প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জোড়া লাগানো যায়নি রাসেলের বিচ্ছিন্ন পা

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে বাসচাপায় বিচ্ছিন্ন হওয়া প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারের (২৫) পা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জোড়া লাগানো সম্ভব হয়নি। রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে দীর্ঘসময় অস্ত্রোপচারের পরও বিচ্ছিন্ন পা’টি জোড়া লাগাতে ব্যর্থ হন চিকিৎসকরা।

দুর্ঘটনায় আহত রাসেলগত ২৮ এপ্রিল বিকাল ৩টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রাসেলকে উদ্ধারের পর প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পা জোড়া লাগাতে দ্রুত তাকে নেওয়া হয় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। সেখানেও তার বিচ্ছিন্ন পা জোড়া লাগানো সম্ভব হয়নি। এরপর সন্ধ্যায় তাকে নিয়ে যাওয়া হয় অ্যাপোলো হাসপাতালে। সেখানেও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিন ঘণ্টা চেষ্টার পরও জোড়া লাগানো যায়নি রাসেলের পা।

অ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রাইভেটকার চালক রাসেলের সম্পর্কে এপিআর এনার্জি কোম্পানির সিকিউরিটি বিভাগের ক্লোজ প্রোটেকশন অফিসার মো. আরিফ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাসেলকে এখন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। তার বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসকরা লাগানোর চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি। সেটি আর লাগানো সম্ভব হবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম যেন রাসেলের বিচ্ছিন্ন পা কোনোভাবে জোড়া লাগে। সেজন্য বিভিন্ন হাসপাতালেও যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু শত চেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত তার বিচ্ছিন্ন পা জোড়া লাগানো যায়নি।’

আহত রাসেলের গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায়। ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি ভাড়া বাসায় থাকেন তিনি। তার বাবার নাম শফিকুল ইসলাম। সাগর রেন্ট-এ কার প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেটকার চালাতেন তিনি। শনিবার কেরানীগঞ্জে এপিআর এনার্জি বিদ্যুৎ প্রজেক্টের সাইট থেকে ফেরার সময় যাত্রাবাড়ীতে গ্রিন লাইনের বাসটি তাদের প্রাইভেটকারকে ধাক্কা দেয়। পরে গাড়ি থামিয়ে বাসের পাশে গিয়ে বাসচালককে নামতে বলেন রাসেল। কিন্তু চালক তা না করে বাস চালানো শুরু করেন। তখন রাসেল সরতে গেলে ফ্লাইওভারের রেলিংয়ে আটকে পড়েন। সেখানে বাসচাপায় তার বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া ওই বাসটিকে মোটরসাইকেল নিয়ে ধাওয়া করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এসে আটকাতে সক্ষম হন মাশরুর ও সোহাগ নামের দুই তরুণ। পরে তাদের সহায়তায় বাস ও তার চালক কবির হোসেনকে আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশ।

বাসটি ধরতে পিছু নেওয়া নুর হোসেন সোহাগ এবং ফ্লাইওভারের পাশে থাকা মোটরসাইকেল চালক মাশরুর জানান, প্রথমে হানিফ ফ্লাইওভারের টোলঘরের সামনে গিয়ে বাসটিকে ধরেন তারা। সেখানের লোকদের দুর্ঘটনার বিষয়টি বলে সহযোগিতা চান তারা। টোলঘর থেকে জানায়, বাস আটকের এখতিয়ার তাদের নেই, সামনে থাকা পুলিশ সদস্যদের জানান। পরে চাঁনখারপুল মোড়ে থাকা পুলিশ সদস্যদের জানান তারা। সেখানে পুলিশ দেখে বাসচালক ফ্লাইওভার থেকে শাহবাগের দিকে মোড় নেয়। পরে তারা মোটরসাইকেল নিয়ে বঙ্গবাজার মোড় দিয়ে হাইকোর্ট মোড় পার হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কদম ফোয়ারা মোড়ে বাসটিকে থামান। পরে সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যরা এসে গ্রিন লাইনের চালককে আটক করেন।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নুর হোসেন সোহাগ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ধোলাইপাড় ঢালে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে ওঠার মুখে এই ঘটনা ঘটে। আমি তখন পাশের একটি টং দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। এমন সময় ব্রিজের ঢালে দেখি গ্রিন লাইন পরিবহনের একটি বাস থামে। একইসঙ্গে একটি প্রাইভেটকার এসে বাসটির পাশে দাঁড়ায়। প্রাইভেটকারে থাকা ড্রাইভার রাসেল বাসচালককে অনুরোধ করে বলছিলেন, ‘ভাই গাড়ি থামান, ঝামেলা মিটমাট করেন।’ কিন্তু বাসচালক ধীরে ধীরে এগোতে থাকে। একপর্যায়ে বাসচালক বাস নিয়ে পালাতে চেষ্টা করে। তখন রাসেল হাতে ইট নিয়ে বলেন, ‘গাড়ি থামান, নয়তো গাড়ির গ্লাস ফাটায়া দিমু।’

তিনি বলেন, ‘রাসেল ওই বাসের সামনে বাম পাশে দাঁড়ান, বাসচালক ওরে বাঁয়ে চাপ দেয়, সেখান থেকে সরে সে ডানে এলে তখন আবার তাকে ডানে চাপ দিচ্ছিল। রাসেল আবার বাম পাশে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাসচালক তার ওপর দিয়ে গাড়ি তুলে দেয়। এতে ব্রিজের আইল্যান্ডে ধাক্কা খেয়ে বাসের নিচে পড়ে যান রাসেল, তখন তার বাম পায়ের ওপর বাসের চাকা উঠে যায় এবং পা ছিঁড়ে যায়।’ সুত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত