পরিবারের গ্রহণযোগ্য কোনো সদস্য সামনে থেকে প্রচারণার নেতৃত্ব দিক এমনই চাওয়া নেতাকর্মীদের। এ ক্ষেত্রে সবার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ড. জোবাইদা রহমান। কিন্তু তারেক রহমানের পাসপোর্ট নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের একটি চিঠি বিএনপির সেই ভাবনাকে ফিকে করে দিয়েছে। এখন জানা যাচ্ছে,
তারেক রহমানের পাশাপাশি জোবাইদা রহমান ও তাদের কন্যার পাসপোর্ট যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরে জমা দেয়া হয়েছে। তাই আপাতত জোবাইদার দেশে ফেরার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তাই তার বিকল্প হিসেবে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথিকে দেখা যেতে পারে নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে।

বিএনপির সিনিয়র এক নেতা দাবি করেন, আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরম্ন করলেও প্রস্তুতিতে বিএনপি তাদের চেয়ে অনেক বেশি এগিয়ে আছে। দেশনেত্রীকে আটক রেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নির্বাচনী প্রচারণায় এগিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র বানচাল করতে জিয়া পরিবারের গ্রহণযোগ্য কাউকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণার মাঠে নামার কথা ভাবা হচ্ছে। এক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার ছোটপুত্রবধূর নাম আলোচনায় আছে।
বিএনপির এই নেতা আরও জানান, বিএনপিতে যোগ্য নেতার অভাব নেই। তবে দেশের মানুষ বিএনপি বলতে জিয়া পরিবারকেই চেনে। এজন্য আইনি কারণে খালেদা জিয়া নির্বাচনী মাঠে থাকতে না পারলে জিয়া পরিবারের কাউকে সামনে আনা হবে। এর নেপথ্যে অন্ত্মত তিনটি কারণ আছে। এগুলো হচ্ছে এক. জিয়া পরিবার ধানের শীষের প্রচারণায় থাকলে দেশের মানুষ বিভ্রান্ত্ম হবে না। দুই. দলের চেইন অব কমান্ড ঠিক থাকবে। তিন. স্বশরীরে জিয়া পরিবারে কেউ উপস্থিত থাকলে নির্বাচনী মনোনয়ন নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।
সূত্রমতে, জিয়া পরিবারের দুই পুত্রবধূর কারোর রাজনীতিতে আসার ব্যাপারে আগ্রহ নেই। তবে সময়ের প্রয়োজনে দল ও পারিবারিক স্বার্থে রাজনৈতিক কর্মকা-ে তাদের সম্পৃক্ত হতে দেখা যেতে পারে। এজন্য প্রাথমিক পর্যায়ে প্রস্তুতিও রয়েছে তাদের। এজন্য পারিবারিক রাজনৈতিক নেতাদের বাইরে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে তাদের।
সুত্রমতে, জিয়া পরিবারের কোনো সদস্যই যাতে নির্বাচনী কার্যক্রমে থাকতে না পারেন সেজন্য ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে মনে করছেন দলের নীতি-নির্ধারকরা। এ জন্যই শর্মিলা রহমান সিঁথির বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে অবস্থান করা সিঁথি দুই সন্ত্মানকে নিয়ে দেশে এসেছিলেন সম্প্রতি। ঢাকায় অবস্থানকালে কারাগারে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে গিয়ে শাশুড়ি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। এ ছাড়া দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতার কাছে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বার্তা পৌঁছানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয়ে মতবিনিময় করেছেন সিঁথি।
দলের মধ্যসারির প্রভাবশালী এক নেতা জানান, জিয়া পরিবারের পুত্রবধূদের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়ে এতদিন একেবারেই আগ্রহী ছিলেন না বিএনপি চেয়ারপারসন। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পূর্বের সিদ্ধান্ত্মে পরিবর্তন আনতে পারেন বিএনপি প্রধান। সেক্ষেত্রে দলের প্রয়োজনে জিয়া পরিবারের অন্ত্মত এক পুত্রবধূকে রাজনীতির মাঠে দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও রয়েছে তার।
নির্বাচনী প্রচারণায় জিয়া পরিবারের অংশগ্রহণের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারামুক্তি হয়ে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিবেন বলেই প্রত্যাশা সবার। অন্যদের বিষয়ে আলোচনা হলেও তা বাস্ত্মবায়নের বিষয়টি পরিস্থিতি বলে দেবে।
একই বিষয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রম্নহুল কবির রিজভী বলেন, কে বা কারা বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার নেতৃত্ব দেবেন তা নির্ভর করবে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত্মের ওপর। তারা যদি মনে করেন, দল ও দেশের ভালোর জন্য পরিবারের অন্য কোনো সদস্য রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন, তাহলে তাই হবে। দলের প্রয়োজনে বিগত সময়ে খালেদা সঠিক সিদ্ধান্ত্ম নিয়েছেন। ভবিষ্যতেও নেবেন এমনই আশা সবার। সূত্র : ‍যায়যায়দিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত