প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পটুয়াখালীর উপকূলজুড়ে তরমুজের হাট

ডেস্ক রিপোর্ট : পটুয়াখালীর উপকূলজুড়ে এখন তরমুজের হাট বসেছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ এলাকায় তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে শুধুই তরমুজ আর তরমুজ। এসব তরমুজ বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা। এ কারণে তরমুজ নিয়ে চাষিদের ছোটাছুটি এবং ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র সরবরাহের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে তরমুজের হাটও বসিয়েছেন চাষিরা।

এ বছর পটুয়াখালী জেলায় ৮টি উপজেলার মধ্যে একমাত্র দুমকি উপজেলা ছাড়া বাকি ৭টি উপজেলায় ১৩ হাজার ৭১৮ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তরমুজ আবাদ হয়েছে জেলার সর্বদক্ষিণে রাঙ্গাবালী উপজেলায়। এ উপজেলায় ৮ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়। এ ছাড়া জেলার গলাচিপায় ৪ হাজার হেক্টর, কলাপাড়ায় ৫১৫ হেক্টর, দশমিনায় ৪শ’ হেক্টর, বাউফলে ২৭৫ হেক্টর, পটুয়াখালী সদরে ১৮ হেক্টর ও মির্জাগঞ্জে ৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়। একটানা ৩ থেকে ৪ মাস কৃষকের হাড়ভাঙ্গা পরিচর্যার পর চৈত্রের মাঝামাঝি বাজারে ওঠে মধুময় ফল ‘তরমুজ’। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর প্রতি হেক্টরে ৩৫ টন হারে ফলন হয়েছে। এর ফলে পটুয়াখালীসহ দক্ষিণ উপকূলের কৃষকের মধ্যে তরমুজ চাষে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ অঞ্চলের তরমুজের গুণগতমান ভালো হওয়ায় দেশজুড়ে সুনাম ও চাহিদা কুড়িয়েছেন এ অঞ্চলের চাষিরা। ফলে এখানকার তরমুজের চাহিদাও দিন দিন বেড়ে চলছে। তাই তরমুজ এখন এ অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসলের স্থান দখল করে নিয়েছে এবং চাষিরা তরমুজ নিয়েই স্বপ্ন পূরণের আশায় বুকে বাঁধছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, জেলার রাঙ্গাবালী, গলাচিপা ও কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাটের সর্বত্রই তরমুজের ছড়াছড়ি। কেউ ট্রলি থেকে তরমুজ নামিয়ে ঘাটে স্তূপ করছেন। কেউবা ঘাট থেকে লঞ্চ কিংবা কার্গোতে তুলছেন তরমুজ। আবার কেউ বাজারজাত করতে নৌযানে ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, চাঁদপুর, বরিশালসহ দেশে বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাচ্ছেন। কেউবা এলাকায় বিক্রির জন্য জনবহুল বাজারগুলোতে তরমুজের হাট বসিয়েছেন।

দক্ষিণ কাজির হাওলা গ্রামের তরমুজ চাষি জসিম আলী বলেন, ‘তরমুজ বাজারজাতকরণের জন্য সড়ক ও নৌপথে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া কেউ কেউ এলাকার বড় বাজারগুলোতে তরমুজের হাট বসিয়েছেন।’

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ হৃদয়েশ্বর দত্ত জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর তরমুজের ফলন ভালো হয়েছে এবং দাম ভালো পাওয়ায় চাষিরাও খুশি। এ বছর তরমুজ চাষে কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত