প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যেভাবে অভিযোগ আমলে নেয় দুদক

ডেস্ক রিপোর্ট : হটলাইন, ডাকযোগে, ই-মেইলে এবং দুদকের বিভিন্ন কার্যালয়ে থাকা বাক্সে অভিযোগ করেন সাধারণ মানুষ। এসব উৎস থেকে পাওয়া প্রতিটি অভিযোগেরই প্রাপ্তি স্বীকার করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু নিজেদের তফসিলভুক্ত না হলে কোনও অভিযোগ নথিভুক্ত করে না তারা।

তবে গুরুতর, মানবিক ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোনও বিষয় হলে সেসব অভিযোগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দফতর কিংবা সংস্থার কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তফসিলবহির্ভূত এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, তার ফলাফল দুদককে অবহিত করতেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এ ছাড়া, অভিযোগ আমলে নিতে চালু করা হয়েছে গ্রেডিং পদ্ধতি। ২০১৬ সালের চেয়ে ২০১৭ সালে অভিযোগের পরিমাণ ৩৮ ভাগ বেড়েছে বলেও দাবি দুদক কর্মকর্তাদের। বিষয়টিকে দুদকের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি হিসেবে দেখছেন তারা।

দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা-২০০৭ অনুযায়ী কমিশনে দুর্নীতি সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এ বিধি অনুসরণ করে কমিশনে অভিযোগ গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য ‘অভিযোগ যাচাই-বাছাই সেল’ রয়েছে।

কমিশনে সাধারণত ডাকযোগে, ই-মেইলে, হটলাইনে এবং জেলা ও বিভাগীয় অফিসগুলোতে থাকা অভিযোগ বাক্সে অভিযোগগুলো আসে। নাম-ঠিকানা থাকলে প্রত্যেকটি অভিযোগের প্রাপ্তি স্বীকার করা হয়। পরে তারিখ ও ক্রমিক নম্বর দিয়ে অভিযোগগুলো দুদকের প্রধান কার্যালয়ের যাচাই-বাছাই সেলে পাঠানো হয়। এই সেল বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার ও উৎস থেকে কমিশনে আসা অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে থাকে। গত বছর (২০১৭ সালে) কমিশন অভিযোগ যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গ্রেডিং পদ্ধতিও চালু করে। যাতে অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে কমিশনের কোনও কর্মকর্তা বা কর্মচারী প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ না পায়।

এ বছরের হিসাব দিতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে ২০১৭ সালে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৭ হাজার ৯৫৩টি অভিযোগ আসে। আর হটলাইন ‘১০৬’ চালুর পর থেকে এ নম্বরে কল আসে সাড়ে ৫ লাখ। ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই হটলাইন উদ্বোধন করা হয়। হটলাইনে আসা কলের মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ কল দুদকের তফসিল সংশ্লিষ্ট ছিল। অন্য কলগুলো নানা বিষয় নিয়ে এসেছিল। সড়ক দুর্ঘটনা, রাস্তায় মারামারি এবং স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া নিয়েও দুদকের হটলাইনে কল এসেছিল। ই-মেইলে, ডাকযোগে ও দুদক কার্যালয়গুলোতে থাকা অভিযোগ বাক্সে আসা অভিযোগগুলোর মধ্যেও দুদকের তফসিলবহির্ভূত অভিযোগ আসে প্রচুর।

হটলাইনে আসা বেশ কিছু অভিযোগ এরই মধ্যে দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে।
দুদক সূত্র জানায়, গত বছর দুদক সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নিজেদের তফসিলভুক্ত ১৫ হাজার ৬৮১টি অভিযোগ পেয়েছিল। সরকারি দফতর ও সংস্থা থেকে ১০২টি, বেসরকারি দফতর ও সংস্থা থেকে ১৯৩টি, পত্রিকা ও টেলিভিশনের প্রতিবেদন থেকে ২৩৮টি এবং দুদকের বিভাগীয় কার্যালয়গুলো থেকে ১ হাজার ৭৩৯টিসহ মোট ১৭ হাজার ৯৫৩টি অভিযোগ পায়। এরমধ্যে নথিভুক্ত করা হয় ১৬ হাজার ৬৩৯টি।

আর অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয় ৯৩৭টি অভিযোগ। আর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও দফতরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয় ৩৭৭টি অভিযোগ।
২০১৬ সালে পাওয়া অভিযোগের চেয়ে ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৯৬৩টি অভিযোগ বেশি পায় দুদক। অভিযোগ বেড়ে যাওয়াকে দুদকের প্রতি জনগণের আস্থা বেড়েছে বলে মনে করে সরকারি এ সংস্থাটি।

যাচাই-বাছাই কমিটি সেল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি অভিযোগ যাচাই-বাছাই করার ক্ষেত্রে গত বছরের ২২ অক্টোবর থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন গ্রেডিং পদ্ধতি চালু করেছে দুদক। প্রথমে তারিখসহ ক্রমিক নম্বর দেওয়া হয়। এরপর যাচাই-বাছাই কমিটি প্রতিটি অভিযোগের গ্রেডিং নম্বর দিয়ে থাকে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ও পদবির সুনির্দিষ্টতা, ঘটনাস্থল ও সময়ের সুনির্দিষ্টতা, দালিলিক প্রমাণের সংযুক্তকরণ, অভিযোগের আর্থিক (টাকার) সংশ্লেষ, জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে গ্রেডিং নম্বর দেওয়া হয়।

যে অভিযোগ ৫৫ নম্বরের নিচে পাবে সেটি আমলে নেওয়া হয় না। ৫৬ থেকে ৭৪ নম্বর পেলে সেই অভিযোগ জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট দফতর ও সংস্থার কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পাঠানো হয়। আর ৭৫ এবং এর থেকে বেশি নম্বরের অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে অনুসন্ধান ও পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

এ বিষয়ে দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘হটলনাইসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দুদকে অভিযোগের পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। আর অভিযোগ বেড়ে যাওয়ার অর্থই হচ্ছে দুদকের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে। দুদকের কোনও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে সেই বিষয়েও দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।’ সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত