প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পরিবহন শ্রমিকদের কোন তথ্য নেই পুলিশের কাছে

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীতে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটের নাম, ঠিকানাসহ সব তথ্য সংগ্রহ করলেও গণপরিবহনের ড্রাইভার, কন্ডাক্টর, সুপারভাইজার ও হেলপারদের কোন তথ্য পুলিশের কাছে নেই। এমনকি পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের অফিসেও পরিবহন শ্রমিকদের কোন তথ্য নেই। গণপরিবহনে ড্রাইভার, কন্ডাক্টর, হেলপার ও সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত শ্রমিকদের নেই কোন অনুমোদিত কাঠামো। কোন শ্রমিক কোন পরিবহনে কাজ করছে তাও কেউ জানে না। এছাড়া পরিবহন সেক্টরে কাজ করা শ্রমিকদের কোন শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না।

এসব ড্রাইভার ও হেলপারের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণেই প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। কিন্তু কোন প্রতিষ্ঠানে তথ্য না থাকার কারণে দুর্ঘটনার পর গাড়িচালক ও সহকারীদের খুঁজে পাওয়া যায় না। সূত্র: দৈনিক সংবাদ

চলন্ত বাসে কিছু অসাধু ড্রাইভার ও হেলপারের দ্বারা প্রতিনিয়তই যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারী যাত্রীরা। কিন্তু বাসচালক ও হেলপারের পরিচয় না থাকার কারণে অভিযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানান যাত্রীরা।

ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, তারা ড্রাইভার ও হেলপারদের তথ্য সংগ্রহে কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। আর বেপরোয়া গতির যানবাহন প্রতিরোধে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে ভ্রাম্যমাণ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে এদিকে বাস চালক ও হেলপারের নাম, মোবাইল নাম্বার ও ঠিকানাসহ নির্দিষ্ট পোশাক যুক্ত করার সুপারিশ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

ঢাকা মহানগরীতে সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) রেজিস্ট্রেশনকৃত বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ১১ লাখের বেশি। এর মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে বাসের সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার। বিআরটিএ ওয়েবসাইটের চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত নিবন্ধনকৃত পরিবহনের এই তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অটোরিকশা আছে ৯ হাজারের বেশি, প্রাইভেটকার প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮শ। এই হিসাবে রাজধানীতে চলাচলরত প্রায় ১১ লাখ যানবাহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারসহ প্রায় অর্ধ কোটি জনবল কর্মরত। কিন্তু শ্রমিকদের নাম, ঠিকানাসহ কোন তথ্য নেই পুলিশসহ সরকারের কোন দফতরে। অথচ রাজধানীতে গণপরিবহনের রুট পারমিট থেকে শুরু করে তদারকির পুরো দায়িত্ব ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের। ঢাকা শহরে কোন রুটে কোন বাস চলাচল করবে তার অনুমোদন দেয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

সূত্র জানায়, রাজধানীতে গণপরিবহন বেপরোয়াভাবে যাত্রী উঠানোর জন্য প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় শিকার হন যাত্রীরা। দুর্ঘটনার পর চালক ও হেলপার গাড়ি রেখে পালিয়ে যায়। তথ্য না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের গ্রেফতার করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। নিবন্ধনকৃত গাড়িতে কে ড্রাইভার ও হেলপার তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ জানে না। ফলে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে অনেকেই পার পেয়ে যায়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন থানার দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিজ নিজ থানা এলাকার বাসা বাড়িতে গিয়ে সবাইকে দিয়ে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটের নাম ঠিকানাসহ সকল তথ্য সংগ্রহ করে। তারা ওই তথ্য থানায় সংগ্রহ করে তার ভিত্তিতে তার সম্পর্কে খোঁজখবর নেয়। নগরবাসী পরিবহনের প্রকৃত তথ্য পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কাছে নেই। ড্রাইভার ও হেলপারদের পোশাকে তাদের কোন নাম পরিচয় বা মনোগ্রাম নেই।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিকের দক্ষিণ বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মো. মফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বেপরোয়া গতির যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে ২ মে থেকে ভ্রাম্যমান আদালত কাজ শুরু করবেন। আর গণপবিহনের ড্রাইভার ও হেলপ্রাদের তালিকা না থাকায় ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগে শিগগিরই ড্রাইভার ও হেলপারদের ডাটাবেইজ তৈরীর কাজ শুরু করবে। ইতিমধ্যে বেপরোয়া গতির যানবাহন প্রতিরোধে বিআরটিএ,বাস মালিক শ্রমিক ও পরিবহনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। সায়েদাবাদে এ বৈঠক হয়েছে। অন্যান্য স্থানে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেয়া হবে। আগামী ১৪ মে নগরীর ফুলবাড়িয়া পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের নিয়ে ঢাকা, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বৈঠক করবেন। সেখানে সচেতনতামূলক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। বলে তিনি জানান।

এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি’র মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, পরিবহন সেক্টরে লাখ লাখ শ্রমিকের তথ্য রাখা সম্ভব নয়। কারণ তারা স্থায়ীভাবে চাকরি করে না। আজ এক জায়গায় তো কাল অন্য কাজ করে। বেশি বেতনের জন্য প্রতিদিনই চাকরি পরিবর্তন করে। এজন্য তাদের নিয়োগপত্র দেয়া যায় না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত