প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বলে নয় কলে যৌতুক আদায় করা হয়

বাবা-মায়ের কাছে সন্তান হচ্ছে সবচেয়ে বড় সম্পদ। বাবা-মা ছেলে-মেয়েকে কষ্ট করে লালন-পালন করেন। ছেলে-মেয়ে বড় হলে দায়িত্ব আদায় করেন বিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। হকপন্থী বর দেখে মেয়ের বিয়ে দেন, ঠিক তেমনি হকপন্থী মেয়ে দেখে ছেলের বউ করে ঘরে আনেন।

গ্রামে-গঞ্জের অনেক বাবা-মা তাদের আদরের মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার সময় অতিরিক্ত খরচ করতে গিয়ে নিজেরা পড়ে যান অর্থ কষ্টে। এই কষ্টের নাম যৌতুক। আজকাল যৌতুক বলে নয় কলে নেওয়া হয় অর্থাৎ বর পক্ষ কনের বাবাকে বলা হয় আপনার মেয়ে তাই মেয়েকে যা দিতে চান দিন। আরো বলা হয় মেয়ের ভালোর জন্য আপনার ইচ্ছেতেই আমরা ভরসা রাখি। বেচারা বাবা আর কি করবে ভিক্ষা করে হলেও মুখ রক্ষা করে। ভিক্ষা বলতে সেটাও হরেক রকমের। এখানে শেষ নয় বিয়ের পরেও মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে নানান সময়ে পাঠাতে হয় নানান কিসিমের উপহার। যা পাঠানোর সামর্থ্য হয়তো সকলের থাকে না।

তারপরেও সামাজিকতার নামে অপসংস্কৃতির কারণে বিবাহিত মেয়ের বাবা, মা, ভাইকে নিধারুণ কষ্ট করে হলেও তা মিটাতে হয়। মেয়ের শ্বশুর বাড়ি পাঠাতে হয় উপহার সামগ্রী। মেয়ের বাড়ি মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে ইফতারি, আম্ভখছি, ঈদের সময় গরু কিংবা খাসি, মেয়ের সন্তান জন্ম নেওয়ার সময় কাপড় দেওয়া-এসব হচ্ছে এক ধরনের নির্যাতনের নাম। কষ্ট করে মেয়েকে বড় করে বিয়ে দেওয়ার পর এসব উপহারের নামে যে নির্যাতন সমাজ সৃষ্টি করেছে সেটা কি অপরাধ নয়?

চিন্তা করুন, পবিত্র মাহে রমজানে হাজার হাজার টাকা খরচ করে ইফতারি, জ্যৈষ্ঠ মাসে ফলমূল নামের আম্ভখছি, কোরবানি ঈদে গরু-ছাগল, মেয়ের সন্তান জন্ম নেওয়ার সময় উপহারের নামে মেয়ের স্বামীর বাড়ির সকলকে পোশাক দেওয়া একজন দিনমজুর বাবা-ভাইয়ের জন্য কত কষ্টকর হতে পারে? একজন প্রবাসী ভাইয়ের শরীরের রক্তের বিনিময়ে উপার্জিত টাকা কি করে উপহারের নামে এই ফালতু সংস্কৃতিকে লালন করতে ব্যয় করা হবে? মধ্যবিত্ত পরিবার কী করে উপহারের নামে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া সংস্কৃতি লালন করবে? ধনী বাবা হয়তো উপহার নামের অপসংস্কৃতি মেনে নিয়ে উপহার দিতে পারেন কিন্তু যার সে সামর্থ্য নেই তাকে কেন বাধ্য করা হবে?

এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, যদি মেয়ের বাবার বাড়ি ওইসব উপহার না দেওয়া হয় তাহলে শ্বশুর বাড়ির মানুষ অনেক রকম কথাবার্তা বলে, ফলে মেয়েকে লজ্জায় পড়তে হয়। সংসারে অশান্তি হয়। পত্রপত্রিকায় নানা সময় দেখা যায়, গৃহবধূরা আত্মহত্যা করেন। এই আত্মহত্যা উপহার নামের এই অপসংস্কৃতির জন্যও থাকে। পারিবারিক অশান্তির অন্যতম কারণও এই উপহার। অথচ, গ্রামে-গঞ্জে এমনও দেখা গেছে যে, জ্যৈষ্ঠ মাসে ছেলের শ্বশুরবাড়ি আসা হাজার হাজার টাকার ফলমূল গুরুকে খেতে দেওয়া হচ্ছে।

যাইহোক, উপহারের নামে এ জুলুমের অপসংস্কৃতি রোধে যুব সমাজকে জাগ্রত হতে হবে। পাড়ায়-পাড়ায়, মহল্লায়-মহল্লায় সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। বিশেষ করে মহিলাদেরকে এসবের কুফল সম্পর্কে বোঝাতে হবে। সমাজকে বুঝতে হবে, এটা একরকম যৌতুক। সংস্কৃতি আর অপসংস্কৃতি কী সেটা সকলকে জানতে হবে ভালো করে। যুব সমাজকে কাজ করতে হবে সমাজ অপসংস্কৃতি বিদায় করতে।

লেখক : শারজাহ, ইউএই থেকে/সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ