প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চলনবিলে বাঙ্গিতে কৃষকের স্বপ্ন পূরণ

তাপস কুমার, নাটোর : চলনবিলে রসুনের জমিতে সাথী ফসল হিসেবে বাঙ্গি চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এই বাঙ্গী কেনাবেচা করে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। সাথি ফসল হিসেবে এই এলাকায় বাঙ্গী ও তরমুজের আবাদ হয়ে থাকে।

কৃষক-কৃষাণীরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাঠে নেমেছেন পাঁকা বাঙ্গী তুলতে। বিস্তৃর্ণ মাঠের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া সরু পিচঢালা সড়কের দু’পাশে সারি সারি করে রাখা হয়েছে ফল আর ফল। তুলে আনা এসব পাকা বাঙ্গি সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিক্রির জন্য। রসুনে ক্ষতি হলেও সাথি ফসল বাঙ্গিতে বাম্পার ফলনের পাশাপাশি দামও পাচ্ছেন বেশ ভাল। এতে রসুনের ক্ষতি পুষিয়ে লাভের আশাও করছেন চলনবিলের কৃষকরা।

পাকা বাঙ্গি বিক্রির পর দুপুর থেকে তুলনামূলক কাঁচা ও আধাপাকা বাঙ্গী ট্রাকে লোড শুরু হয়। এগুলো রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হয়। এভাবেই প্রতিদিন চলনবিলের বিভিন্ন উপজেলার গ্রামে গ্রামে জমে উঠেছে কাঁচা-পাঁকা বাঙ্গি বেচাকেনা।

কৃষকরা জানান, বাঙ্গি চাষ করার জন্য আলাদা করে জমির দরকার হয় না। রসুন চাষের জমিতেই বাঙ্গি বীজ বপন করতে হয়। রসুন উঠে যাওয়ার পরই বাঙ্গির গাছ ছড়িয়ে পড়ে ক্ষেতে। তখন সামান্য সেচ ও কীটনাশক দিয়ে যতœ নিলেই গাছে গাছে ফুল ও ফল ধরতে শুরু করে। চৈত্র মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ধরে থাকা বাঙ্গি তুলতে শুরু করে কৃষক।

তারা জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে রসুনে ভাল ফলন হলেও আশানুরুপ দাম না পাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কৃষক। ফলে অনেকটা বিনা খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় রসুনের লোকসান পোষাতে বাঙ্গী চাষে ঝুঁকছে এ অঞ্চলের কৃষক। তবে এবছর রসুনেও ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাঙ্গিতে আশানুরূপ দাম পাওয়ায় বেশ খুশি তারা। চলনবিল এলাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪০-৫০টি ট্র্যাক বাঙ্গি লোড করা হচ্ছে। প্রতিটি ট্র্যাকে তিন থেকে চার হাজার পিছ বাঙ্গি লোড করা হয়। এতে ট্র্যাক প্রতি প্রায় ১লাখ থেকে দেড় লাখ টাকার বাঙ্গি নিয়ে যায় ব্যাপারিরা। এ অঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকার বাঙ্গি সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, চলনবিলাঞ্চলে এ বছর ৪৫০ হেক্টর জমিতে বাঙ্গি ও ৫৭০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করেছেন কৃষক। বিগত কয়েক বছর ধরে রসুনে ভাল দাম না পাওয়ায় একই জমিতে বিঘায় ৯-১২হাজার টাকা ব্যায়ে বাঙ্গি চাষ করছে এ অঞ্চলের কৃষক।

চলনালী গ্রামের কৃষক আরিফ হোসেন জানান, তিনি ৪ বিঘা জমিতে বিনা চাষে রসুন করেছিলেন। তিনি রসুনের দাম না পেয়ে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে কৃষি বিভাগের পরামর্শে রসুনের জমিতে সাথী ফল হিসেবে বাঙ্গি চাষ শুরু করেন। গত ৩ বছর বাঙ্গি বিক্রি করে বিঘা প্রতি প্রায় ৩০ হাজার টাকা করে লাভ হয়েছিল। এবার লাভটা আরো বেশী হবে বলে প্রত্যাশা করেন।

নাটোর জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.রফিকুল ইসলাম বলেন, চলনবিলের বিনা চাষে রসুনের আবাদ হলেও অধিকাংশ কৃষক অজ্ঞতা ও অসচেতনতার কারণে সাথি ফসল চাষের প্রতি আগ্রহী ছিল না ৫ বছর আগে। মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করায়, কৃষক এখন সাথি ফল বাঙ্গী আবাদ করতে শুরু করেছে। অনেকটা বিনা খরচে একই জমিতে বাঙ্গী চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় চলনবিলের কৃষকদের ভাগ্য বদল শুরু হয়েছে। আগামীতে ব্যাপক ভিত্তিতে বাঙ্গি চাষ হবে বলে আশা করেন। সম্পাদনা : মুরাদ হাসান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত