প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘কেউ ফোন করলেই ভাবে আমাকে কোনো মেয়ে ফোন দিয়েছে’

ডেস্ক রিপোর্ট : মডেল আসিফের সঙ্গে বিয়ের পরপরই একদিন কথা হলো। একটি মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করবেন কি না জানতে চাইলে বলেছিলেন- ‘জ্বি ভাইয়া, শিওর!’

এরপর শুটিং প্ল্যান করার জন্য তার সঙ্গে বসার কথা ছিল। যেদিন বসার কথা, সেদিন সকাল থেকে আর ফোন ধরেন না আসিফ। দুদিন পর ফোন দিয়ে বললেন- ‘ভাইয়া সরি আসতে পারিনি। আমার বউ আসলে চায় না আমি আর মিডিয়াতে কাজ করি। আর কেউ ফোন করলেই ভাবে আমাকে কোনো মেয়ে ফোন দিয়েছে। সে কারণে আপনার ফোনও ধরিনি!’

২০১৫ এর শেষের দিকের কথা এটা। তার কদিন আগে আগস্টের ৭ তারিখ বিয়ে করেছেন আসিফ কানাডা প্রবাসী স্ত্রী অর্নিকে।

গত ২২ এপ্রিল রাতে তার সেই স্ত্রীর করা নির্যাতন-মামলাতেই গ্রেপ্তার হন মডেল ও ‘ঘাসফুল’ ছবির অভিনেতা কাজী আসিফ রহমান। তবে গ্রেপ্তারের চারদিনের মাথায় জামিন পেয়েছেন।

বুধবার ঢাকার দুই নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সফিউল আজম স্ত্রীর সঙ্গে আপসের শর্তে আগামী ৬ মে পর্যন্ত আসিফের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন।

ওই সময়ের মধ্যে তাকে তার স্ত্রী শামীমা আক্তার অর্নির সঙ্গে আপস করতে বলা হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আলী আকবর জানিয়েছেন।

মালেয়শিয়ায় নাটকের শুটিং করতে গিয়েছিলেন আসিফ। সঙ্গে ছিলেন নাবিলা, মিশু সাব্বির, মোশাররফ করিমসহ অন্যরা। শুটিং থেকে ফেরার পর গত ২২ এপ্রিল রাতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আসিফকে গ্রেপ্তার করে হাজারীবাগ থানা পুলিশ।

এর আগে ৬ মার্চ একই ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন শামীমা।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট কানাডা প্রবাসী শামীমা আক্তার অর্নির সঙ্গে কাজী আসিফের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বাদীর পরিবার ৭/৮ লাখ টাকার আসবাবপত্র দেয়। পরে বাদী আসামিকে গাড়ি কেনার জন্য ১৮ লাখ টাকা দেন। আসামি গাড়ি না কিনে ওই টাকা দিয়ে কী করেছে তা জানতে চাইলে ২ এপ্রিল আসামি আরও ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি ও স্ত্রীকে মারধর করেন।

গ্রেপ্তারের পরদিন আসিফকে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। অপরদিকে আসিফের জামিনের আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী। ওইদিন বিচারক ২৫ এপ্রিল জামিন শুনানির দিন রেখে আসিফকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মামলা দায়েরের পর ঢাকা মহানগর হাকিম কাজী কামরুল ইসলাম বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে গত ২৭ মার্চ ট্রাইব্যুনালে কাজী আসিফের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন। গত ২ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ওই পরোয়ানা পেয়েই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

আসিফ ও অর্নি দম্পতির ৮ মাস বয়সি মেয়ে রয়েছে। অর্নি কানাডায় নার্স হিসেবে কাজ করেন। মেয়ের কথা চিন্তা করে তিনি এখনো আসিফের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। তবে এও বলেছেন- যদি আসিফ ঠিক না হয়, তাহলে একটি মৃত সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা না করে ছিন্ন করাই ভালো। সূত্র : নিউজজি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত