প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চলনবিলে পুকুরে মাছ চাষে মুরগীর বিষ্ঠা ব্যবহারে জনজীবন অতিষ্ঠ

জাকির আকন, চলনবিল: চলনবিলের ৯টি উপজেলার প্রায় ৫হাজারের বেশি পুকুরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মুরগীর বিষ্ঠা (লিটার ) ব্যবহার করে মাছ চাষ করার ফলে দুষিত হচ্ছে পানি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে মানুষ জীবন।

কৃষি অধিদপ্তর থেকে বিষ্ঠা থেকে জৈব সার তৈরি করে পুকুরে ব্যবহার করার কথা বলা হলেও তা মানছেন না এক শ্রেণীর মাছ চাষীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এতে করে চলনবিলের পুকুরের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে এবং পরিবেশ দুষণ বেড়ে গেছে।

জানা গেছে, চলনবিলের তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, চাটমোহর, গুরুদাসপুর, সিংড়া ও আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জের পুকুরে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন খামারের মুরগীর বিষ্ঠা ও তৎসংশ্লিষ্ট বর্জ্য পদার্থ স্থানীয় লিটার বলে অভিহিত করে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানান, মুরগীর বিষ্ঠা প্রক্রিয়া করে জৈব সার তৈরি করা যায়। যা প্রায় ৪ মাস মাটিতে পুঁতে রেখে ১’শ কেজি বিষ্ঠা থেকে প্রায় ৫০ কেজি টিএসপির গুনাগুন সমৃদ্ধ জৈব সার পাওয়া সম্ভব। যা পুকুরে মাছচাষে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চলনবিল অঞ্চলে মুরগীর বিষ্ঠা যথাযথ প্রক্রিয়া ব্যবহার না করে সরাসরি খামার থেকে নিয়ে পুকুরে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে রাস্তার ধারে, পুকুরের পাড়ে যত্রতত্র রেখে মাছচাষে ব্যবহারের কারণে পুকুরের পানি দূষিত হচ্ছে ও দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দূষিত ওই পানি ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও তা মানা হচ্ছে না। জেনে শুনেই গ্রাম এলাকার সাধারন মানুষ পুকুরের পানি ব্যবহার করে আক্রান্ত হচ্ছে পানি বাহিত নানা রোগে। চলনবিলের ৯ উপজেলার প্রায় ৫০ ভাগ পুকুরেই মুরগীর বিষ্ঠা সরাসরি মাছের খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে চলনবিলের মৎস্যজীবীরা জানান।

তারা আরও বলেন, বিশেষ করে গ্রীষ্ম ও শীত মৌসুমে পুকুর গুলোতে মুরগীর বিষ্ঠা ব্যবহার হয় সবচেয়ে বেশী। এ দিকে দিনের পর দিন একই পুকুরে বার বার পোল্ট্রি বিষ্ঠা ও বর্জ্য ব্যবহারে পানি দুর্গন্ধের পাশাপাশি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়ছে। তারপরও কোন উপায় না পেয়ে লোকজন এ সব পুকুরের পানি ব্যবহার করে পানি বাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাছাড়া রাস্তার পাশে এ সব পোল্ট্রি বিষ্ঠা ও বর্জ্য ফেলে রাখায় পথচারীদের চলাচলে মারাত্বক অসুবিধার সৃষ্টি হলেও দেখার কেউ নেই। চলনবিলের সাংবদিক , সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী আতিকুল ইসলাম বুলবুল জানান, মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করে জনসাধারনের জীবন ও স্বাস্থ্য হুমকির মূখে কিন্তু প্রশাসন এর কোন পদক্ষেপ নেই । তিনি ক্ষেভের সঙ্গে আরো জানান এই লিটার বন্ধে দরকার হলে সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে কর্মসুচি দেওয়া দিতে হবে । এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ওসি (তদন্ত) ফজলে আশিক জানান, মুরগীর বিষ্ঠা ব্যবহারকারীরা পরিবেশ দূষণ করায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত