প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সারাদেশে বজ্রপাতে নিহত ১৬ (ভিডিও)

ফাহিম : বজ্রপাতে সারা দেশে মোট ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে সিরাজগঞ্জে বাবা-ছেলেসহ ৫ জন এবং মাগুরায় ২ জন। এছাড়া নওগাঁ, রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও সুনামগঞ্জে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর, কাজিপুর ও কামারখন্দ উপজেলায় বজ্রপাতে পিতা-পুত্র ও কলেজছাত্রসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার এ ঘটনা ঘটে। মৃতরা ব্যক্তিরা হলেন, শাহজাদপুর পৌর এলাকার ছয়আনিপাড়া মহল্লার ফারুক হাসানের ছেলে নাবিল হোসেন (১৭), রাশেদুল হাসানের ছেলে পলিং হোসেন (১৬), কাজীপুর উপজেলার ডিগ্রি তেকানী গ্রামের মৃত পারেশ মন্ডলের ছেলে শামছুল মন্ডল (৫৫) ও তার ছেলে আরমান (১৪) এবং কামারখন্দের পেস্তক কুড়াগ্রামের মৃত আহের মন্ডলের ছেলে কাদের হোসেন (৩৭)।

কাজিপুরের তেকানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হারুনার রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, রোববার সকালে ডিগ্রি তেকানী চরে ছেলেকে সাথে নিয়ে বাদাম তুলছিলেন শামছুল। এ সময় ঝড় বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাত হয়ে দু’জনেই ঝলসে যান। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে কাজিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।

দুপুরের দিকে শাহজাদপুর উপজেলা ভূমি অফিসের সামনে বজ্রপাতে নাবিল ও পলিং নামের দুই কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। তারা পৌর এলাকার ছয় আনিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ও শাহজাদপুর ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র।

পোতাজিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনচার্জ (নার্স) আব্দুল লতিফ ওই দুই ছাত্রের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কামারখন্দ উপজেলার পেস্তক কুড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতে বজ্রপাতে কাদের হোসেন (৩৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আহের মন্ডলের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, কৃষক কাদের হোসেন বাড়ীর পাশেই নিজের ক্ষেতে ধান কাটছিলেন। হঠাৎ করেই বৃষ্টি ও বজ্রপাত হতে থাকে। এক পর্যায়ে বজ্রপাতে তার শরীর ঝলসে যায়। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে মারা যান।

কামারখন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিলা বেগম বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মাগুরা জেলায় বজ্রপাতে ও বিদ্যুতের টাওয়ার ভেঙে তিন যুবকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। রোববার সদর উপজেলা ও শ্রীপুর উপজেলায় বজ্রপাতে দু’জন এবং শালিখা উপজেলায় বিদ্যুতের টাওয়ার ভেঙে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

মৃতরা ব্যক্তিরা হলেন, মাগুরা সদর উপজেলার আমুড়িয়া গ্রামের আবদুর রশিদ মোল্যার ছেলে কৃষক আলম মোল্যা (৩৫), শ্রীপুর উপজেলার জোকা গ্রামের ভ্যানচালক শামিম (২৫) ও জয়পুরহাটের মোহনপুর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে মেহেদি হাসান (১৮)।

এদের মধ্যে প্রথম দু’জনের বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, দুপুর দেড়টার দিকে বজ্রপাতের সাথে বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কৃষক আলম মোল্যা এবং ভ্যানচালক শামিম আহত হয়।

এদিকে, শালিখা উপজেলার বুনাগাতি মাঠে বিদ্যুতের টাওয়ার ভেঙে পড়লে বিদ্যুৎ অফিসের শ্রমিক মেহেদি গুরুতর আহত হয়।

এসময় আহতদের মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।

মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. সুশান্ত কুমার বিশ্বাস জানান, আহত তিনজনকে হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে পৃথক পৃথকভাবে অবগত করা হয়েছে।

নওগাঁ জেলার সাপাহারে সোনাভান বিবি (২২) নামে এক গৃহবধূ বজ্রপাতে মারা গেছেন। এ ঘটনায় স্বামী রুবেল হোসেনসহ ৩ জন আহত হয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার দুপুরে উপজেলার শিমুলডাঙ্গা রামাশ্রম গ্রামে।

সাপাহার থানার ওসি শামসুল আলম জানান, রোববার দুপুরে নিজ বাড়িতে রান্নার কাজে নিয়োজিত থাকা অবস্থায় বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে ঘটনাস্থলেই ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।

এ সময় একই সময়ে নিহতের স্বামী রুবেল হোসেন (৩০), পাশ্ববর্তী বাড়ির সালেহা বিবি (৪২) ও রাজু (১৫) আহত হন।

রাঙ্গামাটি: জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় বজ্রপাতে মনছুরা বেগম (৩৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। মনছুরা বেগম বাঘাইছড়ি উপজেলার মুসলিম ব্লক এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার নিশ্চিত করে বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমির হোসেন জানিয়েছেন, রোববার দুপুর একটার দিকে রাঙ্গামাটির উপজেলার মুসলিম ব্লক এলাকার বাসিন্দা মনছুরা বেগম বজ্রপাতে মারা যান। লাশ পরিবারের কাছে রয়েছে। লাশ দাফনের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান ওসি।

নোয়াখালী জেলা সদর উপজেলায় স্কুল বন্ধ থাকায় সহপাঠীদের সাথে ফুটবল খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে পিয়াল (১৩) নামে এক ছাত্র নিহত হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের বশিরার দোকানের পার্শ্ববর্তী একটি খেলার মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত পিয়াল নোয়াখালী পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের লক্ষ্মীনারায়ণপুর গ্রামের সোহেল রানার ছেলে। সে নোয়াখালী জেলা স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয় ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার বৌদ্ধ পূর্ণিমার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় সকালে সহপাঠীদের সাথে ফুটবল খেলতে মাঠে যায় পিয়াল। দুপুর ১২টার দিকে ঝড়ো বাতাস ও বৃষ্টি শুরু হলে পিয়াল ও তার সহপাঠীদের মাঠ থেকে উঠে আসে। পরে মাঠের পাশে ফেলে আসা জুতা আনার জন্য ছুটে গেলে আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় পিয়াল।

এ মর্মান্তিক খবর পেয়ে পিয়ালের বাবা সোহেল রানা হৃদরোগের আক্রান্ত হন। তাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সুধারাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) লিটন দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মৃতদেহ উদ্ধার নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: জেলার আখাউড়ায় বজ্রপাতে আ. রহিম (৫০) নামে এক ধান কাটার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এসময় আরেক শ্রমিক আহত হন। রোববার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মুগড়া ইউনিয়নের দরুইন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

শ্রমিক রহিমের গ্রামের বাড়ি শ্রীমঙ্গল জেলায়।

স্থানীয়রা জানান, সকালে দরুইন গ্রামের কৃষক তাজুল ইসলামের জমিতে ধান কাটতে যান আ. রহিমসহ কয়েকজন শ্রমিক। বৈরী আবহাওয়ার সময় হঠাৎ বজ্রপাতে আ. রহিম গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। আহত হন অপর আরেকজন শ্রমিক।

তাদের আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রহিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর শ্রমিকের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

এদিকে এ ঘটনা জানতে পেরে ধানি জমির মালিক কৃষক তাজুল ইসলাম হৃদরোগে আক্রান্ত হন। অসুস্থ অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান।

মোগড়া ইয়নিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন বলেন, আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। হাসপাতাল থেকে মরদেহটি এনে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আরিফুল আমিন জানান, ঘটনাটি জানতে পেরেছি। লাশ উদ্ধার করতে থানা থেকে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ : জেলার সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে বজ্রপাতে লিটন মিয়া (৩০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

কৃষক লিটন সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কৃষক লিটন বাড়ির পাশে ধানক্ষেত ধান দেখতে যান। এসময় হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লিটনকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলাম জানান, সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় খবর দেওয়া হয়েছে।

-পরিবর্তন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত