প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নারীর অধিকার আদায়ে শেখ হাসিনার চার দফা বিশ্বের নতুন চমক

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাভোগ ও তারেক রহমানের পাসপোর্টকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশলের মধ্যে চমৎকার একটি সংবাদ এখন দেশের দোরগোড়ায়। গোটাবিশ্বের নারীসমাজের জন্য অসাধারণ একটি বার্তা বয়ে আনছেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর একাগ্রতা, চেষ্টা ও আন্তরিকতায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। আমাদের বাংলাদেশের জন্য নতুন আশা নিয়ে, নতুন স্বপ্ন নিয়ে, নতুন প্রত্যয় নিয়ে এসেছে ‘গ্লোবাল সামিট অন উইমেন’। সিডনিতে শুক্রবার (২৭ এপ্রিল) জমকালো এক অনুষ্ঠানে নারী নেতৃত্বে সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে এই ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেওয়া হয় শেখ হাসিনার হাতে। এটা বিশ্বের সকল অশুভ ও অসুন্দরকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশে এসেছে বিশ্বনতুনের কেতন উড়িয়ে। পুরস্কার গ্রহণ করা ও অস্ট্রেলিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল।

এই উৎসবের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর সর্বজনীনতা, এটি সব নারীদের সহায়তায়, তাদের অধিকার নিশ্চিত করবার প্রাণের শক্তি। নারীর অগ্রযাত্রাই কেবল পৃথিবীকে শান্তিময় করে তুলতে পারে।

বিশ্বে নারীর অধিকার আদায় করে নিতে নতুনভাবে জোটবদ্ধ হওয়ার আহ্বান এসেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে। আর এই লক্ষ্য পূরণে জীবন ও জীবিকার সকল ক্ষেত্রে নারীদের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করাসহ অস্ট্রেলিয়ায় ওই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে চার দফা আহ্বান তুলে ধরেছেন তিনি। সিডনিতে ‘গ্লোবাল সামিট অন উইমেন’Ñ এ জমকালো এ অনুষ্ঠানে নারী নেতৃত্বে সফলতার স্বীকৃতি হিসেবে ‘গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেওয়া হয় শেখ হাসিনার হাতে। সিডনির ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশান সেন্টারে সম্মেলনের সভাপতি আইরিন ন্যাটিভিডাডের হাত থেকে সম্মাননা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এই পুরস্কার উৎসর্গ করছি বিশ্বের নারীদের; যারা পরিবর্তনের চেষ্টায় নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে চলেছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অমূল্য এই অর্জনের পর আমি মনে করি, তাঁর ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী দুর্নীতিবাজ-লুটেরা ও চাটুকারদের সৃষ্ট বৈষম্যের অবসান ঘটানো জরুরি কাজ। রাজনীতি ও অর্থনীতিকে সুশাসনের পথে এগিয়ে নিয়ে সুন্দর দেশ গড়তে শেখ হাসিনার বিকল্প নেতৃত্ব নেই।
এখন আসা যাক, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কথায়। অবিরাম যা নিয়ে আমরা উচ্চবাচ্য করি। তারেক রহমান দেশের বাইরে থেকে আন্দোলন সফল করবেন এমনটাই বিএনপির সিনিয়র নেতারা আশা করছেন। তারা মনে করেন, তারেক রহমান এই মুহূর্তে দেশে নিরাপদ নন। তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট সারেন্ডার ও বৃটিশ সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা নিয়ে যখন রাজনীতি উত্তপ্ত ঠিক তখনই সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খোন্দকার মোশারফ হোসেন চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেছেন, ‘পারলে তারেক রহমানকে ফেরৎ আনেন!’

এ মুহূর্তে প্রশ্ন উঠছে, উস্কানী দেওয়ার উদ্দেশ্য কী? কার স্বার্থে এমন উস্কানী? কিছুদিন যাবৎ খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। একদিকে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা, অন্যদিকে তারেক রহমানের পাসপোর্ট ইস্যু নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের বক্তৃতাববৃতিতেও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এসেছে। আসলে বিএনপির প্রকৃত অবস্থা কী তা জনগণের কাছে পরিষ্কার নয়। খালেদাকে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছে বিএনপি। আর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘প্রয়োজন অনুযায়ী খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

সরকার অমানবিক নয়। চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিলে তাকে বিদেশেও পাঠানো হবে।’ সুতরাং মন শক্ত রাখতে হবে। রাজনীতির ময়দানে কিছু বাক্য অপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে অচিরেই। নানা রকমের কূটনেতিক খেলা হচ্ছে। সেসব খেলা দেখে অবাক হওয়া যাবে না। সুচিকিৎসা প্রাপ্তির জন্য খালেদা জিয়াকে যদি সৌদি আরব গমন করতেই হয় এবং তারেক রহমানকে ডা-াবেড়ি পরিয়ে যদি বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতেই হয়Ñ তাহলেই বা উপায় কী! এর জবাব কী কারো কাছে আছে?

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট ও ঔপন্যাসিক/সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত