প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পছন্দের বাহন চাঁদেরগাড়ি

ডেস্ক রিপোর্ট: কখনো উঁচু, কখনো নিচু, আবার কখনো বা আঁকাবাঁকা পথ। এ দৃশ্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবারিত সবুজের সমারোহে ঘেরা দেশের পাহাড়ি কন্যা বান্দরবানের। যেখানে রয়েছে নীলগিরি, স্বর্ণমন্দির, মেঘলা, শৈল প্রপাত, নীলাচলসহ অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্র। একটু স্বস্তির নি:শ্বাস নিতে কিংবা মেঘ ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে জাগলে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ ছুটে যায় এসব স্থানে। আর এসব দর্শর্নীয় স্থানগুলো ভ্রমণকে আনন্দময় করতে দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে দু:সাহসিকভাবে চলছে চাঁদের গাড়ি। যা পর্যটকদের কাছে পছন্দের তালিকায় রয়েছে প্রথম হিসেবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ৯২ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে পাহাড়ি শহর বান্দরবান। এর আয়তন ৪ হাজার ৪৭৯ বর্গ কেিলামটিার। এই আয়তনের মধ্যে রয়েছে নীলগিরি, স্বর্ণমন্দির, মেঘেলা, শৈল প্রপাত, নীলাচল, মিলনছড়ি, চিম্বুক, সাঙ্গু নদী, তাজিনডং, কেওক্রাডং, জাদিপাই ঝরণা, বগালেক, প্রান্তিক লেক, ঋজুক জলপ্রপাত, নাফাখুম জলপ্রপাতসহ অনেক দর্শনীয় স্থান। এসব স্থানে যাতায়াতের জন্য সিএনজি, ল্যান্ড ক্রুজার, ফাইভ ডো, বোলারো মাহেন্দ্র চলাচল করে। এছাড়া পুবালী ও সুগন্ধা নামে দুটি পরিবহনও রয়েছে। তবে এগুলো ছাপিয়ে সবারই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন চাঁদের গাড়ি। কারণ তুলনামূলক আকারে বড় এবং চারপাশ খোলামেলা হওয়ায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেশি উপভোগ করা যায়।

বান্দরবানের মাইক্রো-জীপ ও পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্যানুযায়ী, এ জেলায় মোট ২৬০টি চাঁদের গাড়ি রয়েছে। প্রতিটি গাড়িতে ১৩ জন যাত্রী চলাচর করতে পারে। দিন হিসেবে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ৬ হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে পরিবহন অ্যাসোসিয়েশন। এছাড়াও স্থান ভেদেও ভাড়া নেয়া যায়। এক্ষেত্রে বান্দরবান থেকে স্বর্ণ মন্দির ৮০০ টাকা, নীলাচল ৮০০ টাকা, নীলগিরি ৪ হাজার ৩০০ টাকা, চিম্বুক শৈলপ্রপাত ৩ হাজার টাকা, থানচি ৬ হাজার টাকা।
বান্দরবানে ঘুরতে আসা জাহিদ হাসানসহ বেশ কয়েকজন বলেন, অন্যান্য বাহনের চেয়ে চাঁদের গাড়িতে ঘুড়তে বেশ ভালো লাগে। কারণ গাড়িটি খোলামেলা হওয়ায় চারপাশের পাহাড়ি দৃশ্য খুব ভালভাবে উপভোগ করা যায়। তারা বলেন, এখানে আসার পর ঘোরাঘুরি জন্য বান্দরবানের সিভিল সার্জন অফিস থেকে মাইক্রো দেয়া হয়েছিল কিন্তু তা রেখে আমরা চাঁদের গাড়িতে ঘোরাঘুরি করছি। খুবই ভাল লাগছে।

বান্দরবানে ১৬ বছর ধরে চাঁদের গাড়ি চালান নিজাম উদ্দিন। তিনি মাইক্রো-জীপ ও পিকআপ শ্রমিক ইউনিয়নের একজন সদস্যও। নিজাম উদ্দিন জানান, মূলত খোলামেলা ও গাড়িতে বসে আকাশ দেখা যায় বিধায় এর নাম হয়েছে চাঁদের গাড়ি। সবাই এটাকে বলে চাঁন্দের গাড়ি। প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে এ গাড়ির চলাচল শুরু হয়েছে। এর আগে সেনাবাহিনীদের ব্যবহৃত পুরনো জিপ অকশনে কিনে সেগুলো রাস্তায় চলাচলের জন্য ব্যবহার করা হতো। এতে ৪ জনের বেশি বসা যায় না। অথচ একটি চাঁদের গাড়িতে ১৩জন মানুষ বসতে পারে। আবার পাহাড়ি অঞ্চলে সিএসজিতে চলাচল করা অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ। পাহাড়ি উঁচু স্থানে উঠতে গেলে অনেক সময় বন্ধ হয়ে যায়। সবকিছু মিলিয়ে পর্যটকরা চাঁদের গাড়িতে ঘুরতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। তিনি জানান, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সিরিয়াল ও ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। ফলে পর্যটকদের কোন বিড়ম্বনায় পড়তে হয় না। পাশাপাশি কোনো প্রতিযোগিতাও নেই। সূত্র: ভোরের ডাক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত