প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাগলী নিজ সন্তানকেই চেনে না, বারবার মারতে যায় (ভিডিও)

রবিন আকরাম : পাশে শুয়ে থাকা কন্যা শিশুটি পাগলীর সন্তান, যার বাবা কে জানা নেই কারও। পাগলী নিজ সন্তানকেই চেনেন না। উল্টো সন্তানটিকে মেরে ফেলতে উদ্ধত হচ্ছেন তিনি। পাগলীর নাম দেয়া হয়েছে শেফালি (২১)।

জানা যায়, জন্মের চার দিন পর নবজাতকটিকে মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের কাছে দেয়া হয়। কিন্তু, কোনোভাবেই সন্তানকে নেবেন না শেফালি। দুধও খাওয়াবেন না। অনেক চেষ্টার পর হাসপাতালের প্যাথলজিস্ট আলেয়া বেগম শিশুটিকে মায়ের দুধ খাওয়াতে সক্ষম হন।

পরে তিনি বলেন, নবজাতকটিকে মায়ের কাছে রাখাই যাচ্ছে না। কাছে নিলেই মেরে ফেলতে যাচ্ছে।

আলেয়ার ভাষ্যে, ‘দুধ খাওয়াতে বাচ্চাটিকে নিলে শেফালি আমার গালে থাপ্পড় মারেন। বলতে থাকেন- তুই কার বাচ্চাকে আমার দুধ খাওয়াস? এ বাচ্চা আমার না।

শেফালি ও তার নবজাতকের সহায়তায় এগিয়ে আসা স্থানীয় এভারগ্রিন ফ্রেন্ড সার্কেলের সদস্য শেখ শাহিন বলেন, শেফালি তার সন্তানকে দেখে কখনও হাসছেন, কখনও কাঁদছেন। মারতে যাচ্ছেন। অস্বাভাবিক আচরণ করছেন।

আলেয়া ও শাহিন উভয়েই জানান, নবজাতকটির এখন সার্বক্ষণিক মায়ের সেবা-যত্ন দরকার। অপুষ্টিতে ভুগছে। কিন্তু, তার মা সেটি করতে সক্ষম নন। তিনি নিজের বিষয়েই উদাসীন।

তারা আরও জানান, একজন ভালো মানুষ বাচ্চাটির দায়িত্ব নিলে ও বেঁচে যেত, নিরাপত্তা পেত।

হাসপাতালের প্যাথলজিস্ট আলেয়া বেগম আরও বলেন, পাগলী মাকে হয়ত আরও ২০/২৫ দিন চিকিৎসা দিলে কিছুটা স্বাভাবিক হবেন। তখন তার একটা গতি হবে। কিন্তু, এখন যত দুঃশ্চিন্তা বাচ্চাটিকে নিয়ে।

ইতোমধ্যে স্থানীয় সাংবাদিক সৌরভসহ বেশ কয়েকজন পরিচয়হীন নবজাতকটির দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন। কিন্তু, এদের কাউকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপদ অভিভাবক মনে করছেন না। এজন্য তারা কোনো অনাথ আশ্রমে দেয়ার চিন্তা করছেন।

উল্লেখ্য, পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুর এলাকায় ভিক্ষা করতেন শেফালি। কয়েক মাস আগে হঠাৎ এলাকাসী তার অন্তঃসত্ত্বার বিষয়টি টের পান।

এরপর গত ২৪ এপ্রিল আমিনপুর থানার ওসি সুকুমার নন্দি শেফালিকে উদ্ধার করে কাশিনাথপুর পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় সিজারিয়ানে ওই প্রসূতি ফুটফুটে কন্যাসন্তান জন্ম দেন। পরিবর্তন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত