প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নেত্রকোনার কুতুব হযরত শাহ সুলতান রুমি (রহ.)

যে সকল মহাপুরুষ মহান আল্লাহর বাণী প্রচার করার জন্য ভারতবর্ষে এসেছিলেন, তাদের মধ্যে প্রথমেই যার আগমন ঘটেছিল তিনি হলেন পারস্যের শাহ সুলতান রুমি (রহ.)। ১০৫৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি এই বাংলার নেত্রকোনার মদনপুরে এসেছিলেন। তৎকালীন রাজা মদন রায় যিনি মদনা রাজা নামে পরিচিত তখন সেই অঞ্চল শাসন করতেন। এই রাজা ছিলেন অত্যন্ত নিষ্ঠুর প্রকৃতির। কিন্তু হযরত শাহ সুলতান রুমি (রহ.) এখানে আসার পর রাজা মদন রায় এই মহাপুরুষের উপর নানা ধরনের অত্যাচার চালাতে থাকেন। তিনি ৪০ জন সঙ্গী সহ এখানে আসেন।

তিনি যখন আযান দিতেন, রাজা মদন রায় বাধা দিতেন। কোন ভাবেই তিনি আযানের ধ্বনিকে মেনে নিতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত রাজা মদন রায় কৌশল অবলম্বন করলেন, তিনি এই মহাপুরুষকে তার রাজ দরবারে দাওয়াত দিলেন, উদ্দেশ্য ছিল যেভাবেই হউক এই মহাপুরুষকে বিষ পান করিয়ে হত্যা করা। শেষ পর্যন্ত হযরত শাহ সুলতান রুমি (রহ.) রাজা মদন রায়ের দরবারে উপস্থিত হলেন। রাজা তাকে নির্দেশ দিলেন যদি শিষ্যদের বাঁচাতে চাও, তাহলে আমার দেওয়া এই বিষের পাত্রের সমস্ত বিষ তোমাকে পান করতে হবে। এই মহাপুরুষ রাজার নির্দেশ মেনে নিলেন। তিনি জানতেন জীবন মৃত্যুর মালিক একমাত্র মহান আল্লাহর হাতে, কোন রাজা বাদশাহর হাতে না।

তিনি মহান আল্লাহকে স্মরণ করলেন, আর বিষের পেয়ালা গলায় ঢেলে দিলেন, রাজা মদন রায় লক্ষ্য করলেন এই মহাপুরুষ মুচকি হাসছেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন বিষের কোন প্রতিক্রিয়া আপনার উপর হচ্ছে না কে? তিনি বললেন, যিনি আমাকে জীবন দিয়েছেন, তার নামের শপথ তিনিই আমাকে রক্ষা করেছেন। রাজা মদন রায় এই ঘটনা দেখে অবাক হয়ে গেলেন, শেষ পর্যন্ত তিনি বললেন যিনি আপনার জীবন রক্ষা করলেন আমিও সেই আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম। পরবর্তীতে রাজা মদন রায় এর নামে স্থানটির নাম হয়ে যায় মদনপুর। স্থানটি নেত্রকোনার শহর থেকে ৮ মাইল দক্ষিণে। আরেকটি ঘটনা এই মহা পুরুষের জীবনে ঘটেছিল, রাজা মদন রায় এই মহাপুরুষকে নামাজ পড়ার জন্য একটি ক্ষুদ্র স্থান দিয়েছিলেন, আর বলেছিলেন এই অল্প জায়গার মধ্যে আপনার সাথীদেরকে নিয়ে আপনার নামাজ আদায় করতে হবে।

তিনি রাজা মদন রায় এর কাছে একটা ছোট জায়নামাজ বিছানোর অনুমতি চাইলেন এবং রাজা অনুমতি দিলেন। মহান আল্লাহর অশেষ কুদরতে এই জায়নামাজটি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ল। রাজা মদন রায় এই অলৌকিকতা দেখে অবাক হয়ে গেলেন। সারা বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক যারা নেত্রকোনা ভ্রমনে যান, তারা হযরত শাহ সুলতান রুমি (রহ.) মাজার জিয়ারত করতে ভুল করেন না। এখানকার প্রকৃতি অত্যন্ত কোমল। তিনি সকাল সন্ধ্যায় মহান আল্লাহর দরবারে ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল থাকতেন। এই মহাপুরুষের কবে ওফাৎ হয়েছিল তার সঠিক তারিখ নির্ধারিত হয়নি। তারিখ নির্ধারিত না হলেও মহান আল্লাহর অনুগত এই মহাপুরুষরা চির অমর, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদেরকে সকাল সন্ধ্যায় রিযিক দান করা হয়, যা পবিত্র কুরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন।

লেখক : কলামিস্ট/সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত