প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রমজানে বাজার ঠিক রাখতে এখন থেকে মনিটরিং চান ব্যবসায়ীরা

ডেস্ক রিপোর্ট : রমজান মাসের এখনো বাকি সপ্তাহ দুয়েক। এ মাসকে সামনে রেখে বাজারে চাহিদা বেড়েছে ছোলা, ভোজ্যতেল, ডালসহ নানা পণ্যের। এসব পণের দামেও স্বস্তিতে রয়েছে ক্রেতা সাধারণ। পর্যাপ্ত যোগান থাকায় দাম বাড়ার সম্ভাবনাও নেই। তাই রমজানে বাজার ঠিক রাখতে এখন থেকে শক্তিশালী মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। যাতে রমজান মাসে এসব পণ্যের দর ভোক্তাদের হাতের নাগালে থাকে।
তবে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। এদিকে দাম নাগালের মধ্যে রাখতে টিসিবির পণ্য বিক্রিসহ নানা তৎপরতা থাকবে সরকারের।
রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজান মাস ও শবে-বরাত উপলক্ষে বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। ফলে বেড়ে গেছে নিত্যপণ্যের কেনাবেচা। তবে অন্য বছরের মতো এবার নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়নি। এদিকে ইতিমধ্যে সরকারের বাণিজ্য সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) রমজান উপলক্ষে আগামী ৬ই মে থেকে সারা দেশে ছোলা, চিনি, ডাল, খেজুর ও ভোজ্যতেল বিক্রি শুরু করবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। তবে আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে কী পরিমাণ পণ্য মজুদ করা হয়েছে বা বাজারে ছাড়া হবে, কৌশলগত কারণেই তা আগেভাগে বলছে না টিসিবি। তাদের পণ্য মজুদের পরিমাণ আগে থেকে জানলে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের পণ্য বাজারে না ছেড়ে মজুদ রাখে। এতে একদিকে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে যায়। অন্যদিকে টিসিবির মজুদ খালি হয়ে গেলে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার অস্থির করে তুলতে পারে। তাই মজুদের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন টিসিবি মুখপাত্র হুমায়ুন কবির। জানা গেছে, রমজান মাসে বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ এ সময়ে কিছু নিত্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। আর এ সময়ই ব্যবসায়ীদের একটি চক্র অতি মুনাফা করার লোভে অপতৎপরতায় লেগে যায়। ফলে বেড়ে যায় নিত্যপণ্যের দাম। তবে চিনি, আদা, পিয়াজ, খেজুরসহ অত্যাবশ্যক নিত্যপণ্যের দাম এখনও স্থিতিশীল। ক্রেতারা বলেছেন, রমজানকে কেন্দ্র করে এসব পণ্যের কৃত্রিম সংকট যেন দুর্বিষহ হয়ে না ওঠে সেজন্য এখনই সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। তাদের আশঙ্কা রমজান মাসকে কেন্দ্র করে দাম বেড়ে যেতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, বাজারে পিয়াজ, ছোলা, ডাল, রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো পণ্যের মজুদ ও সরবরাহে ঘাটতি নেই। এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ১৪টি বাজার মনিটরং টিম রয়েছে। এতে দায়িত্ব রয়েছেন ১৪ জন উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা। টিমগুলো সারা বছর বাজার মনিটর করে। তবে রমজান মাসে বিশেষভাবে বাজার মনিটরিংয়ের কাজের সঙ্গে যুক্ত থকে এই ১৪টি টিম। কাওরান বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ী ও মানিক জেনারেল স্টোরের মালিক আবুল কাশেম বলেন, বিভিন্নভাবে একটি পণ্যের মূল্য নির্ধারণ হয়ে থাকে। যেসব কারণে মূল্য নির্ধারিত হয়, সেগুলোর মধ্যে অন্যতম চাহিদা ও যোগানে সমতা। এটাই পণ্যমূল্য বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তাই বাজারে এখন থেকেই মনিটরিংয়ে শক্তিশালী অবস্থান নেয়া দরকার।
বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ছোলা ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের চেয়ে প্রায় ১০-২০ টাকা কমে। গত বছরে রমজানের আগে ছোলার কেজি ছিল ৯০ থেকে ১১০ টাকা। টিসিবি হিসাবে গত বছরের চেয়ে ৮ শতাংশ কম। এছাড়া বাজারে অ্যাংকর প্রতি কেজি ৫০ টাকা, খেসারি প্রতি কেজি ৫৫ টাকা, মাসকলাই প্রতি কেজিতে ১০-১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১২০ টাকা ও বেসন প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। মসুরসহ অন্য ডালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। বাংলাদেশ ডাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেছেন, চাহিদার তুলনায় আমদানি ব্যাপক। কারণ সরবরাহ প্রচুর। কাজেই পণ্যের ঘাটতির সম্ভাবনা নেই। দাম বৃদ্ধির কোনো কারণ নেই। এদিকে বাজারে দেশি পিয়াজ প্রতি কেজি খুচরা ৩৫ টাকা আর ভারতীয় পিয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ টাকায়। দেশি রসুন খুচরা প্রতি কেজি ৯০ টাকা আর চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি। আদা পাইকারি প্রতি কেজি ৮০ টাকা কেজি আর খুচরা বাজারে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি খোলা চিনি ৪২ টাকা, প্যাকেট চিনি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, প্রতি কেজি খোলা আটা ৩২ টাকা, প্রতি ২ কেজি প্যাকেট আটা ৬৮ থেকে ৭০ টাকা, প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল ৯০ টাকা ও প্রতি ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৪৬৫ থেকে ৪৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে শবে-বরাত ও রমজান মাসকে সামনে রেখে মাংসের চাহিদা বেড়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা, লেয়ার মুরগি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, গরুর মাংস ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা ও খাসির মাংস ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আসন্ন রমজানে যে কোনো মূল্যে বাজার নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। ইতিমধ্যে সচিবালয়ে কয়েক দফা বৈঠকে ভোগ্যপণ্যের উৎপাদক ও বিপণনকারীরা তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, রমজান মাসে কোনো পণ্যের দাম বাড়বে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ভোজ্যতেল, পিয়াজ, আদা, ডাল, ছোলা ও খেজুরের সরবরাহ আর মূল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার ওপর জোর দেয়া হয় এসব বৈঠকে। বাণিজ্যমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন, শবে-বরাতের পর থেকেই কয়েক দফা বাজার তদারকি অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। রমজানেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, যেকোনো মূল্যে বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক রাখা হবে। বর্তমানে দেশে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, ডাল, খেজুর, পিয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের যথেষ্ট পরিমাণ মজুদ রয়েছে। সব মিলিয়ে রোজায় ভোগ্যপণ্যের মূল্য যেন বৃদ্ধি না পায় সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার। সূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত